রোহিঙ্গা ইস্যুতে উখিয়া-টেকনাফে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে

Print
কায়সার হামিদ মানিক,উখিয়া।
জীবন বাঁচাতে মিয়ানমান থেকে পালিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে। এসব রোহিঙ্গা আশ্রিত উপজেলার দুটির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি সংখ্যাও দিন দিন কমতে শুরু করেছে।
কলেজ শিক্ষার্থী কামরুল হাসান টিটু আক্ষেপ করে ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন, “সকাল ৭ টা থেকে এখন প্রায় সাড়ে নয়টা বাজে রাস্তায় দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর গাড়ি না পেয়ে অবশেষে প্রায় ১.৫০ কি.মি হেটে একটা সিএনজি পেলাম। ২০ টাকা ভাড়ার স্থলে ৩০ টাকা দিয়ে অবশেষে কলেজে পৌঁছালাম। এমন করে আর কয় দিন ? এদিকে সামনে এইচএসসি প্রাক নির্বাচনী পরীক্ষা। এইভাবে চললে পরীক্ষা কিভাবে দিবে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী ?”
শিক্ষার্থী আরিফুল কবির আরিফ বলেন, “ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সেনাবাহিনী পুরা কলেজ ব্যবহার করেছে। এটা শুনে ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে আসছে না হয়তো।”গতকাল রবিবার সকাল ১১ টার দিকে উখিয়া কলেজে গিয়ে দেখা যায়, একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস নিচ্ছেন ইংরেজী বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম চৌধুরী। উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১১জন। অনুরুপ অন্যান্য শ্রেণি কক্ষগুলোতেও।
কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে শ্রেণিতে ৪৭৮ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। রোহিঙ্গা আসার পরবর্তী সময় থেকে দিন দিন উপস্থিতির হারে প্রভাব পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে উখিয়া কলেজের অধ্যক্ষ ফজলুল করিম বলেন, পড়ালেখার সুষ্ঠু পরিবেশ শতভাগ ব্যাহত হচ্ছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফে আশ্রয় নেওয়ায় রাস্তায় তীব্র যানজট, গাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি এবং রাস্তায় নিরাপত্তা জনিত কারণেও শঙ্কিত থাকে অনেক ছাত্রীদের অভিভাবক।
অধ্যক্ষ বলেন, উখিয়া কলেজে সেনাবাহিনী ও বিজিবি অস্থায়ী ভিত্তিতে ক্যাম্প করায় পাঠদানের সুষ্ঠু পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা কলেজে আসতে বাধাগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি যত্রতত্র আর্মি ও বিজিবি সদস্যদের আনাগোনায় বিব্রতবোধ করছে বলেও তিনি জানান।
তাছাড়া রোহিঙ্গা আগমণকে কেন্দ্র এনজিওগুলো অস্থায়ী ভিত্তিতে লোক নিয়োগ দিচ্ছে। আর শিক্ষার্থীরা এসব চাকরি পেতে ছুটছে প্রতিনিয়ত। এ কারণে উপস্থিতির হার দিন দিন কমতে শুরু করেছে বলেও ধারণা করছেন তিনি।
রোহিঙ্গা আগমণ কেন্দ্র করে উখিয়ার শিক্ষা কার্যক্রম দেখতে গত ৭ অক্টোবর উখিয়া কলেজ পরিদর্শন করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. এমএস ওয়াহিদুজ্জামান।
এ সময় তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ রাশেদ আকতার এসপিপি’র সাথে কথা বলে পাঠদান উপযোগী প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম মিঞা বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি এ পর্যন্ত। তবে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম কিছুটা ব্যহত হচ্ছে।
উখিয়া উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোকতার আহমদ বলেন, রাজাপালং ইউনিয়নের ১টি এবং পালংখালী ইউনিয়নে ৪টি সহ মোট ৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রোহিঙ্গার সমস্যায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। তবে এ পর্যন্ত কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি বলে তিনি জানান।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 52 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ