রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র ( র্পব –৫ )

Print

রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র।

[Retail and Hospital Pharmacy : The choice of the next generation Pharmacists]

আমাদের দেশে ওষুধের দোকান কিভাবে পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন সিলেবাস নাই। ইন্ডিয়ার ডিপ্লোমা ফার্মেসী ও আমাদের দেশের ’সি গ্রেড’ ফার্মেসীর সিলেবাসের আলোকে রিটেইল ফার্মেসীর উপর ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করছি।

বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী মিলিয়ে মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসী বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয় বা ফার্মেসী বিষয়টি পড়ানো হয়। সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে বার্ষিক কোর্স পদ্ধতি আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টার ধরে হিসাব করলে প্রতি বছরপ্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার) ফার্মাসিস্ট পাশ করে বের হয়। এখনো পর্যন্ত ফার্মাসিস্টদের চাকুরির ক্ষেত্র শুধুমাত্র ওষুধ শিল্প কারখানা বিধায় গড়ে ২০০ (দুই শত) এর বেশি চাকুরির পদ সৃষ্টি হয় না। তাহলে এইসব নবীন ফার্মাসিস্ট কোথায় যাবেন? তাঁদের চাকুরির ক্ষেত্রকোথায়? নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর একটি বড় ক্ষেত্র হলো রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী যাহা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয়, লোভনীয় ও পছন্দের কর্মক্ষেত্র।

রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী কী? এগুলি কিভাবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে হয়? ফার্মাসিস্ট কিভাবে সেখানে চিকিৎসা সেবা ও ফার্মেসী সেবা দান করবেন? রোগীর সাথে একজন ফার্মাসিস্ট কিরূপ আচরণ করবেন? কেমন স্থানে এগুলি স্থাপন করতেহয়? কি পরিমান মূলধন লাগে? আবার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে কিভাবে এগুলিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা যায় এইসব বিষয় এখানে আলোচনা করা হবে।

সেই অর্থে নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমুহ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে এই লেখাটি হবে। আশা করি লেখাগুলি যাদের জন্য লেখা তাঁরা বিবেচনায় নিবেন এবং এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জনসেবায়, মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ করে দিবেন।

অধ্যায় ২
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রেনী বিভাগ
(Classification of Business Organizations)

২.১. সূচনা
সাধারন ভাবে ব্যবসায় বলতে যেকোন ধরনের আর্থিক কর্মকান্ডে ব্যস্ত থাকাকে বুঝায়। একজন ব্যবসায়ী পন্য ও সেবা সামগ্রী উৎপাদন ও বিনিময়ের ( ক্রয়-বিক্রয়)  কাজে নিয়োজিত থাকেন যেন এ থেকে মুনাফা অর্জন করতে পারেন। শিল্প ও বানিজ্য বলতে উৎপাদন, মোড়কীকরন, দামজাতকরন, পরিবহন ও বিক্রয় জনিত কার্যক্রমকে বুঝায় এবং এসব কার্যক্রমের একমাত্র উদ্দেশ্য হল মুনাফা অর্জন করা। এসব শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসূমহ একজন ব্যক্তি বা একদল ব্যক্তির সমন্বয়ে পরিচালিত হতে পারে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ফার্ম, এন্টারপ্রাইজ ও কনসার্নও বলা হয়।
২.২. ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বৈশিষ্ট্য সমূহ
(ক) ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে সফল ভাবে পরিচালনার জন্য বিনিয়োগকৃত অর্থের চেয়ে বেশী যেন ফেরত আসে অর্থাৎ মুনাফা অর্জিত হয় এটিই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রধান উদ্দেশ্য।
(খ) প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পন্য বা সেবা সামগ্রী উৎপাদন ও ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে নিয়োজিত থাকে।
(গ) নিরবিচ্ছিন্ন ও নিয়মিতভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা।
(ঘ) ভোক্তাদেরকে যেরূপ তারা চায়, যে জায়গায় তারা চায়, যে পরিমান তারা চায়, যে সময়ে তারা চায় এবং যে মূল্যে তারা ক্রয় করতে পারবে সেরূপ মূল্যে পন্য ও সেবা সামগ্রী পৌছে দেয়া এটা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সামাজিক দায়িত্ব।
(ঙ) সকল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানই সব সময় কিছু ঝুঁকির সম্মুখীন থাকে। যেমন – প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক অসন্তোষ,ঋন খেলাপী হওয়া, পলিসির পরিবর্তন, চাহিদা এবং জীবনযাত্রার মান ও ধরনে পরিবর্তন ইত্যাদি।
২.৩। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের শ্রেনীবিভাগ
মালিকানার উপর ভিক্তি করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে নিম্মোক্ত ভাবে শ্রেনী বিভাজন করা যায়। যথা –
ক) ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান বা এন্টার প্রাইজ
i) একক মালিকানা
ii) যৌথ মালিকানা
iii) অংশিদারী
iv) জয়েন্ট স্টক কোম্পানী
v) সমবায় সমিতি
খ) সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান
১. বিভাগীয় প্রতিষ্ঠান
২. পাবলিক কর্পোরেশন
৩. সরকারী কোম্পানী


নিচে প্রতিটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সংক্ষিপ্ত বর্ননা দেওয়া হল –
ক) ব্যক্তি মালিকানা প্রতিষ্ঠান বা এন্টার প্রাইজ
i) একক মালিকানা
যখন কোন ব্যক্তি নিজ অর্থে ও নিজ ব্যবস্থাপনায় কোন ব্যবসায় শুরু করেন, তখন এটাকে একক মালিকানা ব্যবসা বলে। এতে ব্যক্তি একক ভাবে সমস্ত অর্থের যোগান দেন। এককভাবে সকল কার্যক্রম নিয়ন্ত্রন করেন। আবার সকল ঝুঁকি বা দায়দয়িত্বও তিনিই বহন করেন। একক মালিকানার ব্যবসায় সবচেয়ে সহজ ও সবচেয়ে প্রাচীন ব্যবসা পদ্ধতি। ব্যবসা করার মানসিকতা আছে এবং পর্যাপ্ত টাকা পয়সাও আছে এমন ব্যক্তিগন এরকম ব্যবসা শুরু করতে পারেন। এ ধরনের ব্যবসায় আইনী জটিলতা নেই বললেই চলে। যে কোন ব্যক্তি সাধারন দোকান থেকে শুরু করে ওষুধের দোকান (Drug store or Retail pharmacy) স্বল্প মূলধনে শুরু করতে পারেন।
সুবিধা সমূহ –
১) এটি শুরু করা বেশ সহজ ও ঝামেলাহীন
২) ব্যক্তিগত তহবিল বা আত্মীয় স্বজনদের নিকট থেকে ধার নিয়ে অল্প পরিমান মূলধন দিয়ে এটি শুরু করা যায়
৩) নিজ খুশীমত মূলধন বাড়ানো বা কমানো যায়
৪) ব্যবসার উপর মালিকের পূর্ন নিয়ন্ত্রন থাকে। এজন্য তিনি যেকোন সময় যেকোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন
৫) ব্যবসায় গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব হয়
৬) মালিক যে কোন সংখ্যক ব্যক্তিকে এককভাবে নিয়োগ বা চাকুরিচ্যুত করতে পারেন
৭) ব্যবসার সকল আয় মালিক এককভাবে পাবেন বলে সর্বোচ্চ মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করেন
৮) মালিক ভোক্তাদের সরাসরি সংযোগে থাকেন বলে তিনি তাদের রুচি, মন-মেজাজ-মর্জি, অভ্যাস ইত্যাদি বুঝতে পারেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন
৯) ব্যবসায়ি নিজে বা তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা বা অতি বিশ্বস্ত কর্মচারী ব্যবসা দেখাশুনা করে বলে মাথাপিছু খরচ কম
১০) আইনী জটিলতা ছাড়াই মালিক ব্যবসা পরিবর্তন বা বন্ধ করে দিতে পারেন
১১) স্ব-কর্মায়নকে উৎসাহিত করে বলে এটি সবচেয়ে উপযোগী এবং পেশাজীবীদের জন্য এটি উত্তম কর্মক্ষেত্র। এ কারনে ফার্মাসিষ্টরা একক মালিকানায় ওষুধ ব্যবসা (Drug store or Retail pharmacy) শুরু করতে পারে।
অসুবিধা সমূহ –
১) সীমিত অর্থ সম্পদের কারনে একক মালিকানার ব্যবসার সম্প্রসারন করা দুরূহ ব্যাপার
২) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ না হলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে। দক্ষ পেশাজীবীর সাহায্য নিতে হয়
৩) ছোট ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি সীমাবদ্ধ
৪) অর্থবল ও জনবলের অভাবের কারনে কাংখিত বিকাশ হয় না
৫) পন্য আনা-নেওয়ার জন্য সরবরাহকারী ও শ্রমিকের উপর নির্ভর করতে হয়, সব সময় ব্যবসায় সময় দিতে হয় বলে সামাজিক অনুষ্ঠানে বা কার্যক্রমে মালিক সময় দিতে পারেনা
৬) মালিকের অসুস্থতা, অদক্ষতা ও মৃত্যুজনিত কারনে উপযুক্ত উত্তরাধিকারী না থাকলে এ ব্যবসা সম্পূর্ন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও একক মালিকানার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান পৃথিবীতে সর্বোত্তম প্রতিষ্ঠান এবং মালিক দক্ষ ও বুদ্ধিমান হলে এতে প্রভূত উন্নতি সাধন করা সম্ভব।
ii) যৌথ মালিকানার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা একান্নবতী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান
পিতা পিতামহ বা প্রপিতামহ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ বা ব্যবসাকে যৌথ ব্যবসা বা যৌথ পারিবারিক ব্যবসা বলে। পুত্র-প্রপুত্র-প্রপ্রপুত্র জন্মসূত্রেই ব্যবসার মালিক হন। তিনি প্রজন্মসূত্রে এই সম্পদের মালিক হন এবং জীবিত পুরুষ সদস্যদের মধ্যে যিনি বয়োজোষ্ঠ্য তিনি সামগ্রিক ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং তাকে ‘কর্তা’ বলে ডাকা হয়।
সুবিধা সূমহ –
১) কোন সদস্যের অক্ষমতা ও মৃত্যুজনিত কারনে ব্যবসার অস্তিত্ব বজায় থাকে এবং স্থিতিশীল থাকে
২) পরিবারের সকল সদস্যকে কর্মে নিযুক্ত করা যায়। ফলে বাইরে চাকুরী খুঁজতে হয় না বা বাইরে থেকে কাউকে নিয়োগ দিতে হয় না। এমনকি অশিক্ষিত ও অদক্ষ সদস্যরা চাকুরী বা কাজ করতে পারেন
৩) ব্যবসাকে সুসংগঠিত ও সুনিয়ন্ত্রিত রাখা যায়
৪) ব্যবসয়িক গোপনীয়তা বজায় রাখা যায়
৫) সর্বোচ্চ সংখ্যক বা ২০ জনের অধিক সদস্য হলেও জয়েন্ট স্টক কোম্পানী হিসাবে নিবন্ধন করতে হয় না
৬) শুধু মাত্র পরিবারের সদস্যদের মধ্যেই লভ্যাংশ বন্টন হয়।
অসুবিধাসূমহ –
১) যদি কোন সদস্য প্রতারনা করেন বা ব্যবসায় মনোনিবেশ না করেন তবে মত ভিন্নতা দেখা যায় এবং ব্যবসা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে
২) ব্যবসার বন্টন নিয়ে ঝগড়া বিবাদ লাগতে পারে
৩) আর্থিক সম্পদ তুলনামূলক ভাবে সীমিত
৪) একান্নবতী থাকা না থাকার উপর ব্যবসার স্থিতিশীলতা ও স্থায়িত্বশীলতা নির্ভর করে।
iii) অংশিদারী কারবার
যখন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি অর্থ, শ্রম ও দক্ষতা এবং মুনাফা ও ক্ষতি সমভাবে ভাগাভাগি করে নেওয়ার মানসে একত্রিত হয়ে কোন ব্যবসা শুরু করেন, তখন ঐ ব্যক্তিদ্বয়ের বা ব্যক্তিবর্গকে অংশীদার এবং পুরো ব্যবসায়ীক কর্মকান্ডটিকে অংশিদারী কারবার নামে অভিহিত করা হয়। অংশীদারী আইন, চুক্তি আইন ও কোম্পানী আইন মোতাবেক অংশীদারী কারবারের বিধিবিধান গুলো নির্ধারিত হয়। একক মালিকের আর্থিক অস্বচ্ছলতা, ব্যবস্থাপনায় অদক্ষতা, জনবলের অভাব ও সুযোগ সুবিধার অভাবের কারনে অংশীদারী কারবারের উৎপত্তি হয়। ব্যক্তিবর্গের মধ্যে আইনগত চুক্তির মাধ্যমে এই ব্যবসা শুরু হয়। আর এই চুক্তি মৌখিক বা লিখিত হতে পারে। লিখিত চুক্তিকে “অংশীদারী চুক্তি” বলে। চুক্তির শর্ত মতে কোন অংশীদার তার অংশ (Share) অন্য অংশিদারকে না জানিয়ে বাইরের কারো কাছে বিক্রি করতে বা হস্তান্তর করতে পারবেন না। ব্যবসার মুনাফা ও ক্ষতি অংশীদারদের মধ্যে চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী বন্টিত হবে।
সুবিধা সূমহ –
১) অংশীদারী কারবার শুরু করা সহজ। দুই বা ততোধিক সমমনা ব্যক্তি একত্রিত হয়ে এটি করতে পারে। মৌখিক বা লিখিত চুক্তির ভিক্তিতে এটি শুরু করা যায়। আইনগত জটিলতাও কম
২) অংশিদারগন নিজস্ব অর্থ সম্পদ একত্রিত করে এটি শুরু করতে পারেন এবং ঐকমত্যের ভিক্তিতে বিভিন্ন উৎস থেকে মূলধন সংগ্রহ করতে পারেন
৩) অভিজ্ঞ অংশীদারগন ব্যবসার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন
৪) অল্প সময়ের নোটিশে একত্রিত হয়ে অংশীদারগন যেকোন বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন
৫) ব্যবসার গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্ভব
৬) অংশীদারগন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও উৎসাহী হলে দ্রুত ব্যবসার সম্প্রসারন ও প্রভূত উন্নতি সাধন সম্ভব। কেননা এত সবাই মিলে বেশ বড় আকারের মূলধন নিয়ে কাজ শুরু করতে পাওে, কাজের ধরন বুঝে কাজ ভাগ করে নিতে পারেন, উত্তম পরিচালনা ব্যবস্থা বহাল করে ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন
৭) ক্ষতি হলে এটা সবাই সমানভাবে বন্টন করে নেবেন
৮) কোন একজন অংশীদার ইচ্ছা করলে বা অতি দরকারে ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারেন
৯) অংশীদারগন সৎ ও নিষ্ঠাবান হলে অধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব।
অসুবিধা সূমহ –
১) অংশীদারী কারবরে খুব বড় আকারের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনা করা সম্ভব নয়। কেননা অংশীদারের সংখ্যা ২০ জনের বেশী হবে না। ফলে বড় আকারের মূলধনও সংগ্রহ সম্ভব নয়।
২) অংশীদারদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি ও সমন্বয়হীনতার কারনে এ ধরনের ব্যবসা দীর্ঘস্থায়ী হয় না ।
৩) যদি কোন অংশীদার অতি অল্প সময়ে নোটিশে ব্যবসা ছেড়ে দিতে চান আর অন্য অংশীদারগন সেটা কিনতে না পারেন, তবে ব্যবসাটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৪) সব অংশীদারের সম্মতি ছাড়া কোন একজন অংশীদার তার মুনাফা বা মূলধন বাইরের কাউকে হস্তান্তর করতে পারেন না।
৫) অসাধু বা অযোগ্য অংশীদারের ক্ষেপামীর কারনে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
৬) অংশীদারের ব্যাংক একাউন্ট গোপন থাকে বলে এবং এসমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যে কোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে সাধারন মানুষ এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের উপর আস্থা রাখতে পারেনা এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানকে ঋন দিতে বা ধারে পন্য ও সেবা সামগ্রী দিতে অনীহা বোধ করে।
৭) এ ধরনের প্রতিষ্ঠান ক্ষতির সম্মুখীন হলে পাওনাদারগন অংশীদারের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ করে তাদের পাওনা আদায় করতে পারে না। আর এটাই অংশীদারী কারবারের সবচেয়ে বড় অসুবিধা ।
অংশিদারী কারবারের প্রকারভেদ
অংশিদারী কারবারের অংশিদারগন নিমোক্ত শ্রেনীর হতে পারে।

যথা – ১. সক্রিয় বা কর্মরত অংশিদার, ২. ঘুমন্ত বা নিস্ক্রিয় অংশিদার, ৩. নামমাত্র অংশিদার, ৪. শুধুমাত্র মুনাফা ভোগী অংশিদার, ৫. গোপন অংশিদার ৬. দালাল শ্রেণীর অংশিদার, ৭. নামকা ওয়াস্তে অংশিদার ও ৮. অপ্রাপ্ত বয়স্ক অংশিদার
প্রতিষ্ঠানের অংশীদারের সংক্ষিপ্ত বিবরন তুলে ধরা হলোঃ

১। সক্রিয় বা কর্মরত অংশিদার (Active Partner)
সক্রিয় বা কর্মরত অংশিদার হলেন তিনি যিনি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহনের করেন। মূলধন সংগ্রহেও তিনি অংশ নেন। কাজের ধরন ও চুক্তির ধরন অনুযায়ী তাকে নির্দিষ্ট হারে সম্মানী প্রদান করা যেতে পারে। বাস্তবিক অর্থে এমন অংশিদারই ব্যবসার মূলব্যক্তি হিসবে পরিগনিত হন।
২। ঘুমন্ত বা নিস্ক্রয় অংশিদার (Sleeping Partner)
প্রতিষ্ঠানের মূলধন বা পুঁজি সংগ্রহে অংশ নেন কিন্তু দৈনন্দিন কাজে অংশ নেন না। তারাই ঘুমন্ত বা নিস্ক্রিয় অংশিদার। এসব অংশিদারগন মুনাফা ও ক্ষতি দুটোই ভোগ করেন। আবার ব্যবস্থাপনার ব্যাপারে ও ভূমিকা রাখতে পারেন, কিন্তু অংশিদার হিসাবে জনসম্মুখে তাদের নাম প্রকাশ করা হয় না।
৩। নামমাত্র অংশিদার
এ ধরনের অংশিদারগন পূঁজি গঠন ও দৈনন্দিন কাজে অংশ নেন না, শুধু মাত্র তার নাম ও খ্যাতিকে কাজে লাগানোর জন্য তার নাম যুক্ত করা হয়। একজন নামমাত্র অংশিদার লাভ ভোগ করে না কিন্তু দেনার দায় নিতে হয়।
৪। মুনাফাভোগী অংশীদার
এ ধরনের অংশিদারগন শুধুমাত্র মূলধন বা পূঁজি গঠনে অংশ নেন এই মর্মে যে তারা শুধু মুনাফা ভোগ করবেন, কিন্তু ক্ষতির অংশ নেবেন না। তবে তারা পাওনাদারদের কাছে দায় মেটাতে দায়ী থাকবেন। এই ধরনের অংশিদারগন শুধুমাত্র তাদের টাকা ও সুনাম ব্যবসার কাজে লাগনোর জন্য অংশিদার হয়ে থাকেন।
৫। গোপন অংশিদার
এ ধরনের অংশিদারগন ব্যবসার অংশিদার হলেও বাইরের কাউকে জানতে দিতে চান না যে তিনি অংশিদার। এরা ব্যবসা পরিচালনার কাজে অংশ নিতে পারেন এবং দায় দেনারও অংশ নেন।
৬। দালাল শ্রেনীর অংশিদার
এরা পূঁজি গঠন বা ব্যবস্থাপনায় অংশ নেন না কিন্তু বাইরের মানুষের কাছে এমন ধারনা দেন যেন তারা প্রতিষ্ঠানের অংশিদার। তাদের আচার আচরনের বাইরের মানুষের তাদের উপর আস্থা রেখে প্রতিষ্ঠানে ধার নিতে বাধ্য।
৭। নামকা ওস্তাদে অংশিদার
যখন কোন ব্যক্তির নাম অংশিদার হিসাবে ঘোষনা দেওয়া এবং তিনি তা প্রত্যাখান করেন না তখন তাকে নামকা ওয়াস্তে অংশিদার বলে। তাঁরাও কোম্পানীর দায় নিতে বাধ্য।
৮। অপ্রাপ্ত বয়স্ক অংশিদার
বয়স আঠারো এর নিচে হলে ঐ অংশিদারকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক অংশিদার বলে। সবার সম্মতিতে সে সদস্য হিসাবে গন্য হবে এবং ব্যবসায় সম্পদ ও লভ্যাংশ ভোগ করতে পারবে।
অংশিদারীত্বের প্রকারভেদ
অংশিদারীত্ব দুই ধরনের। যথা – ১। সাধারন অংশিদারীত্ব, ২। সীমিত অংশিদারীত্ব
সাধারন অংশিদারীত্ব
যে অংশিদারীত্বে অংশিদারদের দায়-দেনার পরিমান অসীম এবং কোন কারনে প্রতিষ্ঠানের দেনার পরিমান মূলধনের চেয়ে বেশি হলে পাওনাদরগন অংশিদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তা আদায় করতে পারবেন, তাকে সাধারন অংশিদারীত্ব বলে। প্রতিষ্ঠানের সকল অংশিদার সমান ভাবে ব্যবস্থাপনার কাজে অংশ নিতে পারবেন।
সীমিত অংশিদারীত্ব
সাধারন অংশিদারীত্ব কারবারের ব্যাপক অসুবিধার কারনে সদস্যগন তাদের পূঁজি খাটাতে চায়না, পরিবর্তে যদি বিনিয়োগকৃত পূঁজির সমপরিমান দায় বহন করতে হয় তবে সেটাই শ্রেয় এবং সে কারনে সীমিত অংশিদারীত্বই ভাল। এই ধরনের অংশিদারীত্বের মূল বৈশিষ্টগুলি নিম্মরূপ –
ক) এতে দুই ধরনের অংশিদার থাকে – যেমন সাধারন অংশিদার ও সীমিত বা বিশেষ অংশিদার। সাধারন অংশিদারদের দায়-দায়িত্ব অসীম আর বিশেষ সদস্যদের দায়-দয়িত্ব সীমিত এবং এটা তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থের সমতুল।
খ) এই ধরনের অংশিদারী কারবারের অন্তত একজন সদস্যকে সাধারন অংশিদার হতে হবে এবং বাকীরা বিশেষ অংশিদার হতে পারবেন।
গ) একজন বিশেষ অংশিদার শুধুমাত্র টাকা লগ্নী করবেন কিন্তু দৈনন্দিন কার্যক্রমে অংশ নিবেন না। তবে তিনি তথ্য জানার জন্য হিসাব নিকাশ চাইতে পারবেন।
) একজন বিশেষ সদস্য দেওলিয়া হলে বা মৃত্যুবরন করলে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে ছেদ পড়েনা। এ কারনে সাধারন অংশীদারীত্বের চেয়ে সীমিত অংশিদারীত্ব অনেক ভাল ও স্থিতিশীল।

iv) জয়েন্ট স্টক কোম্পানী
একক মালিকানা, যৌথ মালিকানা ও অংশিদারী কারবারের নানা রকম সীমাবদ্ধতা, যেমন- অপ্রতুল আর্থিক সম্পদ, দুর্বল ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, সন্দেহজনক লেনদেন ও অসীম দায়-দেনার কারনে এসব সীমাবদ্ধতাকে বিবেচনায় নিয়ে উৎপাদন, পরিবহন, যোগাযোগ ও অনুদানের ক্ষেত্রে আধুনিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও পরিবর্তনশীল বাজার প্রবনতাকে মূখ্য বিষয় বিবেচনা করে নতুন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়। আর এই নতুন ধরনের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম জয়েন্ট ষ্টক কোম্পানী। এই ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরস্পর অচেনা সদস্যদের কাছ থেকে পূঁজি বাজারের মাধ্যমে মূলধন বা পূঁজি সংগ্রহ করা যায়। এধরনের কোম্পানীতে যারা টাকা বিনিয়োগ করেন তাদেরকে শেয়ার হোল্ডার বলে। আর পূঁজি সংগহের জন্য শেয়ার হোল্ডারদের সংখ্যা অনির্দিষ্ট পরিমানে বাড়ানো যায়। এভাবে যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ কোম্পানীতে অর্থলগ্নী করেন, তিনি কোম্পানীর মেম্বার হিসাবে গন্য হন এবং কোম্পানীর পূঁজি মানেই সকল সদস্যদের সম্মিলিত পূঁজি। এজন্য এ ধরনের কোম্পানীকে জয়েন্ট স্টক কোম্পানী বলে। শেয়ার হোল্ডারদের শেয়ার হস্তান্তর যোগ্য। সাধারনত পূঁজি বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার মাধ্যমে নিবদ্ধিত হয়ে সাধারন শেয়ার সাধারন বিনিয়োগ কারীদের মধ্যে (প্রাথমিক শেয়ার) বিক্রির মাধ্যমে পূঁজি সংগ্রহ করা যায়। তবে কোম্পানীর যারা উদ্যোক্তা বা পরিচালক তাদের শেয়ার হস্তন্তরে বিধি নিষেধ রয়েছে। নতুন বিনিয়োগকারী যুক্ত হলে বা পুরাতন বিনিয়োগকরীরা তাদের শেয়ার হস্তান্তর করলে কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা বা পরিবচালনায় কোন প্রভাব পড়েনা। কোম্পানী দেওলিয়া হয়ে গেলে প্রত্যেক বিনিয়োগকারী তার বিনিয়োগের সমানদায় নিতে বাধ্য থাকবেন।
সুবিধাসূমহ –
১. সাধারন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রি করে পূঁজিবাজার (ঝযধৎব সধৎশবঃ) থেকে বিপুল পরিমান মূলধন বা পূঁজি উত্তোলন করা যায়
২. এভাবে পূঁজি সংগ্রহ করে বড় আকারের শিল্প কারখানা স্থাপন করা যায়, বর্তমান ব্যবসার সম্প্রসারন করা যায়, এমনকি নতুন ধরনের ব্যবসাও শুরু করা যায়
৩. এভাবে শেয়ার মার্কেট থেকে পূঁজি উত্তোলনের ফলে মালামাল ক্রয়, ব্যবস্থাপনা, বিতরন ও বিক্রয়ের ব্যাপারে সাশ্রয়ী হওয়া যায়। আর এভাবে কোম্পানীটির সঠিক দক্ষতা বাড়িয়ে ব্যয় হ্রাস করে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায়
৪. শেয়ার হোল্ডারদের দায়-দেনা তাদের নিকট থাকা শেয়ারের অভিহিত মূল্যের সমান বিধায় শেয়ার হোল্ডারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে টানাটানি পড়ে না
৫. কিছু বিধি নিষেধ সত্ত্বেও কোম্পানীর শেয়ার হস্তান্তর যোগ্য এবং একজন লোক যেকোন সংখ্যক শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় (হস্তান্তর) করতে পারেন বলে অনেকেই এতে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়ে থাকেন
৬. সরকারী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সদস্য সংখ্যার কোন বিধি নিষেধ না থাকায় প্রচুর সংখ্যক লোক শেয়ার কিনতে পারেন ফলে বিপুল পরিমান পুঁজি সংগ্রহ করা সম্ভব
৭. এক সদস্য যতখুশী তত শেয়ারের জন্য বিনিয়োগ করতে পারেন
. এটা সাধারন মানুষকে সঞ্চয় করতে ও বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত করে
৯. ঝুঁকি ও দায় দেনার পরিমান শেয়ার হোল্ডারদের মধ্যে সমবন্টিত হয়। ফলে কোন একক ব্যক্তির ক্ষতি হওযার সম্ভাবনা থাকে না
১০. শেয়ার হোল্ডারদের দ্বারা নির্বাচিত ও শেয়ার হোল্ডারদের নিকট দায়বদ্ধ একদল ব্যক্তি যারা পরিচালক হিসাবে খ্যাত তাদের নিকট কোম্পানীর ব্যবস্থাপনার সকল দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে। অর্থাৎ কোম্পানীর মালিকানা শেয়ার হোল্ডারদের হাতে থাকে আর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থাকে পরিচালনা পর্ষদের হাতে। শেয়ার হোল্ডাররা তাদের ভোটের মাধ্যমে পলিসি বা নীতিমালা স্থির করেন আর পরিচালকগন সেই নীতি বাস্তবায়ন করেন
১১. কোন একজন শেয়ার হোল্ডারের মৃত্যু বা দেওলিয়া হওয়ার কারনে কোম্পানীর পরিচালনায় কোন ব্যাঘাত হয় না।
অসুবিধাসূমহঃ- –
১. এ ধরনের কোম্পানী স্থাপন/ প্রতিষ্ঠা করাই মুশকিলের কাজ। কারন আইনী বাধ্যবাধকতার কারনে একগাদা ডুকুমেন্ট কোম্পানীর রেজিষ্ট্রার বরাবর দাখিল করতে হয়।
২. যদিও কষ্টার্জিত অর্থ লগ্নী করে শেয়ার হোল্ডার গন কোম্পানীর মালিক কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে কোম্পানীর ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে তাদের কিছু বলার থাকে না। সমস্ত ব্যবসায়িক কর্মকান্ডে পরিচালক পর্ষদ কতৃক নিয়ন্ত্রিত হয়। কখনো কখনো পরিচালকরা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে।
৩. পরিচালক ও ব্যবস্থাপকগন বেতন ভুক্ত ব্যক্তি বলে তার কোম্পানীর ব্যবসায়িক লাভ/ ক্ষতির ব্যাপারে মাথা ঘামান না।
৪. শেয়ার হোল্ডাগন সারাদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকেন বলে স্বল্প সময়ে নোটিশ মিটিং ডাকা সম্ভব হয় না।
৫. অবিবেচক ও অসাধু পরিচালক কর্তৃক শেয়ার হোল্ডাদের কাছ থেকে সংগ্রহীত পূঁজির অপব্যবহার ও আত্মসাৎ হতে পরে। উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের দ্বারা সম্পত্তি, পন্য ও টাকার অপব্যবহারের ফলে শেয়ার হোল্ডারদের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয় এবং সাধারনের মাঝে আতংক সৃষ্টি হয়। ১৯৯৬ ও ২০১২ সালে বাংলাদেশের শেয়ার বাজারে এমন ঘটনা ঘটেছিল।
৬. কোন কোন সময় ভূয়া কোম্পানীর কতিপয় অসাধু ব্যক্তির যোগসাজসে পুঁজি বাজারে থেকে অর্থ উত্তোলন করে মানুষ ঠকায়।
৭. এ রকম কোম্পানী সহজে বন্ধ করা যায় না।
v) সমবায় সমিতি
শিল্প বিপ্লবের পর শিল্পপতি ও ব্যবসায়িরা ভোক্তা, শ্রমিক ও দুর্বল শ্রেনীর লোকজনকে শোষন করতে শুরু করে। এর জন্য হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে লম্বা কর্মঘন্টা, কমবেতন, উচ্চমূল্য ও নির্বান্ধব কর্মপরিবেশ ইত্যাদি। অর্থনৈতিক দূরবস্থা ও দুরূহ কর্মপরিবেশের কারনে শ্রমিক শ্রেনী ও দুর্বল শ্রেনীর লোকজন পারস্পরিক সাহায্য সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের আর্থিক দূরাবস্থা থেকে মুক্তির পথ খুঁজতে সচেষ্ট হয়। এই উদ্যোগই বিশ্বব্যাপী সমবায় আন্দোলন নামে খ্যাতি লাভ করে। সমাজের দুর্বল শ্রেনীর লোকজনের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার নিমিত্তেই সমবায় আন্দোলন শুরু করা হয়। এভাবে পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে বহুজন লোক মিলে সেচ্ছাসেবী সংগঠন হিসাবে সমবায় সংগঠন গড়ে তোলে। এসকল সংগঠন সমবায় সমিতির আইনের আওতায় নিবন্ধিত হয়ে সমবায় সমিতি নাম ধারন করে এবং সদস্যদের আর্থিক উন্নয়নের ভূমিকা রাখতে সচেষ্ট হয়। সমবায় সমিতির পূঁজি সংগৃহীত হয় এর সদস্যদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে। সমবায়ের আইন অনুযায়ী একজন সদস্য নির্দিষ্ট সংখ্যক শেয়ার কিনতে পারেন। একজন সদস্য নির্দিষ্ট ক্রয়কৃত শেয়ার অন্যের নিকট হস্তান্তর করতে পারেন না। বিক্রয় করতে হলে তা সমবায় সমিতিকে ফেরত দিতে হয়।
সমবায় সমিতির সুবিধাসূমহ –
১. সমবায় সমিতি গঠন করা সহজ। দশজন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি একত্রিত হয়ে সমবায় সমিতি গঠন করতে পারেন। সহজতর আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এভাবে গঠিত সমিতি সমবায় রেজিস্ট্রারের দপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করতে পারে।
২. “মুনাফা নয়-ক্ষতি নয়” ভিত্তিতে পরিচালিত হয় বলে সমবায় সমিতি তার সদস্যদের মধ্যে গুনগত মানের পন্য ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করতে পারে। আর্থিকমন্দা বা দুঃর্ভিক্ষের সময় সমবায় সমবায় সমিতি তার সদস্যদেরকে ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় পন্য সরবরাহ করতে পারে।
. ন্যায্য মূল্যে কিনতে পারে বলে সদস্যদের ক্রয় ক্ষমতা বাড়ে, ফলে জীবনযাত্রার মানও বাড়ে, এর ফলে কালোবাজারী, মজুতদারী, অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন ও শোষন বন্ধ হয়।
৪. শেয়ার অভিহিত মূল্যের সমান দায় সদস্যদেরকে বহন করতে হয় বলে গড়ে তাদের দায় অনেক কম।
৫. সমবায় সমিতি নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে কাজ চালাতে পারে। কোন সদস্যদের মৃত্যু, অস্বচ্ছলতা, অক্ষমতা কিংবা জেল বাসের কারনে এর পরিচালনা থেমে থাকে না।
. শ্রমিক, ভোক্তা, কৃষক ও ম্যবিত্তরা সমবায়ের সমিতির সদস্য হতে পারেন।
৭. সমিতির লোকজন একটি সুনির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে বলে এবং একই ধরনের সামাজিক ও আর্থিক গ্রুপের বলে তাদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়াটা ভাল হয় এবং সমবায় সমিতি সুন্দর ভাবে চলতে পারে।
. সমবায় আন্দোলনকে চাঙ্গা করার জন্য সরকার সমবায় সমিতিগুলোকে বিভিন্ন রকম সহয়তা দিয়ে থাকেন। যেমন- কম সুদে ঋন, ভূর্তকিতে জমি ক্রয়ের সুবিধা এবং কর মওকুফ ইত্যাদি।
সমবায় সমিতির অসুবিধা সূমহ –
.সমবায় সমিতির সাধারনত মূলধন বা পূঁজির অভাব লেগেই থাকে কারন এর সদস্যরা আর্থিক ভাবে দুর্বল শ্রেণীর।
২. সীমিত অর্থ সম্পদের কারনে সমবায় সমিতিগুলো বড় আকারের এবং ঝুঁকিপূর্ন ব্যবসায় নামতে পারেনা।
. মত ভিন্নতার কারনে সমিতিতে দলবাজি শুরু হতে পাওে, এতে সমিতির স্বভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়।
৪. সমিতির কর্তা ব্যক্তিরা নির্বাচিত হলেও দক্ষ অভিজ্ঞ না হওয়ার করনে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৫. অদক্ষতার কারনে পূনঃপূন ক্ষতি, লোকসান হলে, তহবিল তসরূপ হলে, নিয়ম-কানুন পালনে অনীহা দেখা দিলে, সরকারী প্রতিষ্ঠান কতৃক অহেতুক হস্তক্ষেপ করলে ও রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারনে সমবায় সমিতি ঠিকমত কাজ নাও করতে পারে।


খ) সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান
সরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্রিয় প্রতিষ্ঠান নামেও অভিহিত। এগুলোতে স্থানীয় সরকার দ্বারা অর্থ বিনিয়োগ হয় এবং নিয়ন্ত্রিত হয়। শিল্প বিপ্লবের ফলে ব্যক্তি মালিকানায় শিল্প কারখানা গড়ে ওঠে। কিন্তু এসব শিল্প মালিকগন শ্রমিক ও ভোক্তা শ্রেনিকে শোষনের মাধ্যমে পূজিঁর পাহাড় গড়ে তুলতে লাগলে এর থেকে মুক্তির জন্য সরকারী অর্থায়নে ও ব্যবস্থাপনার বড় বড় কলকারখানা স্থাপিত হয় যেখানে বেশি সংখ্যক মানুষ কাজ পায় ও সেসব কোম্পানীতে উৎপাদিত পন্য ও সেবা সামগ্রী ন্যায্য মূল্যে ভোক্তার নিকট পৌঁছাতে পারে। সরকারী অর্থায়নে ও নিয়ন্ত্রনে পরিচালিত এরূপ কিছু প্রতিষ্ঠানের উদাহরন হলো – তেল, গ্যাস অনুসন্ধানর জন্য পেট্রোবাংলা, পরিবহনের ক্ষেত্রে বি আর টি সি, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ওষুধ উৎপাদনের জন্য ইডিসিএল(Essential Drug Company Limited),  সুলভ মূল্যে চিকিৎসা সেবা দানের জন্য সরকারী হাসপাতাল ইত্যাদি।

 


 

ড. মোঃ শাহ এমরান
অধ্যাপক
ফার্মাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগ,ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কো-অরডিনেটর,মলিকুলার ফার্মাকোলজি ও হারবাল ড্রাগ রিসার্চ ল্যাবোরেটরী
কনভেনার,“দ্যা ফার্মেসি গিল্ড অফ বাংলাদেশ (PGB)”

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 2370 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ