রৌমারীতে বন্যার পানি কমতেই রাক্ষস ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক ভাঙন

Print

সুজাউল ইসলাম সুজা, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) :
রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার ৩৫টি গ্রাম ব্রহ্মপুত্র নদের পূর্ব পাড় (বামতীর) বন্যার পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। জুলাই মাসেই দু’টি উপজেলার প্রায় ৭০০ বাড়ি রাক্ষস ব্রহ্মপুত্র নদে ভেঙে গেছে, এছাড়াও কাঁচা, পাকা রাস্তা, মসজিদ, মাদ্রসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাটসহ ফসলীয় জমি নদে গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
রৌমারী উপজেলার ভাঙন এলাকাগুলো হলো- ইটালুকান্দা, সাহেবের আলগা, চর গেন্দার আগলা, চরঘুঘুমারী, ঘুঘুমারী, খেরুয়ারচর, পূর্ব খেরুয়ারচর, পূর্ব খেদাইমারী, উত্তর খেদাইমারী, পশ্চিম পাখিউড়া, পাখিউড়া, পশ্চিম বাগুয়ারচর , বাগুয়ারচর ,বাইসপাড়া, বলদমারা, পূর্ব বলদমারা, ধনারচর, ধনারচর নতুন গ্রাম, দিগলাপাড়া, তিনতেলী।
রাজিবপুর উপজেলার শঙ্কর মাদবপুর, সাজাই, চরসাজাই,বল্লাপাড়া, উত্তর কোদালকাটি, নয়ারচর, নয়ারচর বাজার, মাঠের ভিটা, লাউশালা,টাঙ্গইলাপাড়।
এদিকে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের কবলে রৌমারী উপজেলার আরও প্রায় বিশটি গ্রাম সাহেবের আলগা, গেন্দার আলগা, চরসোনাপুর, ঘুঘুমারী, উত্তর খেদাইমারী, পাখিউড়া, জামাইপাড়া, বাগুয়ারচরপয়েচিপাড়া, বাগুয়ারচর, বাইটকামারী, পশ্চিম খনজনমারা, খনজনমারা, বাইশপাড়া, কুঠিরচর, চরবাঘমারা, চরবন্দবেড়, ধনারচর, দিগলাপাড়া, ধনারচর নতুন গ্রাম।
প্রতি বছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনের ফলে একের পর এক ঘর-বাড়ি, ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গাছপালা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ তাদের বাব দাদার ভিটে মাটি হারিয়ে পরিনত হচ্ছে ভূমিহীনে। এসব পরিবার সব কিছু হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে বিভিন্ন রাস্তার দু’পাশে হেলিপ্যাডে আত্মীয় স্বজনদের বাড়িতে ঝুপড়ি তুলে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন রোধে জরুরি কোনো পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে রৌমারী উপজেলা পরিষদ ভবনসহ সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদ নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।
বলদমার গ্রামের হামিদা খাতুন জানান, আমাগো আবাদি জমি নাই, সব নদীতে ভাঙয়া গেছে, ঘাট পাড়ে দোকান করে খাইছি তাও নদীতে ভাঙয়া গেছে।
পশ্চিম বাগুয়ারচর গ্রামের কোরবান আলী বলেন, এক বছরে আমরা দুই বার বাড়ি টান দিছি, নিজে বাড়ি নেওয়ার জমি নাই, আমাগো একটাই দাবি আমরা রিলিফ চাইনা, নদী বাঁইনধা দ্যাখ, নিজে জমিতে ঘর তুইলা শান্তিতে পোলাপান নিয়া থাকবার চাই।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ:দা:) ফাউজুল কবীর বলেন, ‘বন্যা পানি হ্রাস সাথে সাথে রৌমারী উপজেলার চরশৌলমারী, বন্দবেড়, যাদুরচর ও রাজীবপুর উপজেলার কোদালকাটি, মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের ব্যাপক ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।’
রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বলেন, ‘নদী ভাঙন রোধে সরকারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এভাবে ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন অব্যাহত থাকলে অদুর ভবিষ্যতে মহান মুক্তিযুদ্ধের মুক্তাঞ্চল হিসেবে পরিচিত রৌমারী উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্র হতে বিলিন হয়ে যাবে।’

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 175 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ