যা থাকছে নতুন আইফোনে

Print

সব কিছু ঠিক থাকলে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা। এরপরই সব জল্পনা-কল্পনার অবসান। জানা গেছে, ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপল পার্কে নতুন স্টিভ জবস থিয়েটার অডিটোরিয়ামে অ্যাপলের নতুন আইফোনের উদ্বোধন করবেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী টিম কুক। উদ্বোধনের পর ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে প্রি-অর্ডার শুরু করবে অ্যাপল। এর এক সপ্তাহ পর ২২ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন আইফোন সরবরাহ করা শুরু করবে প্রতিষ্ঠানটি। আইফোনের নতুন সংস্করণ মানেই নতুন উন্মাদনা। তার ওপর দশ বছর পূর্তি হচ্ছে আইফোনের। এই দশকপূর্তির আইফোন আর আয়োজনের নানা বিষয় তুলে ধরা হলো।
দশ বছর আগে ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে অ্যাপলের সহ-উদ্ভাবক ও তৎকালীন চেয়ারম্যান এবং সিইও স্টিভ জবস ঘোষণা দেন প্রথম আইফোনের। সেই বছর জুনেই বাজারে আসে ফোনটি। যা মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রিতে আনে এক বিপ্লব। এই দশম বছরে প্রযুক্তি পাল্টেছে অনেক, কিছু জৌলুসও হারিয়েছে আইফোন। তাই পুরনো গৌরব ফিরে পাওয়া আর দশকপূর্তি উদযাপন করতেই এবার বিশেষ আয়োজন অ্যাপলের!

সাজানো হয়েছে স্টিভ জবস থিয়েটার
অ্যাপলের নতুন পণ্য মানেই উন্মাদনা। জনগণের উৎসাহের শেষ থাকে না। কিন্তু যে তথ্যটা অনেকেই এখনো জানেন না তা হলো অ্যাপলের নতুন করপোরেট হেডকোয়ার্টার ‘অ্যাপল পার্ক’ যা হতে যাচ্ছে পৃথিবীর সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন এবং পরিবেশবান্ধব স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি। আর এর মাঝেই তৈরি করা হয়েছে অ্যাপলের নিজস্ব সম্মেলনকেন্দ্র ‘স্টিভ জবস থিয়েটার।’ প্রয়াত স্টিভ জবসের সম্মানে এটির নামকরণ করা হয়েছে। আর এই সম্মেলনকেন্দ্রটির উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজকের অনুষ্ঠানটির মাধ্যমে। প্রযুক্তিবিষয়ক বিভিন্ন ওয়েবসাইটের দাবি এখানে যে চামড়ার বিশেষ আসন বসানো হয়েছে, এর প্রতিটিতে ১৪ হাজার মার্কিন ডলার খরচ হয়েছে।
আসছে তিনটি নতুন আইফোন!
ধারণা করা হচ্ছে অ্যাপল তাদের সংস্কৃতি ভেঙে এবারই প্রথম একসঙ্গে তিনটি আইফোনের মডেল উন্মোচন করবে। এর একটি হলো দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে তৈরি বিশেষ মডেল। এই বিশেষ মডেলটির নাম কী হবে, আর কী থাকবে এর ভেতরে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই। এ ছাড়া বাকি দুটি মডেল হবে গতবারের আইফোন ৭ এবং ৭ প্লাসের পরের ভার্সন।
যা থাকছে আইফোনের নতুন সংস্করণে
অ্যাপল ভক্তদের কাছে এখন সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন নতুন কি কি থাকছে আইফোনে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তি করে তুলে ধরা হল নতুন আইফোনে সম্ভাব্য প্রযুক্তি বা বিশেষ ফিচার।
এজ টু এজ ডিসপ্লে: সময় এখন ব্যাজেলহীন ডিসপ্লের। টিভি, মনিটর, মোবাইল ফোনের মতো পণ্যগুলো ব্যাজেলহীন পণ্য তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। বেশ কিছু প্রমাণের ভিত্তিতে এ কথা খুব শক্ত করেই বলা যায় যে, এবারের আইফোনটিতেও রয়েছে এজ টু এজ ডিসপ্লে। সম্পূর্ণ বর্ডারলেস এই স্ক্রিনে রয়েছে ওলেড টেকনোলজি যা এর ডিসপ্লেটিকে আরও জীবন্ত এবং আরও সুন্দর।
হোম বাটনের অনুপস্থিতি: আইফোনের জন্মলগ্ন থেকেই প্রত্যেকটি ফোনেই ছিল এই হোম বাটন। ৫ এস মডেলটি থেকে এর সঙ্গে যুক্ত হয় ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর। তাই দিনে দিনে এটি আইফোনের একটি অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়। খুব শক্তভাবেই ধারণা করা হচ্ছে যে, এবারের আইফোনটিতে থাকছে না কোনো হোম বাটন। শুধু তাই নয়, মুছে যাচ্ছে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরও।
ফেসিয়াল রিকগনিশন: আইফোনের খ্যাতির একটি বিশেষ কারণ হলো এর তথ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হোম বাটন আর ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের অনুপস্থিতিতে এবার সামনে আসছে ফেসিয়াল রিকগনিশন সুবিধা। অর্থাৎ এটির মাধ্যমে ব্যবহারকারী তার চেহারা ব্যবহার করে ফোনটির লক খোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পণ্যের মূল্য পরিশোধসহ আরও বিভিন্ন কাজ করতে পারবেন। জানা যাচ্ছে, এটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর থেকেও অধিক নিরাপদ হবে। এই সুবিধাটি এর আগে কিছু ফোনে এলেও তা পুরোপুরি নিরাপদ নয়। এ জাতীয় নিরাপত্তা ত্রুটি রোধে অ্যাপল কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে সেটাই এখন দেখার বিষয়।
আইওএস ১১: অ্যাপলের নতুন অপারেটিং সিস্টেম আইওএস ১১ ঘোষণা দেওয়া হয় চলতি বছরের প্রথমদিকে। নতুন আইফোনের মাধ্যমেই এটি ভোক্তাদের জন্য বাজারে আসার কথা রয়েছে। এর সব সুবিধাসহ নতুন আইফোনে থাকতে পারে এমন কিছু সফটওয়্যার সুবিধা যা অন্য কোনো আইফোন মডেলে পাওয়া যাবে না।
ওয়্যারলেস চার্জিং: ওয়্যারলেস চার্জিং এমন একটি সুবধা যেখানে একটি ফোনকে কোনো তারের সঙ্গে কানেক্ট না করেও শুধু একটি ডিভাইসের ওপর রেখেই চার্জ দেওয়া যায়। এই প্রযুক্তিটি অন্যদের মোবাইল ফোনে এলেও আইফোন ব্যবহারকারীরা এখনো এটির স্বাদ পাননি। সব ঠিক থাকলে এবারের ফোনটির মাধ্যমেই ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের সুবিধা পেতে চলছেন আইফোন ব্যবহারকারীরা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 149 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি