রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ফেরার উপযুক্ত পরিবেশ নেই

Print

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ডেপুটি হাইকমিশনার কেলি ক্লেমেন্টস বলেছেন, মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের উপযুক্ত পরিবেশ নেই।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে নিরাপদ, সম্মানজনক এবং স্বেচ্ছায় তাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে। কফি আনান কমিশনের সুপারিশ মোতাবেক সমস্যার মূল কারণগুলো সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
এসব বাস্তবায়নে দরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপস্থিতি ও পর্যবেক্ষণ। বিশেষ করে প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে এটা অবশ্যই জরুরি। টেকসই সমাধান ও ভবিষ্যতে আর কোনো বাস্তুচ্যুতি যাতে না হয় তা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ডেপুটি হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশে অবস্থানরত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয় মানসম্মত সমাধানের জন্য ইউএনএইচসিআর উভয় সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মতামত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে উপস্থাপিত হয় তা নিশ্চিতের চেষ্টা চালাবে।
তিনি বলেন, যারা আসছেন তাদের অনেকেই মিয়ানমারে সহিংসতা এবং মানসিক আঘাতের শিকার হয়েছেন। তাদের অনেকেই পরিবারের সদস্য এবং স্বজনদের মৃত্যু প্রত্যক্ষ করেছেন। তাদের বেশিরভাগেরই বাড়িঘর ও গ্রাম ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে- ফিরে যাওয়ার মতো কিছুই অবশিষ্ট নেই। সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে বিভেদের সমাধানে এখনও কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি এবং মানবিক সংস্থাগুলোর প্রবেশাধিকারও সীমিত। প্রত্যাবর্তন প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের আগে যেন এসব বিষয় সমাধানের ব্যবস্থা করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য অক্টোবরে প্রতিশ্রুতি সম্মেলনে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার সহায়তার আশ্বাস পাওয়া গেছে। এ অর্থ দিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের সহায়তার কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩৫ শতাংশ সহায়তা পৌঁছেছে। প্রতিশ্রুতির অবশিষ্ট অংশ এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এ সহায়তা দ্রুত হাতে পাওয়া প্রয়োজন। প্রতিশ্রুত সহায়তা দ্রুত ছাড় করা না হলে রোহিঙ্গাদের দুর্ভোগ বাড়বে। ফেব্রুয়ারির পর নতুন করে সহায়তার জন্য আবেদন করা হবে বলেও তিনি জানান।
কেলি ক্লেমেন্টস বলেন, ১০০ দিনের অধিক সময় পেরিয়ে গেছে, বাংলাদেশে চলমান শরণার্থী পরিস্থিতি ইতিমধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে দ্রুততম শরণার্থী সংকট হিসেবে বিবেচিত। রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখনও বাংলাদেশে আসা অব্যাহত রেখেছে। শুধু গত এক সপ্তাহেই এসেছে আনুমানিক ১৫০০। বাংলাদেশের সরকার এবং এ দেশের জনগণের অসামান্য আন্তরিকতা ও সহমর্মিতাকে ইউএনএইচসিআর সাধুবাদ জানায়। সেই সঙ্গে এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় যৌথ কার্যক্রমে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বাংলাদেশের সীমান্ত খুলে দেয়ার সহমর্মী নীতির কারণে কয়েক লাখ শরণার্থীর জীবন বেঁচে গেছে।
রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির কোনো সময়সীমা না থাকা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময়সীমা সাধারণত কাজ করে না। কারণ রোহিঙ্গাদের নিজেদের মর্যাদার সঙ্গে স্বেচ্ছায় ফেরত পাঠাতে অনেক কাজ এখনও বাকি আছে। তবে তাদের ফেরত পাঠানোর কাজ শুরু করতে দুই মাস সময়সীমা আছে।
তিনি বলেন, কষ্ট, সংগ্রাম, আশা এবং সহমর্মিতাসংবলিত এ জটিল পরিস্থিতির ভেতরেও রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরাতে বাংলাদেশ এবং মিয়ানমার সরকার যে দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থাপত্রে স্বাক্ষর করেছে এ ব্যাপারে ইউএনএইচসিআর অবগত। এ ব্যবস্থাপত্রে স্বাক্ষরের প্রক্রিয়ায় যে আলোচনা হয়েছে সেখানে ইউএনএইচসিআরকে সংযুক্ত করা হয়নি। এ ব্যবস্থাপত্রের বাস্তবিক প্রয়োগে দুই দেশের সরকারকে পরামর্শ দিতে পারব বলে আমরা আশা করি।
কেলি ক্লেমেন্টস বলেন, সম্মতিপত্রে মিয়ানমারে পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রত্যাবাসিত শরণার্থীদের অধিকার প্রদানের যে উল্লেখ রয়েছে এ ব্যাপারে ইউএনএইচসিআর উৎসাহিত বোধ করে। রাখাইন প্রদেশে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনা এবং মানবাধিকার পুনরুদ্ধারের যে প্রতীজ্ঞা করা হয়েছে আমরা সেটা আমলে নিচ্ছি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 40 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ