রাজধানীর পিকনিকের বান্ধবী থেকে সাবধান

Print

রাজধানীর পিকনিকের বান্ধবী থেকে সাবধান

 রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার স্বামীবাগ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতি বছরই আয়োজন করেন পিকনিকের। শীত মৌসুমে স্থানীয় কিছু যুবক এ আয়োজন করে থাকেন। অন্যান্য বছরের মতো এবারও আয়োজন ছিল পিকনিকের। ২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি তিনদিনের বান্দরবান ও কক্সবাজারে ভ্রমণে (পিকনিক) বান্ধবী নিয়ে যাওয়ারও অনুমতি ছিল।

গেণ্ডারিয়ার স্বামীবাগের বাসিন্দা ব্যবসায়ী হালিম, ইকবাল এবং আইয়ুব ওই সুযোগটি নেন। ওই ব্যবসায়ীরা লিজা (পুরো নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হল না) নামে তাদের পূর্বপরিচিত এক বান্ধবীকে বান্দরবান-কক্সবাজার ভ্রমণে সঙ্গী করেন। কিন্তু তারা বুঝতে পারেননি ওই বান্ধবী তাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিন দিনের ভ্রমণ থেকে ফিরেই তিন বন্ধুর নামে গেণ্ডারিয়া থানায় ধর্ষণের মামলা ঠুকে দেন। আর এ মামলায় পুলিশ শনিবার ইলেকট্রিক সামগ্রী ব্যবসায়ী ইকবাল এবং আইয়ুবকে গ্রেফতার করেছে। ওই মামলার অপর আসামি হালিম পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ ওই দুই ব্যবসায়ীকে একদিনের রিমান্ডে নিয়েছে।

গ্রেফতারের পর গেণ্ডারিয়া থানা হেফাজতে থাকা দুই ব্যবসায়ীর সঙ্গে রোববার কথা হয়। তাদের দু’জনেরই দাবি, তাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা পুরোপুরি মিথ্যা।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ইকবাল বলেন, ‘ভ্রমণের সময় লিজা তাদের আরেক বন্ধু হালিমের সার্বক্ষণিক সঙ্গী ছিলেন। কথিত ওই বান্ধবীর সঙ্গে তাদের দু’জনের শারীরিক কোনো সম্পর্কের ঘটনা ঘটেনি। গ্রেফতারের পর প্রাথমিক তদন্তে লিজার দায়েরকৃত মামলাটিতে মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা গেণ্ডারিয়া থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহবুব আলম।

তিনি বলেন, মামলা দায়েরের সময় ঘটনার স্থান কাপ্তানবাজার উল্লেখ করা হলেও বাস্তবে তারা প্রত্যেকেই ওই সময় কক্সবাজার ও বান্দরবান ভ্রমণে ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

সরেজমিন পরিদর্শনের সময় গেণ্ডারিয়া থানায় কথা হয় কথিত ধর্ষণ মামলার বাদী লিজার। কক্সবাজার ট্যুরের বিষয়টি গোপন করে গেণ্ডারিয়া থানায় মামলা দায়ের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গেণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহবুব আলম জানান, বাদী খুবই ধূর্ত প্রকৃতির। তিনি মামলায় যে মোবাইল নম্বর উল্লেখ করেছেন সেটি তার নামে রেজিস্ট্রিকৃত নয়। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে পুলিশকে বলেছে, সিমটি তার স্বামীর নামে রেজিস্ট্রিকৃত। পুলিশের কাছেও মনে হচ্ছে ঘটনাটি কক্সবাজারে। বাদী কক্সবাজারে গিয়েছিল কিনা, তা জানতে চাইলে পুলিশের ওপর তিনি (লিজা) ক্ষুব্ধ হচ্ছেন। সূত্র: যুগান্তর

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 296 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ