যেভাবে কার্যকর হল জামায়েতের আমির নিজামীর ফাঁসি

Print

যেভাবে কার্যকর হল জামায়েতের আমির নিজামীর ফাঁসি

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত আলবদর প্রধান ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।

মঙ্গলবার রাত ১২টা ১ মিনিটে জল্লাদ তানভীর হাসান রাজুর নেতৃত্বে ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

কারা সূত্র জানায়, কারা মসজিদের ইমাম মনির হোসেন নিজামীকে তওবা পড়িয়ে কনডেম সেল থেকে বের হতেই জল্লাদরা কনডেম সেলে ঢুকেন। জামায়াতের আমির যুদ্ধাপরাধী নিজামীকে জম টুপি পরিয়ে বের করেন। তারা নিজামীকে ফাঁসির মঞ্চে নিয়ে দাঁড় করান। ততক্ষণে ফাঁসির মঞ্চে হাতলের কাছে প্রস্তুত প্রধান জল্লাদ রাজু। ফাঁসির মঞ্চে তোলার পরই জম টুপির ওপর ফাঁসির ম্যানিলা রশি টেনে নিজামীর গলায় পরিয়ে দেন অপর এক জল্লাদ। হাত-পা বেঁধে দেওয়া হয় তার। রাজু তা ভালো করে যাচাই করে রশির হাতলে হাত রাখেন। তার চোখ তখন জেল সুপারের হাতে থাকা রুমালের দিকে।

রাত ১২ টা ১ মিনিটে জেল সুপার হাত থেকে রুমাল মাটিতে ফেলতেই জল্লাদ রাজু ফাঁসির রশির হাতলে টান দেন। পায়ের নিচের পাটাতন সরে গিয়ে রশিতে ঝুলতে থাকে যুদ্ধাপরাধী নিজামী। নির্ধারিত সময় পর নামিয়ে আনা হয় তার মরদেহ। এরপর মরদেহে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করেন  সিভিল সার্জন।

সাধারণত একজন জল্লাদের নেতৃত্বে পাঁচ থেকে সাত জল্লাদ ফাঁসির রায় কার্যকর করে। তবে প্রস্তুত রাখা হয় ১০ থেকে ১২জনকে।

জানা গেছে নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকরের আগে রাজুর নেতৃত্বে জল্লাদ সাত্তার, হযরত, আবুল, রনি, মাসুদ, ইকবাল, মোক্তার, ওমর আলী শেখ ও ওহাব মহড়া দেন। শেষ সময়ে তাদের মধ্য থেকে ৬ জন সহায়তা করেন রাজুকে।

নিশ্চিদ্র নিরাপত্তায় র‌্যাব-পুলিশি পাহারায় তার লাশ কারাগার থেকে বের করে সরকারি এ্যাম্বুলেন্স যোগে গ্রামের বাড়ি পাবনা জেলার সাঁথিয়ার মনমথপুর গ্রামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া আসামিদের মধ্যে পঞ্চম যুদ্ধাপরাধী হিসেবে মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হলো।

মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তোড়জোড়ের মধ্যে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে নিজামীর সঙ্গে দেখা করে এসেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে তিনটি গাড়িতে নিজামীর পরিবারের সদস্যরা কারা ফটকে পৌঁছান। প্রায় দেড় ঘণ্টা কারাগারের ভেতরে অবস্থান করার পর ৯টা ২৫ মিনিটের দিকে কারাগার থেকে বেরিয়ে চলে যান তারা।

কারাগার থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় নিজামীর ভাতিজি সাংবাদিকদের বলেন, তার চাচা বলেছেন, আমি শক্ত আছি, তোমরাও শক্ত থাকো।

নিজামীর রিভিউ আবেদন খারিজের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর তার সামনে খোলা ছিল কেবল রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ। তবে ওই সুযোগ নিজামী নেননি। সোমবারই নিজামীর আইনজীবী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চাইবেন না নিজামী। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের চূড়ান্ত প্রস্তুতির মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে জানান, প্রাণ ভিক্ষা চাননি নিজামী।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 211 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ