রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র ( র্পব – ৪ )

Print

রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র
[Retail and Hospital Pharmacy : The choice of the next generation Pharmacists]

আমাদের দেশে ওষুধের দোকান কিভাবে পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন সিলেবাস নাই। ইন্ডিয়ার ডিপ্লোমা ফার্মেসী ও আমাদের দেশের ’সি গ্রেড’ ফার্মেসীর সিলেবাসের আলোকে রিটেইল ফার্মেসীর উপর ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করছি।

বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী মিলিয়ে মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসী বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয় বা ফার্মেসী বিষয়টি পড়ানো হয়। সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে বার্ষিক কোর্স পদ্ধতি আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টার ধরে হিসাব করলে প্রতি বছর প্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার) ফার্মাসিস্ট পাশ করে বের হয়। এখনো পর্যন্ত ফার্মাসিস্টদের চাকুরির ক্ষেত্র শুধুমাত্র ওষুধ শিল্প কারখানা বিধায় গড়ে ২০০ (দুই শত) এর বেশি চাকুরির পদ সৃষ্টি হয় না। তাহলে এইসব নবীন ফার্মাসিস্ট কোথায় যাবেন? তাঁদের চাকুরির ক্ষেত্র কোথায়? নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর একটি বড় ক্ষেত্র হলো রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী যাহা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয়, লোভনীয় ও পছন্দের কর্মক্ষেত্র।

রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী কী? এগুলি কিভাবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে হয়? ফার্মাসিস্ট কিভাবে সেখানে চিকিৎসা সেবা ও ফার্মেসী সেবা দান করবেন? রোগীর সাথে একজন ফার্মাসিস্ট কিরূপ আচরণ করবেন? কেমন স্থানে এগুলি স্থাপন করতে হয়? কি পরিমান মূলধন লাগে? আবার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে কিভাবে এগুলিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা যায় এইসব বিষয় এখানে আলোচনা করা হবে।

সেই অর্থে নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমুহ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে এই লেখাটি হবে। আশা করি লেখাগুলি যাদের জন্য লেখা তাঁরা বিবেচনায় নিবেন এবং এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জনসেবায়, মানবসেবায় আত্ম নিয়োগ করার সুযোগ করে দিবেন।

ব্যবসায় (Business)


১.১. ব্যবসায় (Business)

জীবীকা নির্বাহের জন্য মানুষ যে সমস্ত আর্থিক লেনদেন হয় বা লাভ- লোকসান হয় এমন কার্যাবলীতে নিযুক্ত থাকে সে সব কাজকে সমষ্টিগতভাবে ব্যবসায় বলে। আর্থিক লেনদেন হয়না এমন কাজে ব্যস্ত থাকাকে ব্যবসায় বলে না। যেমন – টিভি দেখা, উদ্দেশ্যহীনভাবে রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো, তাস খেলা, আড্ডা দেওয়া ইত্যাদি। আবার অর্থনীতির সংজ্ঞা বিবেচনায় নিলে আমরা দেখি যে, জীবীকা নির্বহের জন্য পন্য ও সেবা (goods and service) উৎপাদন ও সরবারহের সাথে বহুবিধ পেশা (occupation) রয়েছে এবং মানুষ এ সমস্ত পেশার কোন একটির সাথে জড়িত রয়েছে। আর্থিক লেনদেন হয় এমন কিছু পেশা হল – শিক্ষকের শ্রেণীকক্ষে পাঠদান, হাসপাতাল বা ব্যক্তিগত চেম্বোরে ডাক্তারের রোগী দেখা, ফার্মাসিস্টের ঔষুধ উৎপাদন ও প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ঔষুধ বিক্রয়, নার্স কতৃক রোগীকে ঔষুধ সেবন, চা বিক্রেতা কতৃক চা পরিবেশন, হোটেলে কাজ করা ইত্যাদি। গুদামজাতকরন, পরিবহন, বীমা করন, অগ্রিম বায়না করন এবং বিজ্ঞাপন প্রচার করন ইত্যাদি ব্যবসার অংশ হিসাবে গন্য হয়।


অধ্যায় ১
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রেনী বিভাগ
(Classification of Business Organizations)


 

১.২. ব্যবসার শ্রেণী বিভাগ

মোটা দাগে ব্যবসায়িক কার্যাবলীসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়। যথা –

১। শিল্প বা কল-কারখানা (Industry)

২। বানিজ্য (Commerce)

শিল্প বা কল-কারখানা (Industry)

ব্যবসায়িক কার্যাবলীর যে সমস্ত অংশ কোন পন্যের উৎপাদন, আহরন, রূপান্তর করন, প্রক্রিয়াজাতকরন বা জমানোর সাথে জাড়িত থাকে সে গুলোকে সমষ্টিগতভাবে শিল্প বলা হয়।

উৎপাদিত পন্য বা সেবা কোন কাজে ব্যবহৃত হবে তার উপর ভিক্তি করে শিল্পকে নিম্মরূপে শ্রেণীবদ্ধ করা যায় –

ক। প্রাথমিক উৎপাদিত পন্য বা প্রারম্ভিক পন্য

খ। অর্ধ-সমাপ্ত উৎপাদিত পন্য

গ। সম্পূর্নরূপে প্রস্তুুত উৎপাদিত পন্য

সম্পূর্নরূপে প্রস্তুত পন্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়।যথা-

১। মূলধনী বা উৎপাদকের পন্য

২। ভোক্তার পন্য/ ভোগ্য পন্য

(ক) প্রাথমিক উৎপাদিত পন্য (Primary products)

কৃষি, অরন্য/বন, খনি, পশু সম্পদ ও মৎস্য খামার থেকে প্রাপ্ত পন্যসমূহ প্রাথমিক বা প্রারম্ভিক পন্য হিসাবে ধরা হয়। এই জাতীয় পন্যের উদাহরন হল – ধান/চাল, গম/আটা, তুলা/সুতা, আখ/চিনি, খাদ্যশস্য, কাঠ, ধাতব আকরিক, দুধ, মাছ, রেশম ইত্যাদি। ঔষুধ উদ্ভিদ বা গাছপালা ও প্রানী, অনুজীব, সামুদ্রিক প্রাণী থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন ঔষুধ প্রারম্ভিক পন্য হিসাবে গন্য হয়।

(খ) অর্ধ-প্রস্তুত পন্য (Semi-manufactured products)

সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য হিসাবে ব্যবহার উপযোগী হওয়ায় আগে কোন শিল্প কারখানায় প্রস্তুত একটি পন্যকে যখন অন্য একটি কারখানায় প্রক্রিয়াজাত করতে হয়, তখন সেই পন্যটিকে অর্ধ-প্রস্তুত পন্য বলে। উদাহরন স্বরূপ বলা যায়- ক্যাপসুল শেল একটি কারখানায় তৈরী হয় কিন্তু ওষুধ দিয়ে এটিকে পূর্নরূপে ব্যবহার উপযোগী করার জন্য ওষুধ কারখানার ক্যাপসুল ফিলিং সেকশনে নিয়ে কাজটি পুরোপুরি সম্পন্ন করতে হয়। এ রকম অর্ধ-প্রস্তুত পন্যের আরো উদাহরন হল – পিগ লৌহ, কাপড় তৈরীর সুতা, কাগজ তৈরীর পালú ইত্যাদি।

(গ) সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য (Manufactured/Finished goods)

ভোক্তা কতৃক ব্যবহারের জন্য সম্পূর্নরূপে প্রস্তুত এমন পন্য বা সেবাকে সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য বলে। সম্পূর্নরূপে প্রস্তুত এমন পন্যের উদাহরন হল – বিভিন্ন ধরনের ওষুধ, কাপড়, জুতা, চিনি, কাগজ, মেশিন পত্র বা কলকব্জা ইত্যাদি।

সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য বা সেবা সামগ্রীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-

ক। মূলধনী বা উৎপাদক পন্য

খ। ভোক্তার পন্য বা উৎপাদিত পন্য।

(ক) মূলধনী পন্য বা উৎপদক পন্য

অন্য কোন পন্য তৈরী বা প্রক্রিয়া জাত করার জন্য ব্যবহৃত হয় এমন পন্যকে মূলধনী পন্য বা উৎপাদক পন্য বলে। উদাহরন – কাঁচালোহা, ছোট ছোট কলকব্জা ও যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।

(খ) ভোক্তার পন্য বা ভোগ্য পন্য

ভোক্তা কতৃক ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ন প্রস্তুত এবং আর অন্য কোন রকম প্রক্রিয়াজাত করার প্রয়োজন নাই, এমন পন্যকে ভোগ্য পন্য বলে। উদাহরন – টেবলেট, ক্যাপ্সুল, সিরাপ, ইনজেকশন, মলম ইত্যাদি ওষুধ, শাড়ী, লুঙ্গি, জুতা-খড়ম, সাবান, টিভি, রেডিও, ফ্রিজ, ওয়াশিং মেশিন, চেয়ার টেবিল ইত্যাদি।

শিল্পের শেণী বিভাগ

কি ধরনের পন্য বা সেবা সামগ্রী তৈরী হয় বা উৎপাদিত হয় তার উপর ভিক্তি করে শিল্পকে নিম্মরূপে শ্রেণীবিভাগ করা যায়। যথা –

(ক) জেনেটিক শিল্প

(খ) আহরনমূলক শিল্প

(গ) উৎপাদন মূলক শিল্প

(ঘ) নির্মান শিল্প

(ক) জেনেটিক শিল্প

জেনেটিকস বা বংশগতি শব্দ থেকে জেনেটিক শব্দটির উৎপত্তি। উদ্ভিদ, প্রাণী ও পাখির পুনরোৎপাদন ও বংশবৃদ্ধিকরনের সাথে সম্পর্কিত বা জড়িত শিল্পকে জেনেটিক শিল্প বলে। যেমন – চারা উৎপাদনের নার্সারী, গবাদি পশুর খামার, হাস-মুরগীর খামার, মৎস চাষের খামার ইত্যাদি।

(খ) আহরনমূলক শিল্প

প্রাকৃতিক উৎস যেমন মাটি, বায়ু বা পানি থেকে কোন পন্য আহরনের সাথে জড়িত শিল্পকে আহরনমূলক শিল্প বলে। যেমন- কৃষি, খনিজ তেল উত্তোলন, বনজ শিল্প, মাছ ধরা ইত্যাদি।

(গ) উৎপাদন মূলক শিল্প

পন্য উৎপাদনে নিয়োজিত শিল্পকে উৎপাদনমুখী শিল্প বলে। উদাহরন – ঔষুধ শিল্প, বস্ত্র শিল্প, পাট শিল্প, জাহাজ নির্মান শিল্প, চিনি শিল্প, ইস্পাত ও প্রকৌশল শিল্প । এই ধরনের শিল্প কারখানায় সাধারনত কাঁচামাল বা অর্ধপ্রস্তুত মাল থেকে সম্পূর্ন প্রস্তুতপন্য তৈরী করা হয়। উৎপাদন মুখী শিল্পকে আবার চারভাগে ভাগ করা যায়। যথা –

(i) বিশ্লেষনধর্মী শিল্প

কোন বিশেষ প্রকারের কাঁচামালকে বিশ্লেষন করার সংঙ্গে যুক্ত শিল্পকে বিশ্লেষনধর্মী শিল্প বলে। যেমন – মাটির নীচে খনি থেকে উত্তোলনকৃত অপরিশোধিত তেলকে বিশ্লেষন করার পর আংশিক পাতন পদ্ধতিতে এটি থেকে পেট্রোল, ডিজেল, কেরোসিন, গ্যাসোলিন ও লুব্রিকেটিং তেল পৃথক করা হয়।

(ii) সংশ্লেষনধর্মী শিল্প

যে শিল্প কারখানায় দুই বা ততোধিক কাঁচামালকে একত্রে মিশিয়ে প্রক্রিয়াজাত করনের মাধ্যমে অন্য একটি নতুন মাল উৎপাদন করা হয় তাকে সংশ্লেষন ধর্মী শিল্প বলে। যেমন – বিভিন্ন ধরনের রাসায়নি দ্রব্য, ওষুধ, সাবান, কসমেটিকস, পেইন্টস, সার, কীটনাশক, সিমেন্ট ইত্যাদি।

(iii) প্রক্রিয়াজাতকরন শিল্প

এই জাতীয় শিল্প কারখানায় কাঁচামালকে বিভিন্ন স্তরে প্রক্রিয়াজাত করে সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য তৈরী করা হয়। যেমন – ওষুধ, কাগজ, কাপড়, চিনি ও ইস্পত। শিল্প প্রক্রিয়াজাত করনে বিশ্লেষন ও সংশ্লেষন উভয় পদ্ধতি প্রয়োগ করা যেতে পারে।

(iv) সংমিশ্রন/ সংযুক্তকরন শিল্প

যে শিল্প কারখানায় অংশ বা উপাদানগুলো সংযুক্ত বা সংমিশ্রন করে একটি সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য তৈরী করা হয় তাকে সংমিশ্রন শিল্প বলে। সংমিশ্রন শিল্পে ব্যবহৃত অংশ বা উপাদান গুলো সংমিশ্রন শিল্প কতৃকই উৎপাদিত হতে পারে অথবা অন্যান্য শিল্প কারখানায় প্রস্তুত পৃথক পৃথক উপাদানগুলি সংগ্রহ ও একত্রিত করে সংমিশ্রনজাত পন্য তৈরী হতে পারে। এরূপ শিল্পের প্রকৃষ্ট উদাহরন হল – গাড়ী, টেলিভিশন, ক্যামেরা, কম্পিউটার, এক্্র-রে মেশিন, ইসিজি মেশিন, ফ্রিজ ইত্যাদি।

(ঘ) নির্মান শিল্প

নির্মান প্রক্রিয়ার সংঙ্গে যুক্ত শিল্প কারখানাকে নির্মান শিল্প বলে। উদাহরন – বাড়ীঘর নির্মান, রাস্তা-ঘাট নির্মান, বাঁধ নির্মান, সেতু নির্মান ইত্যাদি। উৎপাদনমুখী শিল্প কারখানায় প্রস্তুত পন্য নির্মান শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। যেমন – লোহা, ইট, সিমেন্ট, বালি, পাথর, মার্বেল, কাঠ, গ্লাস, রাবার, কলকব্জা ইত্যাদি নির্মান শিল্পে ব্যবহৃত হয়। অবকাঠামো এবং অধিকাঠামোর পূর্ন বিকাশ যেকোন দেশের শিল্পায়নের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ন শর্ত। নির্মান শিল্পের পরিপূর্ন বিকাশের মাধ্যমেই কেবল অবকাঠামোর ও অধিকাঠামোর বিকাশ হতে পারে।

বানিজ্য

যে কোন শিল্পের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের চাহিদা মোতাবেক পন্য ও সেবা সামগ্রী উৎপাদন করা। আর বানিজ্যের মূল লক্ষ্য হলো এসব পন্য ও সেবা সামগ্রীকে ভোক্তা ও ব্যবহারকারীদের রুচি, চাহিদা ও সুবিধা অনুযায়ী সেগুলি বিতরন বা বিপননের ব্যবস্থা করা। বানিজ্যিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে এক স্থানে প্রস্তুত পন্য বহুস্থানে পৌঁছে যায়। বর্তমানে সমাজ ব্যবস্থায় পরিবহন, বীমাকরন, গুদামজাতকরন, ব্যাংকিং ও প্রচারকরন প্রক্রিয়ার সমন্বয়ে বানিজ্যিক প্রক্রিয়া একটি সুন্দর ও উন্নত ব্যবস্থাপনার উপর ভিক্তি করে প্রসার হচ্ছে।

এভলিন থমাসের মতে বানিজ্যের সংজ্ঞা নিম্মরূপ: “বানিজ্যিক কার্যক্রম বলতে পন্যের ক্রয়-বিক্রয়, পন্যের বিনিময় এবং বিতরন ও বিপনন কে বুঝায়”।

সাধারনত কোন বিশেষ পন্য বা সেবা সামগ্রী কোন একটি জায়গায় প্রস্তুত বা তৈরী হয় কিন্তু ভোক্তা বা ব্যবহারকারীগন দূরে ও কাছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে বা বসবাস করে। এই ছড়িয়ে চিটিয়ে থাকা ভোক্তা ও ব্যবহারকারীদের নিকট পন্য বা সেবা সামগ্রী পৌঁছে দেয়াই বানিজ্যিক কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য। ভোক্তা ও ব্যবহারকারীদের যেথায় দরকার, যখন দরকার ও যে পরিমান দরকার সেইরূপ চাহিদা মোতাবেক যেনো পন্য পেতে পারে সেরূপ ব্যবস্থা করা বানিজ্যিক কার্যক্রমের অন্যতম লক্ষ্য। এভাবে বানিজ্যের চাকা ঘুরে আর পন্য ও সেবা সামগ্রী পৌঁছে যায় ভোক্তা ও ব্যবহারকারীদের দোরগোড়ায়।

বানিজ্যেও শ্রেণী বিভাগ

বানিজ্যিক কার্যক্রমকে নিম্মরূপ ভাবে ভাগ করা যায়। যথা –

ক। ট্রেড বা ক্রয়-বিক্রয় (দোকানদারী)

খ। ক্রয়-বিক্রয়ের সহায়ক উপাদান

ক। ট্রেড বা ক্রয়-বিক্রয় (দোকানদারী)

দোকানদারী বলতে পন্যের ক্রয় ও বিক্রয়কে বুঝায়। একজন দোকানদার পন্যদ্রব্য কিনে নিয়ে আসেন এবং কিছু মুনাফা করে সেই পন্য অন্য দোকানদার বা ভোক্তার নিকট বিক্রয় করেন। ব্যক্তির বা সমাজে চাহিদা আছে এমন পন্য কিনে আনেন এবং সুনির্দিষ্ট পরিমানে লাভ বা মুনাফায় তা বিক্রি করেন। সব সময় যে মুনাফা হয় এমন নয় দোকানদার কখনো কখনো ক্ষতিরও সম্মুখীন হন।

পন্য বা সেবা সামগ্রী একটি সুনির্দিষ্টি স্থানে তৈরী হয়, কিন্তু পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গ্রাহক ও ভোক্তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন। উদ্যোক্তা বা উৎপাদনকারীর একার পক্ষে এই বিশাল ভোক্তা গোষ্ঠির নিকট পন্য বা সেবা সামগ্রী পৌছানো এক কথায় অসম্ভব কাজ। সেই জন্য উদ্যোক্তা বা উৎপাদক দেশের সকল প্রান্তে পরিবেশেক নিয়োগ করেন। এই পরিবেশকগনই বিক্রেতাদের মাধ্যমে পন্য ও সেবা সামগীকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এই বিশাল গ্রাহক ও ভোক্তার নিকট রুচি, চাহিদা ও সুবিধামত পন্য ও সেবা টাকার বিনিময়ে পৌছে দেন। এই পন্য বেচা-কেনায় পরিবেশক, পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা সুনির্দিষ্ট পরিমানে মুনাফা অর্জন করেন। তবে সবসময় যে মুনাফা হয় তেমন নয় কখনো কখনো পন্যের চাহিদা না থাকলে বা কমদামে অন্য কোম্পানীর একই কিন্তু উন্নতমানের পন্য বাজারে আসলে তাদেরকে লোকসানের মুখোমুখি হতে হয়।

দোকানদারীর শ্রেনীবিভাগ

দোকানদারীকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা –

১। অভ্যন্তরীন দোকানদারী

২। আর্ন্তজাতিক দোকানদার

১। অভ্যন্তরীন দোকানদারী

এই ধরনের দোকানদারীকে গৃহ-বানিজ্যও বলা হয় কারন এই ধরনের দোকানদারী একটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে এবং এটি হতে পারে – (ক) স্থানীয় দোকানদারী যাহা একটি ছোট এলাকা বা শহরে সংঘটিত হয়, (খ) রাজ্য বা প্রদেশ ভিক্তিক দোকানদারী যাহা বড় শহর, রাজ্য ও প্রদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে; (গ) আন্ত: প্রদেশ দোকানদারী – এই ধরনের দোকানদারীতে পন্য বা সেবা সামগ্রী এক প্রদেশ থেকে অন্য প্রদেশে ক্রয়-বিক্রয় হয়। উপরোক্ত যেকোন ধরনের দোকানদারীত ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে উক্ত দেশের নিজস্ব মুদ্রায় ও ব্যাংকের মাধ্যমে হয়ে থাকে। অভ্যন্তরীন দোকানদারীর প্রক্রিয়াকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়:

১। পাইকারী দোকানদারী

২। খুচরা দোকানদারী

১। পাইকারী দোকানদারী (Wholesale trade)

পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় প্রক্রিয়াতে পাইকারী দোকানদার উৎপাদকের কাছে থেকে বেশি পরিমানে পন্য ক্রয় করেন আর খুচরা দোকনাদারদের কাছে অল্প পরিমানে বিক্রয় করেন। পাইকারী বিক্রেতা উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতার মধ্যে সেতু বন্ধন হিসাবে কাজ করেন। তবে পাইকারী বিক্রেতা যখন অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের জন্য পন্য মজুত করে রাখেন বা অতিরিক্ত বেশী দামে খুচরা দোকানীর নিকট বিক্রয় করেন তখন তাকে মধ্যসত্ত্ব ভোগী বা ফড়িয়া বলা হয়।

২। খুচরা দোকানদারী

যখন পন্য বা সেবা সামগ্রী চহিদা অনুসারে অল্প পরিমানে সরাসরি ভোক্তা বা ব্যবহার কারীর নিকট বিক্রয় করা হয় তখন তাকে খুচরা দোকানদারী বলে। ব্যবসা-বানিজ্যে খুচরা দোকানদারী হল সর্বশেষ বা চুড়ান্ত পর্যায় এবং এ পর্যায়ে পন্য বা সেবা সামগ্রী সরাসরি ভোক্তা বা গ্রহিতার বা ব্যবহারকারীর নিকট নগদ মূল্যে বা কিস্তিতে বা বাকীতে বিক্রয় করা হয়। যে ব্যক্তি খুচরা দোকানদারীর সাথে জড়িত থাকেন তাকে খুচরা দোকানী বলে। খুচরা দোকানদারী ছোট ছোট দোকান, বড় দোকান বা ডিপার্টমেন্টাল দোকান, সমবায় দোকান, সুপার মল/বাজার, হকারের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। উৎপাদক ও পাইকারী বিক্রেতা ও ভোক্তার মধ্যে যোগসাধন বা সেতুবন্ধন রূপে এসব খুচর দোকানীরা কাজ করেন।

২। আর্ন্তজাতিক দোকানদারী

একে বৈদেশিক বা বহি:স্থ দোকানদারী বলা হয়। যখন দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে ক্রয়-বিক্রয় সাধিত হয় তখন তাকে বৈদেশিক দোকানদারী বলা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময়ের মাধ্যমে বৈদেশিক বানিজ্যে আর্থিক লেনদেন সংঘটিত হয়। স্থল বন্দর, সমুদ্র বন্দর ও বিমান বন্দরের মাধ্যমে পন্য লেনদেন সম্পন্ন হয়। কোন একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বৈদেশিক বাজিন্য নিয়ামক রূপে কাজ করে। যে কোন দেশের জন্য পন্য বা সেবা রপ্তানী করতে পারাটা অর্থনৈতিক বিচারে উন্নতির নিয়ামক রূপে গন্য হয়। তবে পন্য বা সেবা সামগ্রী রপ্তানী করতে হলে অভ্যন্তরীন অবকাঠামো ও অধিকাঠামো শিল্প স্থাপন, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরনের অনুকুল পরিবেশ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। আমদানী নির্ভর দেশ সব সময়ই পিছিয়ে থাকে।

বৈদেশিক লেনদেনের/ বানিজ্যের শ্রেণীবিভাগ

বৈদেশিক বানিজ্যকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা –

১। আমদানী বানিজ্য

২। রপ্তানী বানিজ্য

৩। উদ্যোক্তা বানিজ্য

১। আমদানী বানিজ্য (Import trade)

যখন কোন ব্যবসায়ী অন্য দেশ থেকে নিজ দেশে পন্য বিক্রয়ের উদ্দেশ্য নিয়ে আসেন তখন তাকে আমদানী বানিজ্য বলে। যেমন – বাংলাদেশের কোন ব্যবসায়ী যদি চীন বা ইন্ডিয়া থেকে পন্য বিক্রয়ের উদ্দশ্যে বাংলাদেশে আনেন, তবে এটা আমদানী হিসাবে গন্য হবে।

২। রপ্তানী বানিজ্য

যখন কোন ব্যবসায়ী নিজ দেশের পন্য অন্য দেশে বিক্রয় করেন তখন তাকে রপ্তানী বানিজ্য বলে। যেমন – বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা ওষুধ, তৈরী পোষাক, হিমায়িত চিংড়ি মাছ, চা, চামড়া ইত্যাদি বিদেশে বিক্রয় করেন, এটা রপ্তানী বানিজ্যের মধ্যে পড়ে।

৩। উদ্যোক্তা বানিজ্য

যখন কোন পন্য আমদানী করে সম্পূর্ন প্রস্তুত পন্য তৈরী করে ঐ পন্য আমদানীকারক দেশে বা অন্যদেশে রপ্তানী করা হয় তখন তাকে উদ্যোক্তা বানিজ্য বা পূন:রপ্তানী বানিজ্য বলে। যেমন- বাংলাদেশের ওষুধ শিল্পের উদ্যোক্তরা বিদেশ থেকে ওষুধের কাঁচামাল (অচও) আমদানী করে ওষুধ প্রস্তুত কওে, অত:পর উক্ত ওষুধ আবার ঐ দেশে বা অন্য দেশে রপ্তানী করে এটা উদ্যোক্তা বানিজ্যের মধ্যে পড়ে।

দোকানদারীর সহায়ক সামগ্রী  (Logistic Support)

ব্যবসা বানিজ্য বা দোকনদারী করতে গেলে নানা রকম সহযোগী সমগ্রীর সহায়তা নিতে হয়। যেমন – পরিবহন, গুদামজাতকরন, ব্যাংকিং, বীমা, মোড়কজাতকরন, বিজ্ঞাপন ও প্রচারনা ইত্যাদি সরাসরি পন্য বা সেবা সমগ্রী নয় কিন্তু পন্য ও সেবায় বিক্রয়-বিতরন, অর্থ লেনদেন, আর্থিক নিরাপত্তা বিধান এবং প্রচার ও প্রসারের জন্য এসব উপাদানের সময়মত সহযোগিতা না পেলে ব্যবসা বানিজ্যে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। নিচে এসব সহায়ক উপাদানের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দেওয়া হল –

(i) পরিবহন

ব্যবসা বানিজ্যে স্থান, কাল ও পাত্র বিবেচনায় মালামাল পৌঁছে দেওয়া অতীব প্রয়োজনীয় কাজ। পরিবহন ব্যবস্থা এই কাজটি আমাদেরকে সহজ করে দিয়েছে। পন্য দ্রব্য ও মানুষকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌছে দেয়াই পরিবহনের কাজ। উৎপাদন বা প্রক্রিয়াজাত করনের স্থান থেকে ভোক্তার নিকট পন্য বা সেবা সামগ্রী পৌঁছিয়ে দেয়া পরিবহনের প্রধান উদ্দেশ্য। পন্য, শ্রমিক/ কর্মচারী ও মেশিনারী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছানো ছাড়াও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এটি গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। সুতরাং উত্তম পরিবহন ব্যবস্থা অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যান ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সংরক্ষনে খুবই গুরুত্বপূর্ন।

অন্যান্য শিল্প পন্যের মত ওষুধ শিল্পও দেশের একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় অবস্থিত থাকে। আর এটা নির্ভর করে কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতা, সুবিধাজনক গনপরিবহন ব্যবস্থা, স্থিতিশীল আবহাওয়া ও পারিপর্শ্বিক পরিবেশের উপর। কারখানা স্থলে উৎপাদিত হওয়ার পর ওষুধ ও ওষুধ জাতীয় পন্য সামগ্রীকে অতি অবশ্যই অতি অল্প সময়ের মধ্যে সারা দেশের রোগীদের নিকট অর্থাৎ ওষুধের দোকানে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে। কেননা প্রতিটি ওষুধের সুনির্দিষ্ট মেয়াদকাল আছে এবং অহেতুক সময় অতিবাহিত হলে ওষুধ নষ্ট হতে শুরু করে। সুতরাং ওষুধের বিক্রয়, বিতরন ও বিপননসহ কাঁচামাল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান সংগ্রহের জন্য সুবিধাজনক পরিবহন ব্যবস্থা থাকা অত্যান্ত জরুরী। ওষুধসহ অন্যান্য মালামাল এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থনান্তর করার জন্য নানা রকম পরিবহন ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন – সড়ক ও জনপথ, রেলপথ, বিমানপথ, জলপথ এবং তেল-গ্যাস ও অন্য তরল পদার্থের জন্য পাইপলাইন ইত্যাদি। এসব পরিবহন ব্যবস্থার মধ্যে রেলপথ পন্য ও শ্রমিক পরিবহনের জন্য সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা। কারন (১) রেলপথে পন্যসমূহ ও জনগনর সুরক্ষিত অবস্থায় থাকে, (২) স্বল্প খরচে বেশী পরিমান পন্য দূর- দূরান্তে অল্প সময়ে পৌঁছানো সম্ভব হয়, (৩) রেল ব্যবস্থা সরকার নিয়ন্ত্রন করে বলে ভাড়া শস্তা।

(ii) গুদামজাতকরন

সুবিধামত সময়ে ব্যবহারের নিমিত্তে যখন পন্য দ্রব্য সংগ্রহ, মজুত ও সংরক্ষন করে রাখা হয় তখন তাকে গুদামজাতকরন বা আড়াৎদারী বলে। এই মজুতকরন প্রক্রিয়া যখন বেশ বড়সড় আকারে ও বিশেষায়িত পদ্ধতিতে করা হয় তখন তাকে ওয়ারহাউজিং বলে। আর পন্য মজুতের মূল লক্ষ্য হলো পন্যকে উপযুক্ত পরিবেশে সংরক্ষন। যখন যে পরিমানে প্রয়োজন সে পরিমানে ও বিনা বাধায় বাজার জাত করা যায়।

গুদামজাত করার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত –

১। আজকাল পন্যদ্রব্য উৎপাদন একটি নিরবিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়া এবং উৎপাদিত সব পন্য একবারে বাজারজাত করা যায় না, আবার সব পন্য একবারে বিক্রিও হয় না। তাই অবিক্রিত পন্য ও ভবিষ্যতে বিক্রিতব্য পন্য গুদামজাত করে রাখা দরকার।

২। নিরবিচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান কাঁচামাল মজুত করে রাখা দরকার।

৩। কিছু কিছু ওষুধ ঋতু ভেদে বেশী ব্যবহূত হয় কিন্তু উৎপাদন সারা বছর ধরেই হয়। ঐ সমস্ত ওষুধ নির্দিষ্ট ঋতুতে পর্যাপ্ত পরিমানে সরবরাহ করতে মজুত করে রাখা দরকার।

৪। একবারে বেশী পন্য কিনে রাখার জন্যও মজুতকরন প্রয়োজন।

৫। চাহিদা বাড়বে/ বাড়তে পারে বিবেচনয় কিছু পন্য মজুতকরনের দরকার হয়।

৬। ভবিষ্যতে মূল্য বাড়বে ও বেশী মুনাফা পাওয়া যাবে, এই বিবেচনায় কিছু পন্যকে হিমাগারে সংরক্ষন করা হয়। যেমন – শাকসবজি, আলু, ফলমূল ইত্যাদি।

৭। ভোক্তাকে নিয়মিত সরবরাহ করার জন্য খুচরা ও পাইকারী বিক্রেতাকেও মাঝে মাঝে মজুত করতে হয়।

সুতরাং মজুতকরনের মাধ্যমে সময় মত গ্রাহক/ ভোক্তার চাহিদা মোতাবেক যেকোন পন্য বাজারে নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা যায়। এত মূল্যও স্থিতিশীল থাকে।

(iii) ব্যাংকিং

ব্যবসায়-বানিজ্য মানেই টাকার আদান-প্রদান বা লেনদেন। উৎপাদন, বিপনন থেকে শুরু করে কাঁচামাল, কলকব্জা ক্রয়, পরিবহন, গুদামজাতকরন, বীমা , ষ্টাফদের বেতন-ভাতা ও নিত্যদিনের খরচ মিটানোর জন্য টাকা পয়সা খুবই জরুরী। আর্থিক লেনদেনের জন্য সবচেয়ে উত্তম প্রতিষ্ঠান হলো ব্যাংক। দৈনন্দিন লেনদেন ছাড়াও ব্যাংক থেকে কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। যেমন – ওভার ড্রাফ্ট, ক্যাশ ক্রেডিট, বিভিন্ন বিলের উপর ডিসকাউন্ট বা বাট্টা ইত্যাদি।

(iv) বীমাঃ

যেকোন ব্যবসা-বানিজ্যেই ঝুঁকি থাকে। যেমন – আগুন লাগা, দূর্ঘটনা ঘটা, চুরি/ডাকাতির কবলে পড়া, ঝড়/ তুফান, বণ্যা, ভূমিকম্প, আর্থিক মন্দা, কর্মচারী বা অংশীদারের অসাধুতা, জাহাজডুবি, হরতাল, অবরোধ, শ্রমিক অসন্তোষ ইত্যাদি।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারনে যে ব্যবসায়িক ক্ষতি হয় তাহা সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক ঝুঁকি এবং উপযুক্ত বীমা পলিসি গ্রহন করলে তা কাটিয়ে উঠা সম্ভব। প্রাকৃতিক দুর্যোগজনিত ঝুঁকির মঝে আছে – পোকার আক্রমন, অতিবৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি, বজ্রপাত, অগ্নিকান্ড,বন্যা খরা, ভূমিকম্প ইত্যাদি।

কর্মচারী ও অংশীদারের অসাধুতা, স্ট্রাইক, লকআউট (তালা মারা), চুরি ইত্যাদি ঝুঁকি পারস্পরিক সুসম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে হ্রাস কারা যায়। মূল্য হ্রাস পাওয়া, চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থার পরিবর্তন, ধারে বিক্রয় করা জনিত অর্থ আদায়ে অসফলতা ইত্যাদি ঝুঁকি বাজার প্রবনতা, সরকারের নীতিমালা ও দেনাদারের সুনাম/ দুর্নাম বিশ্লেষনের মাধ্যমে হ্রাস করা যায়।

পাওনা আদায় পদ্ধতিতে পরিবর্তন এনে পাওনাদারের কাছ থেকে পাওনা অর্থ আদায় করা যেতে পারে। প্রয়োজনীয় ও পর্যাপ্ত পরিমান প্রিমিয়াম দিয়ে বীমা পলিসি গ্রহন করলে এসব ঝুঁকির কারনে যে আর্থিক ক্ষতি হয় তাহা বীমা কোম্পানীর কাছ থেকে ক্ষতি পূরন হিসাবে পাওয়া যায়। এভাবে বীমা কোম্পানীগুলো ব্যবসা-বানিজ্য প্রসারে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন রকম বীমা পলিসি আছে। যেমন – নির্দিষ্ট পরিমান প্রিমিয়াম দিয়ে জীবন বীমা করলে জীবনের ঝুঁকি বা মৃত্যু জনিত ঝুঁকির ক্ষতি পূরন পাওয়া যায়। অনুরূপভাবে অগ্নিকান্ডের ক্ষেত্রে অগ্নিবীমা ও জাহাজডুবির ক্ষেত্রে সমুদ্রবীমা করা যেতে পারে।

(া) মোড়কীকরণঃ

মোড়কীকরণ একটি প্রকৃতির সুরক্ষা ব্যবস্থা। আমরা যে সকল স্বাভাবিক খাবার, যেমন – কলা, আম, কমলা, আখ ইত্যাদি খাই তাহা মোড়ক সমতুল্য পুরু খোসা দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে বলেই ঐসব খাবারের খাদ্য ও পুষ্টি গুন অক্ষুন্ন থাকে। অনুরূপভাবে ওষুধসমূহ উপযুক্ত মোড়কে আচ্ছাদিত থাকে বলেই উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে রোগী কতৃক সেবন পর্যন্ত তার রোগ নিরাময় করার ক্ষমতা অক্ষুন্ন থাকে। মোড়কের সংজ্ঞা নিম্মরূপ – মোড়কীকরন হল কলা ও বিজ্ঞান যার সমন্বয়ে কোন পন্যকে পরিবহন, মজুদকরন, প্রদর্শন ও ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত করে প্রস্তুত করা হয়। কোন ওষুধ সামগ্রী অত্যন্ত যতেœর সংগে উৎপাদন করার পর যদি অবহেলার সংঙ্গে মোড়কীকরন করা হয় তবে বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। বিভিন্ন মালামাল থেকে বিভিন্ন আকার আয়তনের পাত্র বা ধারক (Containers) তৈরী করা হয়। ফলে ওষুধ ও মোড়কীকরন বস্তুর মধ্যে মিথস্ক্রিয়া (Interaction) হতে পারে। এর ফলে ওষুধ তার কার্যকরীতা হারাতে পারে, এদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।

(v) বিজ্ঞাপন ও প্রচারনা

উৎপাদক-ব্যবসায়ী ও ভোক্তার মধ্যে পন্যের সহজলভ্যতা ও প্রয়োগবিধি বা ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্যাদি ও জ্ঞানের গ্যাপ বা শূন্যতা পুরন করে বিজ্ঞাপন ও প্রচারনা। বিজ্ঞাপনের মূল লক্ষ্য হলো চাহিদার সৃষ্টি করা আর পন্যের বিক্রি বাড়ানো। বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হলো – টিভি , রেডিও, সংবাদ পত্র, ম্যাগাজিন, দেয়াল পত্রিকা, বুকলেট, ফ্রি স্যাম্পল, বানিজ্য মেলা, প্রদর্শনী ও বেলুন ও উম্মুক্ত জানালায় কাচের বক্সে প্রদর্শনীর জন্য পন্য সাজিয়ে রাখা ইত্যাদি।

অর্থনীতির উপাদান

অর্থনীতি কী?

অর্থনীতি হলো একটি সামাজিক বিজ্ঞান যাহা ব্যাক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের আর্থিক সমস্যার উপর আলোকপাত করে। অন্য কথায় অর্থনীতি বলতে মানব চাহিদা মিটানো ও স্থিতিশীল উন্নয়নের জন্য সম্পদের যথোপযুক্ত বন্টন ও ব্যবহারকে বুঝায়।

মানুষের চাহিদা অসীম কিন্তু সম্পদ সীমিত। সেজন্য সম্পদের বৃদ্ধি ও চাহিদা যথাসম্ভব মিটানোর জন্য প্রতিটি মানুষ কোন না কোন রকম অথ্যনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়। যেমন – ব্যবসায়ী অধিক মুনাফা অর্জনের জন্য ব্যবসা করেন, ডাক্তার রোগীর কাছ থেকে সেবার বিনিময়ে ফি নেন, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মাস শেষে বেতন পান, শ্রমিকরা মজুরী পান ইত্যাদি। আবার কিছু কাজ আছে যাহা সমাজের চোখে খুবই গুরুত্বপূর্ন কিন্তু অর্থনৈতিক কর্মপরিধির আলোকে সম্পদের বৃদ্ধি ঘটায় না। যেমন – গৃহিনীর গৃহকর্ম, বেকারের সারাদিন ঘুওে বেড়ানো বা তাসখেলা, অবৈতনিকভাবে সমাজকল্যান কাজে সময় ব্যয় করা ইত্যাদি।

অর্থনীতির উপাদানগুলি নিম্মরূপ –

১। অর্থনৈতিক কার্যাবলী

২। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা

১। অর্থনৈতিক কার্যাবলী

সীমিত সম্পদের উত্তম ব্যবহার দ্বারা বিভিন্ন চাহিদা মিটানোর জন্য নিম্মলিখিত অর্থনৈতিক কার্যাবলী গ্রহন করা হয় –

ক) কোন শিল্প কারখানা বা হাসপাতালে ওষুধ বা ওষুধের কাঁচামাল ক্রয়ের প্রয়োজন হলে শুধুমাত্র অতি দরকারী কাঁচামাল বা ওষুধ ক্রয় করতে হবে। যে পরিমান লোকবল না হলেই নয় শুধুমাত্র সে পরিমান লোকবল নিয়োগ করতে হবে। কোন ভাবেই অতিরিক্ত লোক নিয়োগ দেয়া যাবে না।

খ) আর্থিকভাবে সাশ্রয়ী ও লাভজনক পন্য ও সেবা সামগ্রী উৎপাদন করতে হবে।

গ) পন্য ও সেবা সামগ্রী ক্রয় বিক্রয়ের সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যাতে সবচেয়ে কমদামে কেনা যায় আর ভালো মুনাফা পেয়ে বিক্রি করা যায়।

২। আর্থিক ব্যবস্থাসমূহ

সমাজ ব্যবস্থা বা রাষ্ট্র ব্যবস্থার যে উৎপাদন ও বিতরন ব্যবস্থা তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই আর্থিক ব্যবস্থা নির্ধারিত হয়। আর্থিক ব্যবস্থাসমূহ নিম্মরূপ –

(i) ধনতান্ত্রিক বা পূঁজিবাদী ব্যবস্থা

(ii) সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী ব্যবস্থা এবং

(iii) মিশ্র ব্যবস্থা

(i) ধনতান্ত্রিক বা পূঁজিবাদী ব্যবস্থা

এটাকে মুক্ত বাজার অর্থনীতিও বলা যায়। এ ব্যবস্থায় উৎপাদক যেকোন পন্য উৎপাদন করতে পারন, যেকোন সম্পদ ক্রয় করতে পারেন্ আবার ভোক্তারাও তাদের চহিদা মিটানোর জন্য যেকোন পন্য যেকোন পরিমান কিনতে পারেন। আরো যে স্বাধীনতা ভোক্তারা পান সেটা হলো তারা তাদের আয় উপার্জন নিজেদের খুশীমত খরচ করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় সাধারনত উৎপাদনের ও বিতরনের পন্থা সমূহ ব্যক্তি মালিকানায় থাকে এবং তারা তাহা পরিচালনা করে মুনফা অর্জন করতে পারেন। এই ব্যবস্থায় সরকারের ভূমিকা রেফারির মত্ উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষা করেম উৎপাদকদের মধ্যকার অসুস্থ প্রয়োগিতা বন্ধ করে কোন উৎপাদকের একক অধিপত্র খর্ব করে সাশ্রয়ী মূল্যে মানুষ যেন পন্য ও সেবা পেতে পারে সে ব্যবস্থা করা

(ii) সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী ব্যবস্থা

এই অর্থ ব্যবস্থায় বড় বড় কল কারখানার মালিক বা নিয়ন্ত্রক সরকার। বিতরন ও বিপনন ব্যবস্থাও সরকার কতৃক পরিচালিত হয়।

(iii) মিশ্র ব্যবস্থা

উপরোক্ত দুটি অর্থ ব্যবস্থার ভালো দিক গুলির সমন্বয়ে মিশ্র অর্থনীতি গড়ে উঠে। পূঁজিবদী ব্যবস্থার ভালো দিক হলো – শ্রেয়ত্তর আর্থিক উন্নয়ন, উৎপাদনের বর্ধিত হার ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার। পক্ষান্তরে সাম্যবাদী অর্থনীতির ভালো দিক গুলি হলো – উপার্জনের অসমতা হ্রাসকরন, বড় ও মৌলিক শিল্পগুলি সরকারের নিয়ন্ত্রনে থাকে আর ভোগ্য পন্য সমূহের ন্যায্য বন্টন নিশ্চিত করা হয়। মোট কথা হল মিশ্রনীতিতে একটি রাষ্ট্রের অর্থ-ব্যবস্থার কিছু উপাদান সরকার নিয়ন্ত্রন করে আর কিছু উপাদান ব্যক্তি মালিকানায় ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে অর্থ ব্যবস্থাটি কল্যানকর ব্যবস্থা হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করে।

৫। ব্যবস্থাপনা

বিভিন্ন ব্যবসায়-বনিজ্যিক কার্যক্রমের সুষ্ঠ পরিচালনা ও সামঞ্জস্য বিধান করাকে ব্যবস্থাপনা বলে। ছোট ওষুধের দোকান থেকে বড় হাসপাতাল, ওষুধ কারখানা বা অন্যকোন সংগঠন সবারই নিজস্ব ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি রয়েছে। দক্ষ ও সুস্থির ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোন প্রতিষ্ঠানই স্থায়ীত্ব পায়না।

ওষুধ ব্যবস্থাপনা

ব্যবস্থাপনার মূলনীতি ও চর্চ্চা সমূহ যখন ঔষুধ ব্যবসায় প্রয়োগ করা হয় তখন তাকে ওষুধ ব্যবস্থাপনা বলে। টেয়ারীর মতে ব্যবস্থাপনার সংজ্ঞা – পরিকল্পনা, সংগঠন, কর্মতৎপরতা ও নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে মানব সম্পদ ও অন্যান্য সম্পদ ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের কর্মপন্থা নির্ধারন ও সম্পাদনকে ব্যবস্থাপনা বলে। মূলকথা হলো – ব্যবস্থাপনা হলো প্রতিষ্ঠানের নানাবিধ কর্মকান্ড পরিচালনার কৌশল ও বিজ্ঞান সম্মত উপায়।

ব্যবস্থাপনার উপাদান সূমহ

ব্যবস্থাপনার উপাদান সূমহ নিম্মরূপ –

(১) পরিকল্পনা

(২) সংগঠিতকরা

(৩) কর্মীনিয়োগ

(৪) পরিচালনা

(৫) নিয়ন্ত্রন ও

(৬) সমন্বয়

(১) পরিকল্পনা

পরিকল্পনা একটি অতি গুরুত্বপূর্ন বিষয় কারন ব্যবস্থাপনার সকল কার্যক্রম পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। একটি ঔষুধের দোকান স্থাপন করতে গেলে আর্থিক সামর্থের পাশাপাশি নিচের বিষয়গুলিও ভাবতে হবে –

-কি করতে হবে

-কখন ও কোথায় করতে হবে

-কিভাবে করতে হবে

-কোন ধরনের ওষুধের দোকান স্থাপন করা হবে

-ভবন ও আসবাব পত্র কেমন হবে

-কতজন দক্ষ ফার্মাসিস্ট ও অন্যান্য কর্মী লাগবে

-তাদের বেতন ভাতা কেমন হবে

-বাৎসরিক আয় কত হতে পারে

-ভালো মানের ওষুধ ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করা যাবে কিনা? ইত্যাদি

২। সংগঠিত করা

সংগঠন বলতে বুঝায় একদল লোক একটি সাধারন উদ্দেশ্য সাধনের নিমিত্তে মিলেমিশে কাজ করা। সুতরাং উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সঠিক লোককে সঠিক জায়গায় বসাতে হবে।

৩। কর্মী নিয়োগ

ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব হলো সুনির্দিষ্টি কাজ করার জন্য সবচেয়ে যোগ্য দক্ষ লোক বাছাই করা। কর্মী ব্যবস্থাপনায় যে বিষয় গুলিকে প্রাধান্য দিতে হবে তাহলো – নিয়োগ, বাছাই, ট্রেনিং দেয়া, উন্নয়ন, উপযুক্ত বেতন ভাতা প্রদান ও চাকুরী থেকে প্রয়োজনে বরখাস্ত করন।

একটি হাসপাতাল ফার্মেসীতে যে ধরনের লোকবল দরকার তাহল –

– নিবন্ধনকৃত ফার্মাসিষ্ট

– দক্ষ কর্মী

– অদক্ষ কর্মী

– কেরানী / দাপ্তরিক কর্মী

সকল কর্মীকে তার কাজের বিবরন ও কর্মস্থল সম্পর্কে ওয়াকিরহাল থাকতে হবে। সকল কর্মীকে সর্বোত্তম পন্থায় তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে সচেষ্ট থাকতে হবে কারন তাদেরক মনে রাখতে হবে যে, তারা রোগীর স্বাস্থ্য সেবার কাজে নিয়োজিত আছেন। সকল কর্মীকে নিজেদের মধ্যে ও অন্যান্য কর্মীদের মধ্যে সুম্পর্ক বজায় রাখতে হবে।

৪। পরিচালনা

সংগঠনের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য সকলে যেন দক্ষতা ও কার্যকর ভাবে প্রতিটি কর্ম সুচারুরূপে সম্পন্ন করে সেজন্য কতৃপক্ষকে যথোপযুক্ত নির্দেশনা দিতে হবে। নির্দেশনা প্রদান ও নিয়ন্ত্রন করার জন্য একজন ব্যবস্থাপকের নেতৃত্বদান করার গুনাবলী থাকতে হবে যাতে তিনি অধীনস্থ লোকজনকে প্রভাবিতম মটিভেট ও আনুগত্য বজায় রাখতে পারেন।

৫। নিয়ন্ত্রন

একজন ব্যবস্থাপকের তার অধীনস্থ লোকজনের উপর পূর্ন নিয়ন্ত্রন থাকতে হবে। তার মানে হলো প্রতিটি কর্মী নিয়ম ও নির্দেশনা মেনে প্রতিটি কাজ সম্পাদনা করবেন। তবে অযাচিত ও অন্যায় ভাবে কারো কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। তাহলে প্রতিষ্ঠানে বিশৃংখলা দেখা দিবে।

৬। সমন্বয়

ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যের সফল বাস্তবায়নের জন্য কতৃপক্ষকে খেয়াল রাখতে হবে যে, প্রতিটি কর্মী ইউনিট ও প্রতিটি ব্যক্তি যেন তার উপর অর্পিত কাজটি ভাল করে বুঝেন এবং দক্ষতার সংঙ্গে সম্পন্ন করেন। সকলে সকলের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে মিলেমিশে কাজ করলেই কেবল প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য সফলতার মুখ দেখবে।


 

ড. মোঃ শাহ এমরান
অধ্যাপক
ফার্মাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগ,ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কো-অরডিনেটর,মলিকুলার ফার্মাকোলজি ও হারবাল ড্রাগ রিসার্চ ল্যাবোরেটরী
কনভেনার,“দ্যা ফার্মেসি গিল্ড অফ বাংলাদেশ (PGB)”

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 950 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ