রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণে সময় নিচ্ছে বিএনপি

Print

দাবি আদায়ে দু’দফায় রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামে ব্যর্থতার পরিচয় দেওয়া বিএনপি এবার পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন প্রক্রিয়াসহ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণে খানিকটা সময় নিচ্ছে। উদ্দেশ্য যে কোনো কিছুর বিনিময়ে নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন করতে ক্ষমতাসীনদের বাধ্য করা। ফলে এবার হুঠহাট কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকার কার্যকর কৌশল ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মরিয়া দলটির হাইকমান্ড। সম্প্রতি বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নবগঠিত নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা মূল্যায়ন/পর্যালোচনা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনকালীন সরকার ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তাব ‘রুপরেখা’ দেবে বিএনপি। তবে সেটা এখনই নয়, রুপরেখা দেওয়া হবে ক্ষমতাসীন সরকারের মেয়াদ শেষ পর্যায়ে যখন চলে আসবে ঠিক তার আগ মুহূর্তে। কেননা এই মুহূর্তে নির্বাচনকালীন সরকারের ‘রুপরেখা’ দেওয়া হলে তা অল্পকয়েক দিনের মধ্যেই রাজনীতির মাঠে মুখ থুবড়ে পড়বে। আশার আলো দেখার সম্ভাবনাও ক্ষীণ। এমনকি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের প্রস্তাব ‘রুপরেখা’ দেয়ার পূর্বে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ভারত ও লন্ডন সফরে যেতে পারেন। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। কথাবার্তাও রয়েছে প্রাথমিক পর্যায়ে।

তাছাড়া দলটির একটি বৃহৎ অংশ মনে করছে, নিবন্ধন সংক্রান্ত জটিলতা থাকলেও শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়াটা হবে বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। কাজের কাজ কিছুই হবে না, বরং শুধু শুধু শেখ হাসিনার প্রহসনের নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়া হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনার অধীনে আগামী জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রচারণাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচনায় রেখেই পর্যবেক্ষণের পথ পাড়ি দিচ্ছে বিএনপি। ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি। যার প্রাথমিক অংশ হিসেবে দলটি ইতোমধ্যে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা/সামরিক চুক্তির বিরোধিতা করে তা জনগণের সামনে তুলে ধরার দাবি তুলেছে। পাশাপাশি গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জনসমর্থন আদায়ে ইতোমধ্যে লিফলেট বিতরণ, পোস্টার ও ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে, এমনকি কোথায় কোথায় দেওয়াল লিখন শুরু করেছে দলটি।
মূলত ইস্যু ভিত্তিক কর্মসূচি পালনের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক ও কূটনীতিকভাবে সরকারকে চাপে রাখতেই এমন কৌশল নিয়েছে বিএনপি। গুঞ্জন রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর সফল না হলে, সেক্ষেত্রে সেই সুযোগটা কাজে লাগাতে বদ্ধপরিকট বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। আর সে ব্যাপারে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদকবৃন্দ জোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী ও প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দু’দলেরই নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ বা সম্ভাবনা নেই। সরকার বরাবরই বলছে, সংবিধান (পরিবর্তন) এর বাইরে তারা যাবে না। অন্যদিকে বিএনপিও নির্দলীয় সরকারের দাবি থেকে সরে আসবে না। তাদের বক্তব্য- নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিদ্যমান অবস্থা ছিল। বিভিন্ন জরিপেও দেখা গেছে, সাধারণ মানুষ নির্দলীয় সরকারের পক্ষে। আওয়ামী লীগ সংসদে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্টতার জোরে সংবিধান পরিবর্তন করে নিজেদেরকে নির্বাচনকালীন সরকার প্রধান হিসেবে রাখার ব্যবস্থা করেছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মুখে যে যাই বলুক সংকট উত্তরণে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করার নেপথ্যে সরকারি দলে একটি গোপন পরিকল্পনা রয়েছে। টার্গেট বিরোধীদলকে সংলাপে বসিয়ে তাদের দাবি পূরণে ব্যাপক দরকষাকষি করা হবে। কোনোভাবেই নির্দলীয় সরকার বা তত্ত্বাবধায়ক এর দাবি মানা হবে না। শুধু বিরোধী দলের সঙ্গে দরকষাকষির সুবিধার্থে ঘোষণাটি আগে থেকে দেয়া হচ্ছে না। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে যিনি আওয়ামী লীগেরই সংসদ সদস্য এবং সর্বাধিক অনুগত তাকে অন্তর্বর্তী (নির্বাচনকালীন) সরকার প্রধান করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে মূল রশিটা থাকবে শেখ হাসিনার হাতে। শেখ হাসিনা যখন যেমন চাইবেন তখন তেমন হবেন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আগামী দিনে বাংলাদেশ-ভারত সর্ম্পক হবে ‘‘¯্রফে কান্ট্রি টু কান্ট্রি ’’। বাংলাদেশের জনগণ যে ধরনের সরকার চাইবে তারা (ভারত) তার সঙ্গেই ভালো সর্ম্পক রাখবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধান করবে জনগণ। এতে তারা হস্তক্ষেপ করবে না। আর ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করুক বাংলাদেশের সাধারণ মানুষও সেটাই চায়। জানা গেছে, ইতোমধ্যেই বেশকিছু বিষয়ে আওয়ামী লীগের ওপর থেকে একগুয়ে সমর্থন প্রত্যাহার করেছে ভারত। যা আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রকাশ হতে পারে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 129 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি