রোহিঙ্গাদের কারণে এইচআইভি-এইডস এর ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

Print
কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া
রোহিঙ্গাদের কারণে নতুন করে এইডস এর ঝুঁকিতে পড়েছে বাংলাদেশ। কেননা রাখাইন থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে এ পর্যন্ত ২০ জনের দেহে এইচআইভি পজিটিভ পাওয়া গেলেও এখনও ৫ লক্ষাধিক রোহিঙ্গার মাঝে আরো কতজন এইচআইভি পজিটিভ রয়েছে তা শনাক্ত এবং তাদের চিকিৎসার কোন উদ্যোগ এখনও গ্রহন করা হয়নি। ফলে সুপ্ত অবস্থায় থাকা এইসব রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে এদেশে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।
টেকনাফ সরকারী ডিগ্রী কলেজের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক আবু তাহের জানান, আগে থেকে এদেশে থাকা রোহিঙ্গা নারীদের একটি অংশ বিভিন্ন কারণে যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়ার রেকর্ড রয়েছে। তেমনি ভাবে নতুন আসা রোহিঙ্গা নারীদের উল্লেখযোগ্য অংশ কোন না কোন ভাবে যৌন পেশায় জড়িয়ে পড়তে পারে। এছাড়া আইন করেও রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের সাথে স্থানীয়দের বিয়ের প্রথা বন্ধ করা যায়নি। ফলে শনাক্ত না হওয়ার ফলে সচেতন বা অবচেতন ভাবে তাদের মাধ্যমে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা খুবই বেশী। এছাড়া গভীর উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে তাদের মধ্যে কতজন এইচআইভি ভাইরাস বহন করে চলেছে তা আমাদের জানা নেই।
কক্সবাজার সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম জানান, এ পর্যন্ত ২০ জন রোহিঙ্গার দেহে এইচআইভি শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে একজন নারী গত ২০ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। ৭ নারীসহ বাকি ১৯ জনের চিকিৎসা চলছে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে। পজিটিভ রোহিঙ্গাদের ১৮ জন পূর্ব থেকে জানতেন তাদের শরীরে এইচাআইভি রয়েছে। তারা মিয়ানমারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। এখানে আসার পর নিজেরা স্বেচ্ছায় চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হন। এছাড়া অপর দুইজন রোহিঙ্গার দেহে অন্যান্য রোগ নিয়ে এসে পরীক্ষা নিরীক্ষার একপর্যায়ে এইচআইভি ধরা পড়ে। তবে তিনি স্বীকার করেন এখনও ঝুঁকিপূর্ন রোহিঙ্গাদের মাঝে এইচআইভি শনাক্তের কোন উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আপাততঃ জরুরী চিকিৎসা কার্যক্রম চললেও এইচআইভি নিয়ে কর্ম পরিকল্পনা চলছে বলে জানান তিনি।
এনজিও সংস্থা সোসাইটি ফর হেলথ এক্সটেনশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট (শেড) এর নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ উমরা জানান, একুশ শতকের শুরুতে বিশ্বব্যাপী এইচআইভি সংক্রমন ছড়িয়ে পড়ায় এদেশে সরকারী-বেসরকারী উদ্যোগে সেসময় মানুষকে সচেতন করার মধ্য দিয়ে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়া রোধ করা গিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের মাঝে এতো বিপুল সংখ্যক এইচআইভি শনাক্ত হওয়ায় তিনি নিজেও আশ্চর্য হয়েছেন বলে জানান। তিনি ধারনা করছেন এইচআইভি পজিটিভ রোহিঙ্গারা রাখাইনের বুচিডং ও রাচিডং এলাকার হতে পারে। কেননা ২০০৩-০৪ সালের দিকে শেড এইচআইভি-এইডস প্রকল্প নিয়ে কাজ করেছিল। সেসময় স্থানীয় এক হাজার নারী-পুরুষের রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছিল যাদের শরীরে এইচআইভি ভাইরাস শনাক্ত হয়নি। যাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গারাও ছিল যারা মূলত মংডু এলাকা হতে আগত বলে জানান তিনি।
এখন রোহিঙ্গাদের আগমনের ফলে এদেশের জনগোষ্ঠী পুনরায় এইচআইভি ঝুঁকির মধ্যে পড়লো। এইজন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে এইচআইভি-এইডস বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে হবে। যেটা আন্তর্জাতিক কোন এনজিও সংস্থার সহায়তা ছাড়া সম্ভব নয়। এছাড়া এইচআইভি ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে রোহিঙ্গাদের এক জায়গায় রাখতে হবে। তারা যাতে স্থানীয়দের সাথে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে যৌন মিলনে জড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে সন্ধার পর বাহিরের লোকজনের যাতায়াত বন্ধ করা ও রোহিঙ্গারা যাতে বাহিরে যেতে না পারে সে ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হবে। এছাড়া রোহিঙ্গাদের রক্ত সঞ্চালনেও সতর্ক হতে হবে বলে জানান তিনি। ধর্মীয় বিধি নিষেধ মেনে চললে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁিক কমে যায়। এইচআইভি নিয়ে অবহেলার কোন সুযোগ নেই বলে মনে করেন তিনি। অন্যথায় এইচআইভি এইডস ছড়িয়ে পড়লে দেশে আরেক সংকট তৈরী হতে পারে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 78 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ