মোটর বাইক কিনতে কিছু পরামর্শ

Print

যারা এই মুহুর্তে মোটর বাইক কিনতে আগ্রহী,কিন্তু কেনার আগে কম বেশি দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগছেন যে আমি কোন বাইকটি কিনব, কোনটি আমার জন্য ভাল হবে , তাদের প্রয়োজনীয়তার কথা বিবেচনা করে কিছু উপযোগী টিপস দেওয়া হলো যা মোটর বাইক কিনতে সহায়ক হবে।

১.বাজেট নির্ধারনঃ
একটি বাইক কেনার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথমে আপনাকে আপনার বাজেট ঠিক করতে হবে । কারণ বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বাজেট অনেক বড় একটা ব্যপার । আপনার বাজেটই বলে দেবে আপনার বাইক কেমন টাইপের বা কোন ব্রান্ডের হতে পারে ।আর বাজেট ছাড়া কিছু টাকা অতিরিক্ত রাখবেন কেননা গাড়ি সাথে আপনাকে আরও আনুষঙ্গিক জিনিস কিনতে হতে পারে।

২.আপনার পছন্দ ও টাকার বিবেচনা করে বাইকের একটি তালিকা তৈরি করুন:
আপনার বাজেটের সাথে মিলিয়ে বাংলাদেশে পাওয়া যাবে এমন বাইকের সংক্ষিপ্ত তালিকা করুন । যদি এ তালিকা লম্বা হয় তাহলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী ছোট করুন ।একটি বাইকের সুন্দর লুক দেখেই পছন্দ করবেন না , লুক এর পাশাপাশি অন্যান্য বিষয়গুলোও বিবেচনায় আনতে হবে।

৩.আপনার বাইক ওয়ালা বন্ধুর পরামর্শ নিন:
আপনার আশে পাশে খেয়াল করুন, আপনার বন্ধু, আত্মীয়,প্রতিবেশী যার একটি বাইক আছে তার কাছে যান । একজন বাইকের মালিক সবসময় আপনাকে বাইক সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতাই জানাবে । আপনার কাঙ্ক্ষিত বাইক সম্পর্কে তাদের কাছ থেকে জিজ্ঞেস করুন । যদি কেউ এমন কোন বাইকের মালিক হয় যেটা আপনার সংক্ষিপ্ত তালিকায় ছিল তাহলে তার কাছে যান এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, খুচরা যন্ত্রাংশের দাম, সার্ভিস এসব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করুন।
৪.মাইলেজের ব্যাপার মাথায় রাখুনঃ
এই প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করবে বাইকের ব্যবহার এবং ব্যবহারকারীর বয়সের উপর । আপনি যদি সৌখিন চালক হন তাহলে মাইলেজের ব্যাপারে ভাববেন না । যদি আপনি মধ্যবয়সী হন এবং আপনার উদ্দেশ্য যদি হয় অফিস থেকে আসা-যাওয়া বা শহরের বাইরে যাওয়া তাহলে মাইলেজ একটি বড় বিষয় । সাধারণত ৫০-১৩৫ সিসির বাইকগুলো তাদের মাইলেজ এবং দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাবহারের জন্য জনপ্রিয় । অফিস-গামী লোকজন এ ধরনের বাইক ব্যাবহার করে থাকেন।
৫.সর্বাধিক বিক্রিত মোটরসাইকেলটি পছন্দ করুনঃ
যে বাইকটি চালক চালিয়ে শান্তি পান বা সার্ভিস ভাল দেয় ক্রেতাগন সাধারণত সেটি কিনতে পছন্দ করেন তাই এই প্যারার মূল বিষয় হল সর্বাধিক বিক্রিত বাইকটি নেয়া । কারণ অধিকাংশ ব্যবহারকারী যারা তাদের বাইক নিয়ে সন্তুষ্ট তারা কখনো বোকা হতে পারেন না ।

৬.সার্ভিস সেন্টারের অবস্থান:
এমন বাইক পছন্দ করুন যেটার সার্ভিস সেন্টার আপনার বাড়ির কাছে । একটি বাইক এখন ভাল, কিন্তু কখন এটা সমস্যা করবে তা আপনি বলতে পারেন না ।ধরা যাক আপনি থাকেন সাতক্ষীরা কিন্তু আপনার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল কোম্পানির সার্ভিস ষ্টেশন ফরিদপুর যেটা প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে । এটাকেই বলে প্রকৃত ঝামেলাকর অবস্থা ।

৭.খুচরা যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতাঃ
যে সকল বাইকের খুচরা যন্ত্রাংশ বাংলাদেশে ভাল পাওয়া যায় সেটা কিনুন কেননা বাইকটি যে কো্ন সময় বিকল হতে পারে ফলে যদি যন্ত্রাংশ না পান তবে বাইকটি আর কোণ কাজেই আসবেনা।

৮.শরীরের সাথে বাইকের ম্যাচিং:
ধরুন আপনি ৫.৮ ফুট লম্বা এবং চালাচ্ছেন একটি ছোট বাইক যেমন হোন্ডা ৫০সিসি । যেটা দেখতে হাতির ইঁদুরের উপর চড়ার মত । তাই যে বাইকটি আপনার উচ্চতার সাথে মানানসই,যেটা আপনাকে ভ্রমণের সময় সুন্দর লুক দেবে সুতারং সেটি পছন্দ করুন ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 351 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ