রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় শাহজাদপুরেই, এ বছর ভর্তি

Print
কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবশেষে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে। চলতি বছর থেকে প্রস্তাবিত সরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয় বিলের খসড়া যাচাই-বাছাই করে জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছে। পরবর্তী অধিবেশনে বিলটি পাস হলে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে শিক্ষাসচিব সোহরাব হোসাইন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আশা করা যাচ্ছে, আসন্ন শিক্ষাবর্ষ (২০১৬-১৭) থেকেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।’
বর্তমানে দেশে ৩৮টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়টি হবে দেশের ৩৯তম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়।
কয়েক বছর ধরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নামে দেশে একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হবে বলে আলোচনা চলছে। গত বছর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৪তম জন্মবার্ষিকীতে শাহজাদপুরে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ’-এর নামফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগে মূল ক্যাম্পাস শাহজাদপুরে রেখে কবির স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ ও নওগাঁর পতিসরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস থাকার কথা আলোচনা হলেও সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুধু শাহজাদপুরে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম। এ নিয়ে কুষ্টিয়াবাসীর ক্ষোভ থামাতে ইতিমধ্যে রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয় নামে সেখানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ফেরদৌস জামান বলেন, শাহজাদপুরে প্রাথমিকভাবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়ি ও স্থানীয় একটি সরকারি কলেজের চারতলা ভবনকে ব্যবহার করার প্রস্তুতি রয়েছে। স্থানীয় সাংসদ এ বিষয়ে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
প্রস্তাবিত আইনে বিশ্ববিদ্যালয়টি করার কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রসরমাণ বিশ্বের সঙ্গে সংগতি রক্ষা, জাতীয় পর্যায়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা এবং বাংলাদেশের জাতীয় সংগীতের স্রষ্টা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অমর সৃষ্টিকে এ দেশের মানুষের স্মৃতিতে চির অম্লান রাখতে তাঁর স্মৃতিবিজড়িত সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে বিশ্ববিদ্যালয়টি করা হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার মাধ্যম হবে বাংলা। তবে ক্ষেত্রবিশেষে ইংরেজির ব্যবহার করা যাবে। এটি সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জীবন ও দর্শন, সাহিত্য ও সংগীত এবং বিশ্বসংস্কৃতি বিষয়ে অধ্যয়ন ও গবেষণা করা হবে। এ ছাড়া কলা, সংগীত ও নৃত্য, চারুকলা, নাট্যকলা, সামাজিক বিজ্ঞান, কৃষি ও সমবায়, ব্যবসায় প্রশাসন, আইন, বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসহ নতুন কিছু বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে পড়ানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্যের কথা চিন্তা করা হচ্ছে।
জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি আফছারুল আমীন গত শনিবার প্রথম আলোকে বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ বিলটি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ জাতীয় সংসদে উত্থাপনের পর সেটি যাচাই-বাছাই করার জন্য সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি দুটি সভা করে সেটি সংসদে প্রতিবেদন দিয়েছে। সদ্য শেষ হওয়া অধিবেশন অল্প দিন হওয়ায় বিলটি পাস হয়নি। এখন কেবল বিলটি পাসের অপেক্ষায় আছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 42 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ