রোজার আগেই বেড়ে গেছে ছোলার দাম

Print

দেশে প্রতি মাসে ছোলার চাহিদা থাকে ১২ হাজার টন, কিন্তু রমজানকে কেন্দ্র করে সেই চাহিদা বেড়ে ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টনে উন্নীত হয়। রমজান উপলক্ষে চাহিদার বেশি ছোলা ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হয়ে আমদানিকারকের গুদামে পৌঁছেছে। খালাসের পর্যায়েও রয়েছে বেশ কিছু ছোলা।

এর পরও ব্যবসায়ীরা ছোলার দাম বাড়াচ্ছেন, তবে এবার নতুন কৌশলে। প্রতিবার রমজান শুরুর এক সপ্তাহ আগে থেকে ছোলার দাম বাড়লেও এবার অন্তত দেড় মাস আগে থেকেই ধাপে ধাপে বাড়িয়ে ফেলা হয়েছে। রমজান শুরুর আগ পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

index

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে গতকাল প্রতি মণ (৩৭ দশমিক ৩২ কেজি) অস্ট্রেলিয়ার ছোলা বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৭৫০ থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায়। ২০ দিন আগে এর দাম ছিল দুই হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার ৬০০ টাকা। ২০ দিনের ব্যবধানে দাম বেড়েছে মণে ২০০ টাকা। আর গত বছরের আমদানিকৃত ছোলা বিক্রি হয়েছে এর চেয়ে ১০০ টাকা কমে। আর পাইকারি বাজারে মিয়ানমারের ছোলা বিক্রি হয়েছে সবচেয়ে বেশি দামে, মণপ্রতি তিন হাজার ৫০ টাকায়।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের কিং ট্রেডার্সের কর্ণধার পরিতোষ দে কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার বুকিং দর বেড়ে যাওয়ায় এক মাস আগে থেকেই পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে গেছে। এখন অস্ট্রেলিয়ার ছোলা মণপ্রতি দুই হাজার ৭৫০ টাকায় বিক্রি করছি। কিন্তু এখন আমদানি করলে তা বিক্রি করতে হবে তিন হাজার ২০০ টাকায়।’

বাজার ভালো না থাকায় এবার ছোলার আমদানি গত বছরের চেয়ে অনেক কম হয়েছে। ফলে দামটা বাড়তির দিকে রয়েছে জানিয়ে পরিতাষ দে আরো বলেন, তবে বাজারে এখন চাহিদা কমে যাওয়ায় দামও স্থির রয়েছে।

খাতুনগঞ্জের আরেক ট্রেডিং ব্যবসায়ী আর এম ট্রেডার্সের কর্ণধার জ্যোতির্ময় চৌধুরী কাজল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার ছোলা মণপ্রতি দুই হাজার ৭৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মিয়ানমারের ছোলা তিন হাজার ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’যেভাবে দাম বাড়ছে তাতে রমজানের আগ পর্যন্ত কেমন দর হতে পারে জানতে চাইলে জ্যোতির্ময় চৌধুরী আরো বলেন, ‘দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী অবস্থা হয়।’

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত চার মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ৭৫ হাজার টন ছোলা আমদানি হয়েছে। আর বিগত ২০১৪ সালের জানুয়ারি-এপ্রিল এই চার মাসে ছোলা আমদানি হয়েছিল ৮১ হাজার ৭৮ টন। ২০১৫ সালের একই সময়ে আমদানি হয়েছে এক লাখ ৩৮ হাজার ৬০০ টন। ২০১৫ সালে বেশি আমদানি হওয়ায় ছোলার দাম অনেক কম ছিল। সেই বাড়তি ছোলা এখন রমজান উপলক্ষে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। গত ২০১৫ সালে চাহিদার বেশি আমদানি হওয়ায় রমজানের আগে পাইকারি বাজারে মণপ্রতি ছোলা বিক্রি হয়েছিল প্রায় এক হাজার ৯০০ টাকা। সে কারণে এ বছর অনেকেই ছোলা আমদানিতে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছেন। যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।

রিয়াজউদ্দিন বাজার ও কাজীর দেউড়ির খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ‘প্রতিবছর শবেবরাত শুরুর পরই পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়। কিন্তু এবার বেশ আগেভাগেই ধাপে ধাপে দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় আমরা বুঝতে পারলেও ভোক্তারা বুঝে উঠতে পারেনি। ভোক্তারা ঠিকই বুঝবে রমজানের এক সপ্তাহ আগে। তখন হয়তো দেখা যাবে দাম আর বাড়ছে না। এটা পাইকার ও আমদানিকারকদের নতুন কৌশল।’

কাজীর দেউড়ির বড় খুচরা ব্যবসায়ী মেসার্স হক ভাণ্ডার স্টোরের মিজানুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শবেবরাতের পর এবং রমজান শুরুর দুই-তিন দিন আগে ছোলা বিক্রি শুরু হবে। তাই ক্রেতারা এখনো দাম বাড়ার বিষয়টি আঁচ করতে পারেনি। এখন খাতুনগঞ্জ থেকেই অস্ট্রেলিয়ার (সাধারণ) ছোলা কিনতে হচ্ছে কেজি ৭৬ টাকায়, এক মাস আগে কিনেছি ৭০ টাকার নিচে। আর মিয়ানমারের ছোলা কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকা কেজিতে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 39 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ