রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংক আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি বাড়ছে মূলধনের ঘাটতি

Print
রাষ্ট্রমালিকানাধীন চার ব্যাংকে এখন আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। প্রদত্ত ঋণের বড় অংশ খেলাপি হওয়ার কারণে ব্যাংকগুলোর আয় কমেছে, কিন্তু ব্যয় কমেনি। আমানত নেওয়ায় গ্রাহকদের সুদ দিতে হচ্ছে ঠিকই। এর ফলে বড় ধরনের মূলধনের সংকটে সরকারি চারটি ব্যাংক।

সোনালী ব্যাংক: ২০১৫ সাল শেষে সোনালী ব্যাংকের আমানতের পরিমাণ ৮৫ হাজার ৬০৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে সর্বশেষ গত বছর ব্যাংকটিকে সুদ দিতে হয়েছে ৪ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকা। অথচ ঋণের সুদ আদায়সহ ব্যাংকটি ২০১৫ সালে আয় করেছে ২ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। আয়ের তুলনায় ব৵য় অনেক বেশি হওয়ায় বছর শেষে ব্যাংকটি ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা সঞ্চিতি সংরক্ষণে ব্যর্থ হয়েছে। মূলধনের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। ২০১২ সালে সোনালী ব্যাংকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার যে হল-মার্ক কেলেঙ্কারি ঘটেছিল, সেই ক্ষতি এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যাংকটি। নতুন করে মূলধন পেতে সরকারের দিকে চেয়ে আছে। যদিও এরই মধ্যে দুই অর্থবছরে দুই দফায় ব্যাংকটিকে প্রায় ২ হাজার ৭০৫ কোটি টাকা মূলধন জোগান দিয়েছে সরকার।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রদীপ কুমার দত্ত বলেন, ‘আমাদের আমানতের বড় অংশ কম সুদে ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ করতে হয়েছে। ফলে আয় কম হচ্ছে। আমরা এখন চেষ্টা করছি ঋণ বাড়িয়ে আর্থিক অবস্থার উন্নতি করার।’
মূলধন ঘাটতি প্রসঙ্গে এমডি বলেন, ‘গত বছর সরকারের কাছে মূলধন চেয়েও পাইনি। চলতি বছরের আর্থিক হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পর যদি দেখা যায় ঘাটতি বেশি, তাহলে সরকারের কাছে মূলধন-সহায়তা চাওয়া হবে।’
জনতা ব্যাংক: ২০১৫ সাল শেষে ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৩২৬ কোটি টাকা। বছর শেষে ব্যাংকটির সুদসহ অন্যান্য আয় ছিল ৩ হাজার ২০৪ কোটি টাকা, যার বিপরীতে আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা। বছর শেষে মূলধনের ঘাটতি ৪৯ কোটি টাকা। বিসমিল্লাহ গ্রুপের প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারির বোঝা কমাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে ব্যাংকটিকে।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুস সালাম প্রথম আলোকে বলেন, ব্যাংকটি আগের চেয়ে ভালো চলছে। তবে পুরোনো দুর্ঘটনা সামাল দিতে গিয়েই অনেকটা সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে তিন শীর্ষ খেলাপির কাছ থেকে পুরো অর্থ আদায় হয়েছে। তবে মামলা থাকায় অনেক টাকা আদায় করা যাচ্ছে না।
অগ্রণী ব্যাংক: ২০১৫ সাল শেষে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত দাঁড়িয়েছে ৪৫ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এ বছর ব্যাংকটি ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন ও পুনঃ তফসিল করেছে। সেটি না করলে বছর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও অনেক বেড়ে যেত। একদিকে খেলাপি ঋণ আদায় করতে না পারার চাপ, অন্যদিকে মুন গ্রুপের ৩০০ কোটি টাকার কেলেঙ্কারি। এর ফলে মূলধনের ঘাটতিতে পড়তে হয় ব্যাংকটিকে। এ জন্য ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ব্যাংকটিকে ১ হাজার ৮১ কোটি টাকা মূলধন-সহায়তা দিতে হয় সরকারকে। ২০১৫ সালে ব্যাংকটি তাদের শীর্ষস্থানীয় ২০ খেলাপির কাছ থেকে মাত্র ৫১ কোটি টাকা আদায় করতে পেরেছে। তবে একমাত্র অগ্রণী ব্যাংকেরই প্রকৃত আয় ১৪৮ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান জায়েদ বখত প্রথম আলোকে বলেন, শীর্ষ কয়েকজন গ্রাহক খেলাপি হয়ে পড়ায় ব্যাংকের বিভিন্ন সূচকের অবনতি ঘটেছে। তাই এখন উন্নতির জন্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
রূপালী ব্যাংক: ২০১৫ সাল শেষে ব্যাংকটির আমানত দাঁড়িয়েছে ২৬ হাজার ৬৮৮ কোটি টাকা। এই সময়ে ব্যাংকটির মূলধনের ঘাটতি ২৪৫ কোটি টাকা। একই বছরে ব্যাংকটি ঋণের সুদসহ অন্যান্য খাত মিলিয়ে আয় করেছে ১ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা। এর বিপরীতে ওই বছর আমানতের সুদ বাবদ ব্যয় হয় ১ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা। ফলে বছর শেষে আয়-ব্যয়ের মধ্যকার ব্যবধান দাঁড়ায় প্রায় ১৮১ কোটি টাকা। গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ব্যাংকটিকে ২১০ কোটি টাকা মূলধন জোগান দেয় সরকার।
ব্যাংকটির সার্বিক বিষয়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম ফরিদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ব্যাংকের ব্যবসা আর আগের মতো নাই। যেসব ঋণ দেওয়া হয়েছে, তা আদায় হচ্ছে না। ফলে খেলাপি বেড়েছে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 89 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ