রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র ( র্পব – ৬ )

Print

রিটেইল ও হসপিটাল ফার্মেসী : পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের পছন্দের কর্মক্ষেত্র।

[Retail and Hospital Pharmacy : The choice of the next generation Pharmacists]

আমাদের দেশে ওষুধের দোকান কিভাবে পরিচালিত হবে তার সুনির্দিষ্ট কোন সিলেবাস নাই। ইন্ডিয়ার ডিপ্লোমা ফার্মেসী ও আমাদের দেশের ’সি গ্রেড’ ফার্মেসীর সিলেবাসের আলোকে রিটেইল ফার্মেসীর উপর ধারাবাহিক আলোচনা শুরু করছি।

বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী মিলিয়ে মোট ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফার্মেসী বিষয়ে ডিগ্রী প্রদান করা হয় বা ফার্মেসী বিষয়টি পড়ানো হয়। সরকারী বিশ্ব বিদ্যালয়ে বার্ষিক কোর্স পদ্ধতি আর বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দুই সেমিস্টার ধরে হিসাব করলে প্রতি বছরপ্রায় ৬০০০ (ছয় হাজার) ফার্মাসিস্ট পাশ করে বের হয়। এখনো পর্যন্ত ফার্মাসিস্টদের চাকুরির ক্ষেত্র শুধুমাত্র ওষুধ শিল্প কারখানা বিধায় গড়ে ২০০ (দুই শত) এর বেশি চাকুরির পদ সৃষ্টি হয় না। তাহলে এইসব নবীন ফার্মাসিস্ট কোথায় যাবেন? তাঁদের চাকুরির ক্ষেত্রকোথায়? নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর একটি বড় ক্ষেত্র হলো রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী যাহা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ফার্মাসিস্টদের জন্য হতে পারে আকর্ষণীয়, লোভনীয় ও পছন্দের কর্মক্ষেত্র।

রিটেইল, ক্লিনিক্যাল ও হসপিটাল ফার্মেসী কী? এগুলি কিভাবে প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করতে হয়? ফার্মাসিস্ট কিভাবে সেখানে চিকিৎসা সেবা ও ফার্মেসী সেবা দান করবেন? রোগীর সাথে একজন ফার্মাসিস্ট কিরূপ আচরণ করবেন? কেমন স্থানে এগুলি স্থাপন করতেহয়? কি পরিমান মূলধন লাগে? আবার ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান হিসাবে কিভাবে এগুলিকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করা যায় এইসব বিষয় এখানে আলোচনা করা হবে।

সেই অর্থে নবীন ফার্মাসিস্টদের চাকুরীর চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাসমুহ নিয়ে ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে এই লেখাটি হবে। আশা করি লেখাগুলি যাদের জন্য লেখা তাঁরা বিবেচনায় নিবেন এবং এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে জনসেবায়, মানবসেবায় আত্মনিয়োগ করার সুযোগ করে দিবেন।

অধ্যায় ২
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রেনী বিভাগ
(Classification of Business Organizations)

পণ্য ও সেবা সামগ্রী বিতরনের পন্থাসূমহ

৩.১. সূচনা

পণ্য ও সেবা সামগ্রী বাজারজাতকরন বা বিপননের একটি অতি গুরুত্বপূর্ন উপাদান হলো বিতরন প্রনালী। এর চুড়ান্ত উদ্দেশ্য হলো পণ্য ও সেবা সামগ্রীকে ভোক্তা ও ব্যবহারকারী পর্যন্ত পৌঁছে দেয়া। উদ্যোক্তা বা উৎপাদক পণ্য ও সেবা সামগ্রী উৎপাদন করেন, বিজ্ঞাপন-প্রচার-প্রচারনার মাধ্যমে ভোক্তার নিকট এর চাহিদা তুলে ধরেন এবং এর পরের কাজটি হলো ভোক্তার হাতের নাগালে পণ্য বা সেবাটি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা।

“যে পথ ও সংযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোন পণ্য ও সেবা সামগ্রী উৎপাদন স্থল থেকে ভোক্তার হাতের নাগালে পৌঁছে দেয়া হয় তাকে বিতরন প্রনালী বা বিতরন পন্থা বলা হয়”।

উৎপাদক, মজুতদার, পাইকারী বিক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও বিক্রয় প্রতিনিধি এরা সবাই বিতরন প্রক্রিয়ার সক্রিয় অংশীদার। বিপননে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা রাখলেও পরিবহন সংস্থা, বীমা কোম্পানী, ব্যাংক, গুদামঘর ইত্যাদি বিতরন প্রক্রিয়ার উপাদান নহে।
৩.২. বিতরন প্রক্রিয়ার উপকারীতা/সুবিধা
১. পণ্য ও সেবা সামগ্রীগুলো সবসময়, সবজায়গায় ভোক্তাদের হাতের নাগালে পাওয়া যায়।
২. উৎপাদক নিজে বিতরন করলে যে খরচ পড়ত বিতরন পন্থা ব্যবহারের ফলে খরচ অনেক কমে যায়।
৩. অনেকে জড়িত থাকে বলে উৎপাদকের উপর আর্থিক চাপ কম পড়ে।
৪. অনেক লোক জড়িত বলে এবং পণ্য ও সেবা সামগ্রী নিয়ে কাজ করে বলে প্রচার ও প্রচারনার কাজ এতে সম্পন্ন হয়ে যায়।
৫. এতে মূল্য স্থিতিশীল থাকে এবং একচেটিয়া ব্যবসা করার সুযোগ কমে যায়।
৬. কর্মসংস্থানের অধিক সুযোগ সৃষ্টি করে।
৭. উৎপাদকের বিতরন সমস্যার সমাধান করে।
৩.৩. বিতরন পন্থা নির্বাচনের সময় বিবেচ্য বিষয় সূমহ
পণ্য ভালো হউক আর মন্দ হউক সময়মত সব জায়গায় পাওয়া না গেলে ভোক্তারা বিরক্ত হন। এ জন্য বিতরন পন্থা বিপননের ক্ষেত্রে একটি শক্তিশালী মাধ্যম। মানুষ হাতের কাছে যেটি পায় সেটিই কিনে। কবে ভাল মানের পণ্য আসবে তার আশায় বসে থাকেনা। ক্ষেত্র বিশেষে ”গরজ বড়ই বালাই” কাজ করে। অর্থাৎ জরুরী প্রয়োজনে হাতের নাগালে থাকা নিম্মমানের পণ্য কিনতে ভোক্তারা বাধ্য হয়। বিতরন পন্থা নির্বাচন কালে নীচের ফ্যাক্টরগুলি বিবেচনায় নিতে হয় –
১. পণ্যের প্রকৃতি
২. বাজারের প্রকৃতি ও বিস্তৃতি
৩. বিদ্যমান পন্থা সমূহের পূর্ননিরীক্ষন।
৪. ক্রেতার ক্রয় অভ্যাস
৫. উৎপাদক ও মধ্যসত্ত্বভোগীদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ইত্যাদি।
নিচে প্রতিটি ফ্যাক্টরের বর্ননা দেওয়া হল –
১। পণ্যের প্রকৃতিঃ
বিতরন পন্থা নির্ধারন করার আগে উৎপাদককে তার পণ্যের ধরন বুঝতে হবে। যেমন – ওষুধ উৎপাদক তাঁর ওষুধ সরাসরি রোগীর নিকট পৌঁছাতে বা বিক্রি করতে পারবে না। এজন্য তাকে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতা, বিশেষ করে রিটেইল ফার্মেসী শপের উপর নির্ভর করতে হবে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে বিতরন পন্থাটি হবে নিম্মরূপ –

উৎপাদক → পাইকারী বিক্রেতা → খুচরা বিক্রেতা → রোগী
উৎপাদক → খুচরা বিক্রেতা → ভোক্তা
উৎপাদক → ভোক্তা

পচনশীল পণ্যের উৎপাদককে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরাসরি ভোক্তার নিকট পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।প্রমিত ও ব্র্যান্ডনামদারী পণ্যের উৎপাদক তার নিজস্ব আউটলেটের মাধ্যমে ভোক্তার নিকট পণ্য পৌঁছাতে পারেন।
২। বাজারের প্রকৃতি ও বিস্তৃতি
গবেষনার মাধ্যমে ভোক্তার সংখ্যা, বাসস্থান ও ক্রয় অভ্যাস জেনে বিতরন পন্থা নির্ধারন করতে হবে।
৩। বিদ্যমান পন্থার পূনঃনিরীক্ষন
বিভিন্ন শিল্পের ক্ষেত্রে ইতোমধ্যে গ্রহনযোগ্য বিতরন পন্থার নির্ধারিত হয়েছে। সেক্ষেত্রে বিদ্যমান পন্থা অবলম্বন করে সেখানে নতুনত্ব আনার চেষ্টা করা যেতে পারে।
৪। ক্রেতার ক্রয় অভ্যাস
বিতরনের পন্থা নির্ধারনে ক্রেতার ক্রয় অভ্যাস গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। ক্রেতা যদি বিভিন্ন রকমের পণ্য কিনতে চান এবং সময় সুযোগ মত কিনতে চান তবে সে ক্ষেত্রে উৎপাদককে বিভিন্ন রকম পণ্য পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে সরবরাহ করার পদক্ষেপ নিতে হবে।
৫। উৎপাদক ও মধ্যসত্ত্ব ভোগীর মধ্যে পারস্পরিক সমোঝোতা
পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতার কাছ থেকে প্রাপ্য সহযোগিতা ও সমঝোতা বিতরণ পন্থা নির্ধারনে বড় ভূমিকা রাখে। যেমন – মধ্যসত্ত্ব ভোগীরা এক চেটিয়াভাবে বিক্রির (Sole agent) সুযোগ (Local monopoly) চাইতে পারে, আবার কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদে ধারে পণ্য কিনতে চাইতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নয়িে বিতরন পন্থা নির্ধারন করতে হবে।
৩.৪. বিতরন পন্থার প্রকারভেদ
বিতরন পন্থাকে দু ভাগে ভাগ করা যায়।
১। সরাসরি বিক্রয় / প্রত্যক্ষ বিক্রয়
২। পরোক্ষ বিক্রয়।
১। প্রত্যক্ষ বিক্রয় – প্রত্যক্ষ বিক্রয় পদ্ধতিতে উৎপাদক নিজস্ব আউটলেট ও জনবলের মাধ্যমে সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য ও সেবা সামগ্রী বিক্রয় করেন। উদাহরন – ডিম, দুধ, শাক, সবজি, মাছ, কসমেটিকস, গৃহস্থলীর পণ্য ইত্যাদি।
সুবিধা সুমহঃ
– মধ্যসত্ত্বভোগী বা কমিশন এজেন্টের দরকার হয় না।
– বিক্রি স্থলেই ক্রেতাকে পণ্য সম্পর্কে সকল তথ্যাদি জানানো বা প্রদর্শন/ চাক্ষুষ করানো যায়।
– কোন বোনাস বা ফাও দিতে চাইলে সরাসরি ক্রেতাকে সেটা দেয়া যায়।
– উৎপাদক পণ্যের গুন ও মান সম্পর্কে সরাসরি তথ্য-উপাত্ত পেয়ে যান।

মধ্যসত্ত্বভোগী
পণ্য ও সেবা সামগ্রীর ক্রয় বিক্রয়ে উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যে সেতু বন্ধন হিসাবে যে সব ব্যক্তিবর্গ কাজ করেন তাদেরকে মধ্যসত্ত্বভোগী বা ফড়িয়া বলা হয়। এসব বক্তিবর্গ বিপনন কার্যক্রমের সংঙ্গে ওৎপ্রোত ভাবে জড়িত এবং পণ্য কেনা-বেচায় সরাসরি ভূমিকা রাখেন। মধ্যসত্ত্বভোগীদের দ্বারা উৎপাদক উপকৃত হন। অন্যথায় উৎপাদকে পণ্য বিপননের সব দায়িত্ব নিজেকেই করতে হতো।
আবার ভোক্তারা উপকৃত হন কারন পণ্যটি তাদের দোড়গোড়ায় পৌঁছানের ব্যবস্থাটি এই মিডলম্যানরাই করে থাকেন। বিনিময়ে তারা উৎপাদক, ক্রেতা বা ভোক্তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন বা বাট্টা পেয়ে থাকেন।
মধ্যসত্ত্বভোগীদের প্রকারভেদ
মধ্যসত্ত্বভোগীদরা দুই ধরনের, যথাঃ
১। মার্কেনটাইল এজেন্ট
২। মার্চেন্ট মধ্যসত্ত্বভোগী
১। মার্কেনটাইল এজেন্ট
এ ধরনের এজেন্টকে কার্যকর মধ্যসত্ত্বভোগী বা মধ্যসত্ত্বভোগী এজেন্ট বলে । তারা পণ্যের মালিকানা ভোগ করে না, শুধু মাত্র পণ্যের আদান প্রদানে ব্যবসথাপনার দায়দায়িত্ব নেয়। তারা নিজেরা কোন টাকা পয়সা ব্যয় করেনা। উৎপাদক ও ভোক্তার কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশন নেয়।
এধরনের মধ্যসত্ত্বভোগী তিন প্রকারঃ
১। দালাল
২। কমিশন এজেন্ট
৩। নিলামকারী
১। দালালঃ
যে ব্যক্তি ক্রেতা ও বিক্রেতাকে একত্রিত করাপূর্বক পণ্য বা সেবা সামগ্রীর ক্রয়-বিক্রয় নিয়ে উভয় পক্ষের নিকট গ্রহনযোগ্য দরদাম নিয়ে দরকষাকষি করেন এবং উভয় পক্ষের মধ্যে একটি জয়-জয় ভাব এনে পণ্য ক্রয় বিক্রয়ের ভূমিকা রাখেন তাকে দালাল বলে। বিক্রেতার পক্ষে কাজ করলে তাকে বিক্রেতার এজেন্ট আর ক্রেতার পক্ষে কাজ করলে তাকে ক্রেতার এজেন্ট বা দালাল বলা হয়। তারা মালের মালিকানা বা মজুতের সাথে সম্পৃক্ত থাকে না, শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট শতকরা হারে কমিশন বা দালালী সম্মানী পেয়ে থাকেন।
২। কমিশন এজেন্ট
কমিশন এজেন্টগন পণ্য কেনা-বেচায় অংশ নেন। তবে তারা দালালদের মত দর কষাকষি না করে নিজেরাই পণ্য কিনে নিজ মালিকানায় রাখেন, মজুতের ব্যবস্থা করেন এবং বিক্রয়ের ব্যবস্থা করেন। এছাড়া তারা মজুতকরন, পণ্যের শ্রেনিবিভাজন, মোড়কীকরন, বা পূনমোড়কীকরন, সংমিশ্রন ও বিতরনের ব্যবস্থার সংঙ্গে যুক্ত থাকেন। এ সমস্ত কাজের জন্য তারা নির্র্দিষ্ট হারে কমিশন পেয়ে থাকেন।
৩। নিলামকারী
উৎপাদনকারী বা মালিকের পক্ষ হয়ে যে সকল ব্যক্তিবর্গ উম্মুক্ত স্থানে সম্ভাব্য সকল ক্রেতার উপস্থিতিতে সর্বোচ্চ বা সর্বনিম্ম দামে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করেন তাদেরকে নিলামকারী বলা হয়। নিলামকরীগন মালিকের নিকট থেকে পণ্যটি কিনে নেন। তারপরতা সম্ভাব্য ক্রেতাদের সম্মুখে সাধারনত সর্বোচ্চ দামে বিক্রি করেন। উপস্থিত ক্রেতাদের মধ্যে যিনি সর্বোচ্চ দাম হাঁকান তিনিই পণ্যটি ক্রয় করতে পারেন। তবে নিলাম দাতা যে মূল্যে মালিকের কাছ থেকে পণ্যটি কিনেন, বিক্রয়মূল্যে তার চেয়ে বেশীই হয়। এর পরেও নিলামকারী উভয় পক্ষ বা কোন একপক্ষের নিকট থেকে নির্দিষ্টি হারে কমিশন পেয়ে থাকেন।
২। মার্চেন্ট মধ্যসত্ত্বভোগী
যে সমস্ত মধ্যসত্ত্বভোগী ব্যক্তিবর্গ প্রান্তিক মুনাফায় পূনঃ বিক্রির উদ্দেশ্য পণ্যসামগ্রী ক্রয় করেন, তাদেরকে মার্চেন্ট মধসত্ত্বভোগী বলে। এ ধরনের মধ্যসত্ত্বভোগীরা পণ্য কিনে নিজের মালিকানায় নেন এবং পরে নিজ পণ্য হিসাবে ক্রেতার নিকট বিক্রি করেন। এদেরকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়ঃ ১। পাইকারী বিক্রেতা, ২। খুচরা বিক্রেতা
২। পরোক্ষ বিক্রি
পরোক্ষ বিক্রি দু ভাগে সম্পন্ন হয়। যথাঃ
১। পাইকারী ক্রয়- বিক্রয় ও
২। খুচরা ক্রয়-বিক্রয়
পাইকারী ক্রয়-বিক্রয়
যে বিপনন প্রক্রিয়ায় কোন ব্যবসায়ী উৎপাদকের কাছ থেকে বেশী পরিমানে পণ্য কিনেন কিন্তু খুচরা ব্যবসায়ী ও শৈল্পিক ভোক্তার নিকট অল্প পরিমানে পণ্য সরাসরি বিক্রয় করেন সে বিপনন প্রক্রিয়াকে পাইকারী ক্রয়-বিক্রয় বলে। পাইকারী বিক্রেতা কদাচিত সরাসরি ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রি করে থাকেন। যে ব্যক্তি পাইকারী ক্রয়-বিক্রয়ের সংগে জড়িত থাকেন তাকে পাইকারী ব্যবসায়ী বা আড়ৎদার বা মজুতদার বলে। পাইকারী ব্যবসায়ীগন উৎপাদক ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেতু বন্ধন হিসাবে কাজ করেন।
পাইকারী ব্যবসায়ীদের প্রকারভেদ
১। উৎপাদক পাইকারী ব্যবসায়ী – এরা নিজেরাই পণ্য উৎপাদন করেন এবং তা পাইকারী দরে বিক্রি করেন। একই সাথে তারা অন্য উৎপাদকের পণ্যও ক্রয় করেন এবং নিজ পণ্যের সাথে ঐসব পণ্যও বিক্রি করেন। তারা আলাদাভাবে পাইকার বা আড়ৎদার নিযুক্ত করতে হয় না বলে এবং কম মূল্যে কিন্তু বেশি লাভে পণ্য ক্রয় বিক্রয় করতে পারেন।
২। খুচরা পাইকার /আড়ৎদার – এরা উৎপাদকের নিকট থেকে বেশী পরিমানে পণ্য কিনেন এবং তা সাধারন পাইকার ও ভোক্তা উভয়ের নিকট বিক্রি করেন।
৩। বিশুদ্ধ পাইকার/ আড়ৎদার – এই শ্রেনীর আড়ৎদারগন শুধুমাত্র আড়ৎদারী ব্যবসায় জড়িত থাকেন। তারা পণ্য উৎপাদন করেন না । তারা উৎপাদকের নিকট থেকে প্রচুর পরিমান পণ্য ক্রয় করেন কিন্তু অল্প পরিমানে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ে তথা সরবরাহে তারা নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থা ব্যবহার করেন। এরা নিয়মিত নির্ধারিত মাসোহারা অথবা নির্দিষ্ট কমিশনে কাজ করে থাকেন। এরা উপজেলা, জেলা বা বিভাগ ভিক্তিক আড়ৎদার হিসাবে কাজ করতে পারেন।
পাইকারদের কাজ
(ক) পণ্যের সংগ্রহ (Collection of goods) – বিভিন্ন উৎপাদকের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের পণ্য ক্রয় করে একত্রিত করেন এবং খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট তা পূন:বিক্রি করেন।
(খ) বিতরন – ভোক্তর নিকট পৌঁছাতে খুচরা ব্যবসায়ীর মাধ্যমে বিতরনের কাজটি করেন।
(গ) মজুতকরন – উৎপাদক ও খুচরা ব্যবসায়ী উভয়ের সুবিধার জন্য তিনি পণ্য মজুত করেন। পণ্যের উৎপাদন ও ব্যবহারের মধ্যে সময়ের ব্যবধানকে সমন্বয় করার জন্য এটা প্রয়োজন, আবার খুচরা ব্যবসায়ীদের চাহিদা মিটানোর জন্য এটা দরকার।
(ঘ) অর্থায়ন – আড়ৎদার সাধারনত উৎপাদকের নিকট অগ্রীম টাকা দিয়ে পণ্য কিনে বাকীতে খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন। এভাবে তিনি উভয় পক্ষকে আর্থিক সহায়তা করেন।
(ঙ) শ্রেনি বিভাজন ও মোড়কীকরন – আড়ৎদার পণ্যের গুন ও মান এবং ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী পণ্যকে ছোট/মাঝারী/ বড় এরূপ বিভিন্ন মোড়কে মোড়কীকরন করেন এবং খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট বিক্রি করেন। যেমন – ডিম বা আম আকার আয়তন অনুযায়ী সাজিয়ে বিক্রির জন্য প্যাকেট করা হয়।
(চ) পরিবহন – আড়ৎদার সাধারনত বড় দাগে পণ্য ক্রয় করেন এবং ছোট ছোট দাগে খুচরা ব্যবসায়ীদের নিকট বিক্রি করেন। আর ছোট ব্যবসায়ীরা যেহেতু ছড়িয়ে ছিটিয়ে পাইকার কতৃক নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বসবাস করেন সে কারনে তিনি নিজস্ব বা ভাড়া করা গাড়ীতে করে ঐসব পণ্য ছোট ব্যবসায়ীদের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের মালামাল নেওয়া আনার ঝামেলা পোহাতে হয় না।
(ছ) ঝুঁকি নেওয়া – বিশাল পরিমানে পণ্য ক্রয় ও মজুতকরনের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি নিয়ে থাকেন। কেননা পণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ন হয়ে যেতে পারে, পণ্যের মূল্য কমে যেতে পারে, খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে পাওনা আদায়ের ঝামেলা হতে পারে। এছাড়া চুরি ডাকাতি ও অগ্নিকান্ডে বিরাট ক্ষতি হতে পারে।
(জ) বাজার সংক্রান্ত তথ্যাদির যোগাযোগ – উৎপাদক ও খুচর ব্যবসায়ী উভয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহে ভুমিকা পালন করেন। বাজার জরিপের মাধ্যমে তিনি ভোক্তার অগ্রাধিকার, রুচিবোধ, পছন্দ-অপছন্দ ইত্যাদি তথ্য উৎপাদকের নিকট পৌঁছে দেন। অন্যদিকে মূল্যের হ্রাস-বৃদ্ধি, নতুন পণ্যের বাজারে আসা ইত্যাদি তথ্য খুচরা ব্যবসায়ীর নিকট পৌঁছে দেন।
পাইকারী বানিজ্যের সুবিধা
১। উৎপাদকের প্রাপ্ত সুবিধা
– অগ্রীম ক্রয় আদেশ পাওয়ার কারনে বিপুল পরিমানে উৎপাদন করতে পারেন।
– বাজার সংক্রান্ত তথ্য পেয়ে থাকেন।
– বিজ্ঞাপনের মত বিপননের গুরুত্বপূর্ন কাজটি হয়ে যায়।
– বড় দাগে ক্রয় ও মজুতকরনের মাধ্যমে ঝুঁকি হ্রাস পায়।
– অগ্রীম অর্থায়নের ফলে আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়।
– চহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয়য়ের মাধ্যমে পণ্যমূল্য স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
২। খুচরা বিক্রেতাদের প্রাপ্ত সুবিধা
– খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রির জন্য বিভিন্ন উৎপাদকের পণ্য জমা করতে পারেন।
– অল্প দাগে ভোক্তার নিকট পণ্য বিক্রি কাতে পারেন যাহা উৎপাদকের পক্ষে সম্ভব নয়।
– ধারে বিক্রির মাধ্যমে খুচরা বিক্রেতাকে আর্থিক সহায়তা করতে পারেন।
– খুচরা বিক্রেতাকে বড় দাগে মজুত করার ঝামেলা থেকে মুক্ত রাখতে পারেন।
– পণ্যের মূল্যের উঠানামা ও নতুন পণ্যের বাজারজাত করনের খবর খুচরা বিক্রেতাকে দিয়ে থাকেন।
– খুচরা বিক্রেতাকে বেশী পরিমানে কেনার জন্য বাট্টা দিয়ে থাকেন।
– পণ্যের বিজ্ঞাপনের কাজটি এর মাধ্যমে হয়ে যায় বলে খুচরা বিক্রেতার বিক্রি বাড়ে।
– পাইকারী বিক্রেতা খুচরা বিক্রেতার দোকান পর্যন্ত পণ্য পৌছে দেন।
৩। ভোক্তা ও সমাজের প্রাপ্ত সুবিধা
– খুচরা বিক্রেতা ভোক্তাকে তার রুচি ও চহিদা অনুযায়ী পণ্য সরবরাহ করে থাকেন।
– বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পণ্যের সর্বশেষ তথ্য জানান।
– পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ করে তিনি মূল্য স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা করেন।
– তিনি যথেষ্ট পরিমানে পণ্য মজুত করে রাখেন বলে বাজারের পণ্যের ঘাটতি দেখা দেয় না।
পাইকারী বানিজ্যের অসুবিধা
– মুনাফার পরিমান বাড়িয়ে পণ্যের দাম বড়িয়ে দেন।
– কালোবাজারী বা মজুতদারীর মাধ্যমে পণ্যের কৃত্রিম সংকট তৈরী করেন।
– বেশী লাভের আশায় কখনো কখনো নকলমাল সরবরাহ করেন।
– মুনাফার তুলনায় উত্তম সেবা পাওয়া যায় না।
খুচরা বানিজ্য
খুচরা বানিজ্য বা ক্রয়-বিক্রয় হল বিতরনের সর্বশেষ ধাপ এবং এই ধাপে খুচরা ব্যবসায়ী কতৃক পণ্য সরাসরি ভোক্তার নিকট বিক্রি করা হয়। যে ব্যবসায়ী খুচরা ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত তাকে খুচরা ব্যবসায়ী/ বিক্রেতা বলে। উৎপাদক বা পাইকারী ব্যবসায়ী আর ভোক্তার মধ্যে যোগাযোগের কাজটি খুচরা ব্যবসায়ী করে থাকেন।
খুচরা বানিজ্যের কাজ
১। পণ্য সংগ্রহ – ভোক্তার চহিদা মিটাতে খুচরা ব্যবসায়ী বিভিন্ন ধরনের পণ্য সংগ্রহ করেন।
২। পরিবহন – খুচরা ব্যবসায়ী উৎপাদক বা পাইকারী ব্যবসায়ীর নিকট থেকে পণ্য তার দোকানে নিয়ে আসেন। ভোক্তারা সহজই নিকটস্থ দোকান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে পারে। অনেক সময় খুচরা বিক্রেতা বিনা পয়সায় পণ্য ভোক্তার বাসস্থান / কর্মস্থান পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে থাকেন।
৩। মজুতকরন – খরিদ্দারের চাহিদামত পণ্য মজুত রাখেন, আবার নিরবিচ্ছিন্ন সরবসরাহ বজায় রাখার জন্যও পণ্য মজুত রাখনে।
৪। ধারে বিক্রয় – নিয়মিত খরিদ্দারদেরকে ধারে পণ্য সামগ্রী দিয়ে থাকেন।
৫। ঝুঁকি নেয়া – ভোক্তা কতৃক সময়মত ধারদেনা শোধ না দেয়ার ঝুঁকির পাশাপাশি চুরি-ডাকাতি, অগ্নিকান্ড, পণ্য নষ্ট হয়ে যাওয়া, পণ্যের মেয়াদ উত্তীর্ন হয়ে যাওয়া এবং পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ার মত ঝুঁকি নিতে হয়।
৬। বাজার গবেষণা – ভোক্তার সরাসরি সংস্পর্শে থাকেন বলে ভোক্তার রুচি, মেজাজ-মর্জি, চাহিদা ইত্যাদি বুঝতে ও বিচার করতে পারেন এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে উৎপাদককে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
খুচরা বানিজ্যের সুবিধা
উৎপাদক ও পাইকারের প্রাপ্ত সুবিধা
– উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার শেষ সেতু বন্ধন হল খুচরা ব্যবসায়ীরা এবং তারা পণ্যের বিতরনে সহায়তা করে।
– এরা বহু সংখ্যক ভোক্তার নিকট অল্প অল্প করে পণ্য বিক্রয় করেন যাহা উৎপাদক ও পাইকারের পক্ষে সম্ভব নয়।
– খুচরা ব্যবসায়ীর সহায়তা ছাড়া নতুন পণ্য বাজার জাত করা অসম্ভব।
– পাইকার হয়ে উৎপাদক পর্যন্ত তারা ক্রেতার রুচি, অগ্রাধিকার, মূল্যবোধ, চহিদা ইত্যাদি তথ্য সরবরাহ করে থাকেন।
– অনেক সময় তারা পাইকারকে অগ্রীম টাকা দিয়ে পণ্য আনার ব্যবস্থা করেন ফলে পাইকারের আর্থিক সহায়তা হয়।
ভোক্তার প্রাপ্ত সুবিধা
– খরিদ্দারের চাহিদা মোতাবেক সম্ভাব্য কম পরিমানে পণ্য বিক্রি করেন।
– অনেক ধরনের পণ্য রাখেন বলে ভোক্তা পছন্দ মত পণ্য কিনতে পারেন।
– ভোক্তার সংগে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রক্ষার মাধ্যমে পণ্য সম্পকের্ তাদের বক্তব্য / অভিযোগ শুনে তার উত্তর দিতে সচেষ্ট হন। পণ্যের গুনাগুন সম্পর্কে এসব খাঁটি তথ্য উৎপাদকের নিকট পৌঁছে দেন যেন ভবিষ্যতে পণ্যটি ত্রুটিমুক্ত হয়।
– পণ্যের উপযোগিতা, ব্যবহার ও সংরক্ষন বিষয়ে ভোক্তাকে উপদেশ দিয়ে থাকেন।
– নিয়মিত খরিদ্দারকে মাগনায় পণ্য পৌঁছে দেন, আবার বিক্রয়োত্তর সেবাও দিয়ে থাকেন।
– আর্থিক সংকট কালে ধারে পণ্য দিয়ে ভোক্তাকে সহায়তা করেন।
– বিক্রিত পণ্যের উপর বাট্টা দিয়ে থাকেন।
– তাজা ও সর্বশেষ পণ্যটি ভোক্তার নিকট পৌঁছে দেন।
– খুচরা দোকানগুলো আবাসিক এলাকার কাছাকাছি হওয়ায় ভোক্তার দৈনন্দিন চাহিদা সহজে মিটাতে পারেন।
– জরুরী অবস্থায় দিন রাত দোকান খোলা রাখেন বলে ভোক্তারা উপকৃত হয়।
খুচরা বিক্রেতার প্রকারভেদ
অস্থায়ী নিত্য পণ্য বিক্রয়কারী খুচরা দোকানী
ক) রিক্সা চালক, হকার, ফেরীওয়ালা, ভ্যানগাড়ীওয়ালা
স্থায়ী দোকানে ছোট দাগের পণ্যবিক্রেতা
ক) রাস্তায় স্টল দিয়ে পণ্য বিক্রয়কারী দোকানদার
খ) ব্যবহার্য পণ্য বিক্রয়কারী দোকানদার
গ) সাধারন দোকানদার
ঘ) বিশেষায়িত পণ্য বিক্রয়কারী দোকানদার
স্থায়ী দোকানে বড় দাগে পণ্য বিক্রেতা
ক) ডিপার্টমেন্টাল স্টোর
খ) বহুবিধ দোকান
গ) ডাকযোগে পণ্য প্রেরন ব্যবসা
ঘ) সুপার মার্কেট
ঙ) সমবায় দোকান
চ) ভাড়া ক্রয় দোকান
অস্থায়ী/ ভ্রাম্যমান খুচরা বিক্রেতা
এ ধরনের খুচরা বিক্রেতার বসার কোন সুনির্দিষ্ট জায়গা নেই বা দোকান নেই। তারা মাথায় করে বা ভ্যান গাড়িতে করে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে ঘুরে পণ্য বিক্রি করে। এরা অতি সহজে বিক্রি করা যায় ঐসব নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য বিক্রি করে। যেমন – শাক-সব্জি, তরি-তরকারী, ফলমূল, চুড়ি, লেইচ-ফিতা, চানাচুর, ঝালমুড়ি ইত্যাদি।
ডিপার্টমেন্টাল স্টোর
একই দোকানের বিভিন্ন অংশে সম্পূর্ন ভিন্ন ভিন্ন পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা থাকলে তাকে ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বলে। যেমন – কাপড়-চোপড়, কসমেটিকস, শিশু খাদ্য, শুকনো খাবার, মাছ মাংস, ফলমূল ইত্যাদি একই মালিক বা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের আওতায় পৃথক পৃথক বিক্রয়কর্মীর মাধ্যমে বিক্রি হয়। উদাহরন – মীনা বাজার, স¦প্ন, আগোরা ইত্যাদি
ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সুবিধা
১. খরিদ্দারগন এক দোকানে ঢুকেই দরকারী সব জিনিস কিনতে পারেন। এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরাঘুরি করতে হয় না।
২. বিজ্ঞাপনের কর্মটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়ে যায়।
৩. হোম ডেলিভারী, টেলিফোনে অর্ডার গ্রহন এবং ধারে পণ্য বিক্রিসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যায়।
৪. কোন কোন ডিপার্টমেন্টাল স্টোরে ব্যাংকের এটিএম বুথ, টেলিফোনের বুথ, ডাকবাক্স ইত্যাদি গনসেবামূলক ব্যবস্থা থাকে।
৫. চাকুরীর সংস্থান হয়।
৬. বেশি পরিমান ক্রয়-বিক্রয় হয় বলে পণ্যের দামও হ্রাস পায়।
অসুবিধা সূমহঃ
১. প্রারম্ভিক খরচ অনেক বেশী।
২. বিশেষায়িত সেবা ও বিজ্ঞাপন জনিত কারনে মাথাপিছু খরচ ও ব্যবস্থাপনা ব্যয় অনেক বেশী পড়ে।
৩. এসব দোকান শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত বলে শহরতলীর লোকজনের যাতায়াতের অসুবিধা হয়।
৪. ব্যবস্থাপনা ব্যয় বেশি বলে পণ্যের দামও বেশী পড়ে।
৫. পৃথক পৃথক ডিপার্টমেন্ট বা সেকশন ও প্রতি সেকশনে পৃথক পৃথক বিক্রয় কর্মী থাকায় মালিক বা ব্যবস্থাপকের পক্ষে সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষন করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
৬. মালিকের বা বিক্রয় কর্মীদের সাথে ক্রেতাদের আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে না, আবার বিক্রয় কর্মীরা খরিদ্দারদেরকে ঠিকমত গুরুত্ব দেয় না, ফলে বিক্রয় হ্রাস পায়।
বহুবিধ দোকান বা চেইন স্টোর
একই ধরনের পণ্য বড় শহর, প্রদেশ বা সারা দেশ জুড়ে বিক্রয় করার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অধীনে একই দোকানের শাখা বিদ্যমান থাকলে তাকে বহুবিধ দোকান বা চেইন স্টোর বলে। যেমন – কেএফসি, আগোরা।
চেইন স্টোরের বৈশিষ্ট্যসূমহ
১. শুধুমাত্র একটি বা দু-তিনটি পণ্যের বিশেষায়িত দোকান
২. উৎপাদক কতৃক সংগঠিত হলে পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতার প্রয়োজন পড়ে না।
৩. ক্রয়, সংমিশ্রন, পরিবহন, বিজ্ঞাপন ও অর্থায়ন এই সমস্ত কর্মকান্ড একটি কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের দ্বারা সংগঠিত হয়।
৪. এ ধরনের দোকানে সারা শহর বা দেশে একই ডিজাইন, ডেকোরেশন ও লেআউট থাকে।
৫. সকল দোকানে মূল্য একই (Fixed price) থাকে।
৬. সাধারনত: নগদমূল্যে বিক্রি কার্যক্রম হয় এবং খরিদ্দারকে ফ্রি ডেলিভারী দেওয়া হয় না।
৭. সাধারনত ভোগ্য পণ্য নিয়ে এরা কাজ করে।
চেইন শপের সুবিধাসমূহ
১. মূল্য স্থির থাকে এবং কোন দও কষাকষির সুযোগ নেই।
২. উচ্চ গুন ও মানের পণ্য বিক্রয় হয়।
৩. ব্যবস্থাপনা খরচ কম বলে পণ্যের মূল্য কম রাখা সম্ভব হয়।
৪. কেন্দ্রীয়ভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় বলে সমগ্র নেটওয়ার্কে তা সম্পন্ন হয।
৫. ‘নগদে কিনো আর নিয়ে যাও’ নিয়মে চলে বলে দেনা-পাওনার ব্যাপার হ্রাস পায়।
৬. খরিদ্দারের সরাসরি সংস্পর্শে থাকা যায় বলে বাজার গবেষনা ভালভাবে করা যায়।
৭. একই রকম ডিজাইন ও ডেকারেশনের কারনে চেইন স্টোর সহজেই শনাক্ত করা যায়।
চেইন স্টোরের অসৃবিধা সূমহ
১. ধারে পণ্য বিক্রয় হয় না বলে খরিদ্দাররা ইচ্ছা থাকলেও অনেক সময় কিনতে পারে না।
২. শুধুমাত্র নিয়োগকৃত কর্মচারী দোকান চালায় বলে তারা খরিদ্দারকে গুরুত্ব নাও দিতে পারে, আবার মালিককে ঠকাতেও পারে।
৩. পণ্য হোম ডেলিভারী দেয় না।
৪. চেইন স্টোর চালাতে গেলে ভারী যন্ত্রপাতী ও বিশ্বস্ত লোজ প্রয়োজন হয়।
৫. সীমিত সংখ্যক পণ্য বিক্রি করে বলে খরিদ্দারের পছন্দের জিনিস পাওয়া মুসকিল হয়।
ডাক যোগে পণ্য প্রেরন ব্যবস্থা
ডাক যোগাযোগের মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় বা আদান প্রদানকে ডাকযোগে পণ্য প্রেরন ব্যবস্থা বলে। ডাক মারফত পণ্য ক্রয়ের অর্ডারটি আসে এবং ডাক মারফত পণ্য প্রেরণ করা হয়। চিঠিপত্র ও টাকা পয়সা মানি অর্ডারে পাঠানোর মত মূল্য পরিশোধেয় ডাক (Value payable parcel) ব্যবস্থার মাধ্যমে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় করা যায়। ক্রেতা ডাক যোগে পণ্যের অর্ডার ও টাকা পাঠালে, বিক্রেতা ডাকযোগে পণ্য ক্রেতার ঠিকানায় পাঠান। নিকটস্থ ডাকঘরের সংগে যোগাযোগ করে ক্রেতা পণ্যটি সংগ্রহ করে নেন। আমাদের দেশে পরিবহন এজেন্সি গুলি এবং কুরিয়ার সার্ভিস নামে খ্যাত বেসরকারী ডাক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি এই ধরনের ক্রয় বিক্রয় ব্যবস্থায় পণ্য পরিবহনের কাজটি করে থাকে।
ডাক যোগে বিপননের বৈশিষ্ট্য
১. বড় পুঁজির দারকার হয় না।
২. মধ্যসত্ত্বভোগীর দরকার হয় না।
৩. গুদামঘর বা দোকানের প্রয়োজন হয় না বলেই ঘরে বসেই পণ্য ক্রয় বিক্রয় করা যায়।
৪. বিজ্ঞাপন নির্ভর।
৫. ডাকযোগে অর্ডার দিতে হয়।
৬.V.V.P নিবন্ধনকৃত ডাকে পণ্য পাঠানো হয়।
সুবিধা সূমহ
১। ক্রেতাকে পণ্য পাওয়ার জন্য ঘুরাঘুরি করতে হয় না, ঘরে বসেই V.V.P মাধ্যমে পণ্যটি পেয়ে যায়।
২। টাকা ফেরতের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়।
৩। শোরুম, বাড়ী ভাড়া, কর্মী নিয়োগ বা মধ্যসত্ত্বভোগী নিয়োগের প্রয়োজন হয় না বলে এটি সাশ্রয়ী মাধ্যম।
৪। ডাকযোগে অগ্রীম মূল্য শোধ হয় বলে ঋনখেলাপী /কুঋনগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
অসুবিধা সূমহ
১. পারস্পরিক দেখা সাক্ষা হয় না বলে হাতে পাওয়ার আগে পণ্যটি পরখ করার সুয়োগ ক্রেতা পান না।
২. ডাকমাশুল ক্রেতাকে পরিশোধ করতে হয় বলে পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
৩. ডাকে পণ্য পেতে বিলম্ব হতে পারে।
৪. গ্রাহক প্রতারিত হতে পারেন।
৫. বিক্রয়োত্তর সেবা পাওয়া যায় না।
৬. ধারে পণ্য কেনা যায় না।
৭. বিজ্ঞাপনে অনেক টাকা ব্যয় হয়।
সুপার মার্কেট
এ ধরনের মার্কেট হলো বড়-সড় আকারের খুচরা দোকান যেখানে বিভিন্ন পণ্য সামগ্রী সারিবদ্ধ ভাবে সাজানো থাকে। ক্রেতা তার পছন্দ, চাহিদা ও ক্রয় ক্ষমতা অনুযায়ী পণ্য ঝুড়িতে নেন। তারপর বাহির হওয়ার দরজার কাছে বসা ক্যাশিয়ারের নিকট মূল্য পরিশোধ করে ক্রয়কৃত পণ্য নিয়ে বের হয়ে যান। এ ধরনের দোকানকে স্ব-সেবা দোকানও বলা হয়। এখানে ধারে পণ্য বিক্রি হয় না এবং বিক্রিয়োত্তর সেবাও পাওয়া যায় না।
সমবায় দোকান
কিছু সংখ্যক ভোক্তা একত্রিত হয়ে সমবায় সমিতি গঠনের মাধ্যমে এ ধরনের দোকান শুরু করেন। উৎপাদক বা পাইকারের কাছ থেকে অধিক পরিমানে পণ্য আপেক্ষাকৃত কমদামে বা পাইকারী দামে কিনে বাজারমূল্যে বা খুচরা দামে সদস্য বা অন্যদের কাছ বিক্রি করেন। ফলে যে লাভ হয় তা সদস্যরা বোনাস হিসাবে ভাগ করে নেন।
সুবিধা সূমহ
১। উৎপাদক বা পাইকারের নিকট থেকে পাইকারী দামে বেশী পরিমানে কেনা হয় বলে পণ্যের মূল্য হ্রাস পায়।
২। ক্রেতারা তরতাজা জিনিস পায়।
৩। জন প্রতি খরচ কম হয় বলে পণ্যের দাম কম রাখা যায়।
অসুবিধা সূমহ
১। সমবায় সমিতির সম্পদ সীমিত বলে বড় আকারের দোকান দেয়া সম্ভব হয় না।
২। সদস্য ব্যতীত অন্যরা পণ্য কেনার জন্য আসে না।
৩। সমিতির সব সদস্য সহযোগিতা না করলে ও দায়িত্ববান না হলে আর্থিক ক্ষতি হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
কিস্তিতে পণ্য ক্রয় বিক্রয়
এই ব্যবস্থায় খুচরা বিক্রেতা পাইকারের কাছ থেকে বিনামূল্যে বা আংশিকমূল্য পরিশোধ পূর্বক মালামাল কিনেন এবং বিক্রির পর কিস্তিতে বা এককালীন টাকা শোধ করে দিয়ে থাকেন।
সুবিধা সূমহ
১ দীর্ঘস্থায়ী ও দামী পণ্য ক্রয় বিক্রয় হয়। যেমন – রেডিও, টিভি, ফ্রিজ ইত্যাদি।
২। সীমিত আয়ের লোকজনের জন্য উপযোগী।
অসুবিধা সূমহ
১ কিস্তিতে কিনতে লোকজনকে প্রলোভিত করা হয়।
২। ন্যায্য মূল্য বা বাজার মূল্যে বা বাজার মূল্যের চেয়ে বেশী দামে কিনতে হয়।
ওষুধের জন্য বিতরন ব্যবস্থা
সাধারনত নিত্য ব্যবহার্য পণ্য বা ভোগ্য পণ্যের মত ওষুধ সরাসরি ক্রেতা বা রোগীর নিকট বিক্রি করা যায় না। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন লাগে এবং নিবন্ধিত ফার্মাসিষ্টের কাছ থেকে ওষুধ কিনতে হয়। এছাড়া ওষুধের দোকান দিতে হলে লাইসেন্স লাগে।
ওষুধের জন্য বিতরন ব্যবস্থা নিম্মরূপ –
উৎপাদক → পাইকার → খুচরা দোকানদার → ভোক্তা (রোগী)
সাধারনত: পাইকারী ও খুচরা বিক্রি ব্যবস্থার মতোই ওষুধ বিতরন হয়।
১। পাইকারী বিক্রি ব্যবস্থা
সাধারনত পণ্যের পাইকারী ব্যবস্থার মতোই ওষুধের পাইকারী বিতরন ব্যবস্থা। পার্থক্য হলো নিম্মরূপ –
(ক) ওষুধের পাইকারী বিতরন ব্যবস্থার জন্য একটি ড্রাগ লাইসেন্স লাগে, (খ) ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ফার্মেসী কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত ব্যক্তি ছাড়া অন্যরা পাইকারী বিতরন ব্যবস্থায় অংশ নিতে পারেনা, (গ) পাইকার সরাসরি ভোক্তার নিকট ওষুধ বেচতে পারে না।
উৎপাদক তার উৎপাদিত ওষুধ সামগ্রী বিক্রির জন্য পাইকারী বিক্রেতা, মজুতদার বা পরিবেশক নিয়োগ করেন। তারা হাসপাতাল, নার্সিংহোম, ক্লিনিক্স, স্বাস্থসেবা কেন্দ্র, ডাক্তার ও ওষুধের দোকানে ওষুধ পৌঁছে দেয়। ড্রাগ লাইসেন্স পেতে হলে নীচের শর্ত পূরণ কতে হয় –
১. পর্যাপ্ত জায়গা থাকতে হবে যেন ওষুধের গুনগত মান বজায় রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া যায়।
২. লাইসেন্স প্রাপ্ত ব্যক্তিকে ওষুধ আইন অনুযায়ী যোগ্য (ফার্মাসিস্ট) হতে হবে।
৩. যে ধরনের ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়ের লাইসেন্স পাবে শুধু সে ধরনের ওষুধ রাখা যাবে।
৪. ক্রয় বিক্রয়ের সঠিক হিসাব রাখতে হবে।
৫. সহজে চোখে পড়ে এমন জায়গায় লাইসেন্স ঝুলিয়ে বা টাঙ্গিয়ে দিতে হবে।
৬. লাইসেন্সধারী ব্যক্তির অক্ষমতা, মৃত্যু বা অন্য কোন কারনে ব্যবসা চালাতে অক্ষম হলে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
৭। যোগ্যলোক বা ফার্মাসিস্টের পরিবর্তন হলে কতৃপক্ষকে জানাতে হবে।
৮। ওষুধ আইনে স্বীকৃত পরিদর্শককে তার স্থান পরিদর্শন করার পূর্ন সুযোগ দিতে হবে।
২। খুচরা বিক্রয় ব্যবস্থা
ওষুধের ক্রয়-বিক্রয় অন্য দশটি সাধারন পণ্যের মত হলেও কিছু পার্থক্য আছে। যেমন –
(ক) ওষুধ ক্রয় বিক্রয়ের ড্রাগ লাইসেন্স লাগে, (খ) যোগ্যব্যক্তি বা ফার্মাসিষ্ট লাগে, (গ) ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি করা যায় না, (ঘ) ডাক্তার রোগীর জন্য ওষুধ নির্ধারন করবেন, বিক্রেতা তার পছন্দ মতো কোন ওষুধ বিক্রি করতে পারবে না।
খুচরা বিক্রেতার কাজ
১। হিসাব করা – একজন ডাক্তার কি পরিমান ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন তার হিসাব রাখতে হয়।
২। ওষুধ সংগ্রহ করা – রোগীর চাহিদা মিটানোর জন্য বিভিন্ন উৎপাদক/ পাইকারের কাছ থেকে বিভিন্ন প্রকার ওষুধ সংগ্রহ ও একত্রিত করেন।
৩। পরিবহন – পাইকারের দোকান থেকে খুচরা দোকানদার তার দোকান পর্যন্ত ওষুধ নিয়ে আসেন।
৪। মজুতকরন – রোগীর চাহিদা মোতাবেক অবিচ্ছিন্নভাবে ওষুধের যোগান দেওয়ার জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ মজুত করে রাখেন।
৫। গ্রহিক সেবা – কোন কোন খুচরা ওষুধের দোকান দিন রাত ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে। ফলে জরুরী প্রয়োজনে রোগী ওষুধ পেতে পারেন। বিশেষ করে বড় বড় হাসপাতালের আশে পাশে এমন ওষুধের দোকান দেখা যায়।
৬। বাজার গবেষণা – ডাক্তারগন কোন্ ধরনের বা কোন্ কোম্পানীর ওষুধ বেশী বেশী প্রেসক্রাইব করেন তাহা খুচরা দোকানীরা ভালভাবে অনুধাবন করতে পারেন। আবার ক্রেসক্রিপশন বিহীন ওষুধ ((OTC,  ওটিসি) ওষুধের মধ্যে কোনগুলি রোগীরা বেশী নিচ্ছে এ তথ্য তারা ভাল বলতে পারেন। খুচরা বিক্রেতা এসব তথ্য পাইকারের মাধ্যমে বা বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে উৎপাদকের নিকট পৌঁছাতে পারেন।


 

ড. মোঃ শাহ এমরান
অধ্যাপক
ফার্মাসিউটিক্যাল কেমেস্ট্রি বিভাগ,ফার্মেসি অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
কো-অরডিনেটর,মলিকুলার ফার্মাকোলজি ও হারবাল ড্রাগ রিসার্চ ল্যাবোরেটরী
কনভেনার,“দ্যা ফার্মেসি গিল্ড অফ বাংলাদেশ (PGB)”

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 2153 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ