যৌন হয়রানি: আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই শিক্ষকের স্বীকারোক্তি

Print

রাজধানীর আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর আদালতে যৌন হয়রানির কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

যৌন হয়রানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম কাজী কামরুল ইসলাম শনিবার তার জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এদিন দুই দিনের রিমান্ড শেষে ফেরদৌসকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণ করার আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা কলাবাগান থানার উপ-পরিদর্শক শামীম আহমেদ।

গত বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেলোয়ার হোসেন দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল সায়েম মঙ্গলবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। এরপর গভীর রাতে কলাবাগানের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

ফেরদৌস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর এবং তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের (ইইই) শিক্ষক।

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল বুধবার জানান, ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল সায়েম মঙ্গলবার রাতে কলাবাগান থানায় মামলা করেন। এরপর গভীর রাতে কলাবাগানের বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে গত ৩০ এপ্রিল থেকে আন্দোলন শুরু করে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের মুখে ফেরদৌসকে তাৎক্ষণিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ থেকে জানা যায়, পড়া বোঝানোর নামে শিক্ষার্থীদের নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করতেন ফেরদৌস। তার ডাকে সাড়া না দিলে শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দিতেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফ্ল্যাটে ডেকে কৌশলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে ফেরদৌস তার অফিসিয়াল নম্বরে আজেবাজে মেসেজ পাঠিয়ে রাখতেন, যা দিয়ে পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলতেন। এভাবে কৌশলে তিনি শিক্ষার্থীদের বাধ্য করতেন নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতে।’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বহুবার লিখিত অভিযোগ করা হলেও সমাধান আসেনি। এরপর ৩০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করে আন্দোলন শুরু হলে অভিযুক্ত এ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 36 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ