রোকেয়া হলে এসব কি হচ্ছে !

Print

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রোকেয়া হলে সিট দখলের মচ্ছব চলছে। এ নিয়ে তুলকালাম কান্ড ঘটে গেছে। ছাত্রলীগের দুই নেত্রীকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তোপের মুখে তার কর্মকান্ড থেকে পিছু হটতে বাধ্য করেছে। এ নিয়ে হল ও বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনার ঝড় উঠেছে। তারা গত কয়েকদিনে ৮/১০ টি কক্ষ দখল করে নিয়েছে বলেও হল সূত্রে জানা গেছে। ওই দুই ছাত্রলীগ নেত্রীর নাম যথাক্রমে লিপি আক্তার ও শ্রাবণী ইসলাম। তাদের দাপটে সাধারণ শিক্ষার্থীরা রয়েছে আতঙ্কে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ছাত্রলীগের কোনো দোষ নাই। বাম ছাত্রসংগঠন এ কাজ করছে।

হল প্রভোস্ট প্রফেসর ড. নাজমা শাহীন ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, ছাত্রলীগ বহিরাগতদের এনে হলে ঝামেলা করার চেষ্টা  করেছিল।  সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে হলের মূল ফটক বন্ধ করে দিয়েছি। আবার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনেই তা খুলে দেয়া হবে।

হল সূত্র জানায়, গত কয়েক দিনের ধারাবাহিকতায় হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম হলের মূল ভবন ও বর্ধিত ভবনের মোট ৯টি কক্ষ দখল করে নেয়। তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাত ও শুক্রবার সকালে দুই দফায়  আরো কিছু সিট দখল করতে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে ওই দুই ছাত্রলীগ নেত্রী।

আরো জানা গেছে, সাধারণ শিক্ষার্থী এবং হল প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দখলকৃত কক্ষ ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এ সময় হল ছাত্রলীগ ইডেন কলেজ ও ঢাবির বিভিন্ন ছাত্রী হল থেকে ছাত্রলীগ কর্মীদের এনে রোকেয়া হলে জড়ো করে।

হল সূত্র আরো জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে হলের ৩০ নম্বর কক্ষের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে উঠিয়ে দিয়ে রুমটি ‘পলিটিক্যাল রুম’ করার ঘোষণা দেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার। এ সময় বাধ্য হয়ে ওই রুম বরাদ্দ প্রাপ্ত ৫ জন ছাত্রী রুমের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে। একপর্যায়ে তাদের সঙ্গে অন্যান্য রুমের ভুক্তভোগীরাও যোগ দিলে হলের নিচে এসে সবাই বিক্ষোভ শুরু করে।

বিষয়টি সম্পর্কে আবাসিক শিক্ষকরা অবগত হলে তারা ছাত্রলীগ কর্মীর জিনিসপত্র বের করে দিয়ে ছাত্রীদের তুলে দেয়। এ সময় ছাত্রলীগ নেত্রীরা হলের ২৩ নম্বর কক্ষটিও দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু সাধারণ শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে তারা দখল করতে ব্যর্থ হয়।

একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে পুনরায় ছাত্রলীগ নেত্রীরা ওইসব কক্ষ দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের মধ্যে বাকবিত-া হয়। হল গেইটে অবস্থান নেয় ছাত্রলীগ নেত্রীরা। অন্যদিকে হলের ভেতরে অবস্থান নেয় সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

একপর্যায়ে ইডেন মহিলা কলেজ ও ঢাবির অন্যান্য হল থেকে বেশ কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীকে নিয়ে আসে হল ছাত্রলীগ। এ সময় সভাপতি লিপি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম একত্রিত হয়ে কর্মীদের নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর তেড়ে আসেন। তাদেরকে মারধরের চেষ্টা করে। ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে। ছাত্রলীগ নেত্রী লিপি আক্তার সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাত-পা ভেঙে দেয়ারও হুমকি দেন।

এর আগে গত কয়েকদিনে হলের মূল ভবনের ৩, ৭, ২৩ ও ৪২ এবং বর্ধিত ভবনের ২১, ২৩, ২৪, ৫৩ ও ৮১ নম্বর রুমও দখল করেন ওই দুই ছাত্রলীগ নেত্রী। এছাড়া আরো কয়েকটি সিটও দখলে নেয় তারা।

২৩ নম্বর কক্ষের ছাত্রী সাইমুম জান্নাত প্রভা ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ছাত্রলীগের নেত্রীরা এসে ফেলে দেয়। এর আগেও তারা প্রতিদিন এসে রুম ছেড়ে দেয়ার হুমকি দেয়। এদিকে ছাত্রলীগ এবং সাধারণ শিক্ষার্থী মুখোমুখি হওয়ায় কক্ষটিতে তালা মেরে দেয় হল প্রশাসন।

এ ব্যাপারে হল ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার ক্যাম্পাসলাইভকে বলেন, বাম ছাত্রসংগঠনের নেত্রীরা সাধারণ ছাত্রীদের ভুল বুঝিয়ে ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়েছে।  তারা ছাত্রীদের বলেছে, সুফিয়া কামাল হলের মতো রোকেয়া হলও পুরোটা পলিটিক্যাল করা  হবে।

 

-ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 188 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ