রাজাপুরে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ৬ ছাত্র আহত ও শিক্ষক

Print

রাজাপুরে চলন্ত বাস থেকে ফেলে ৪ ছাত্রকে আহত করার ঘটনায়  প্রতিবাদে কর্মসূচিতে ওসির নেতৃত্বে লাঠিচার্জ : ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ৬ ছাত্র আহত ও শিক্ষক

আজমীর হোসেন তালুকদার, ঝালকাঠি:: চলন্ত বাস থেকে ৪ ছাত্রকে ফেলে দিয়ে আহত করার প্রতিবাদে ঝালকাঠির রাজাপুর ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশের লাঠি চার্জে ৬ ছাত্র আহত ও কলেজের অধ্যক্ষসহ ২ শিক্ষক কে লাঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে । বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে রাজাপুর- ভান্ডারিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ঘটনা ঘটে। এসময় এলাকা রনক্ষেত্রে পরিনত হলে প্রায় একঘন্টা গাড়ীসহ সকল যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিলো বলে জানাগেছে।
আহত কলেজ ছাত্র নাঈম মাহমুদ বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের একাদশ শ্রেণির প্রথম বর্ষের ৪ ছাত্রকে চলন্ত বাস থেকে সুপারভাইজার ও হেলপার ফেলে দিলে তারা গুরুত্বর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এর প্রতিবাদে কলেজের সকল শিক্ষার্থীরা বুধবার সকাল ১১টায় বেপরোয়া গাড়ীর চালক, সুপারভাইজার ও হেলপারের বিচারের দাবীতে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে শুরু করে। শান্তিপূর্ন কর্মসূচী পালনকালে আকস্মিক ওসি মুনির উল গিয়াসের নেতৃত্বে পুলিশ ছাত্রদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে। পুলিশের এ লাঠিচার্জে কমপক্ষে  শামিম, নাঈম ও বাপ্পি, তরিকুল, ফিরোজ ও হাসানসহ ৬ ছাত্র আহত হয়েছে। এসময় কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম বারী খান ও ইংরেজী প্রভাষক জহিরুল ইসলামকে পুলিশ লাঞ্চিত করেছে।
এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ১১টায় ছাত্রদের সড়ক অবরোধ কর্মসূচি আরম্ভ হলে রাজাপুর ভান্ডারিয়া সড়কে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় দূরপাল্লার অসংখ্য বাসসহ যানবাহন আটকে পড়ে। পরে পুলিশের লাঠিচার্জে অবরোধকারী ছাত্ররা ছত্রভঙ্গ হলে ১২টার পর থেকে সড়কে যানচলাচল শুরু হয়।
এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) শেখ মুনীর উল গিয়াস সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রদের ওপর লাঠি চার্জ করা হয়নি। সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে পুলিশের সাথে ছাত্রদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি স্বীকার করেন ।
আন্দোলনরত ছাত্ররা আরও জানায়, ঝালকাঠি-ভান্ডারিয়া রুটের নূর-নোহা নামের একটি বাসে মঙ্গলবার দুপুরে রাজাপুর ডিগ্রী কলেজের সামনে থেকে একাদশ শ্রেণির ৪ ছাত্ররা গালুয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসে ওঠে। পথিমধ্যে চালক বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালাতে শুরু করলে নারী-পুরুষ সকল যাত্রীরা আস্তে চালাতে অনুরোধ করেন। এিতে চালক ক্ষিপ্ত হয়ে বাসের গতি আরো বাড়িয়ে কৈবর্তখালী নির্মানাধীন কালভার্ডের গতি রোধকের উপর দিয়ে লাফিয়ে যাওয়ার সময় বাসের ছাদে ছিটকে ধাক্কা লাগায় গিয়াস ও মেজবাহ নামে দুই ছাত্রের মাথা ফেঁটে যায়। এমসয় ছাত্ররা গাড়ী থেকে নেমে যেতে চাইলে গাড়ীটি গালুয়া বাজারে পৌছানো মাত্র হেলপার ও সুপারভাইজার চলন্ত গাড়ী থেকে সাকির ও শাহাদাৎ নামের দুই ছাত্রকে লাথি দিয়ে ফেলে দিলে তারা গুরতর আহত হয়। তবে
পূর্বেই আহত রক্তাক্ত দুই ছাত্র মেজবাহ ও গীয়াসকে গালুয়ার বাজার নামতে নাদিয়ে প্রায় ২কিলোমিটার দুরে কানুদাশকাঠী এলাকায় একই কায়দায় ধাক্কা দিয়ে চলন্ত গাড়ী থেকে ফেলে দিয়ে গাড়ীটি সটকে যায়। পরবর্তীতে আহতদের দুইজনকে গালুয়া বাজারে চিকিৎসা দেয় হয় ও গুরুতর আহত গীয়াস ও মেজবাহকে রাজাপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 127 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ