র‌্যাগিংয়ের নামে ছাত্রীর সঙ্গে এসব কী!

Print

কথাগুলো বলছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ফলিত পদার্থ, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী ঝরনা (ছদ্ম নাম)।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (০২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ফলিত পদার্থ, ইলেকট্রনিক্স এন্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে নবীন (২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের ৩১৯ নং কক্ষে ক্লাস চলছিল।

ক্লাস শেষে ওই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো: জাকির হোসেন, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের রেসালাত হাসান মেরিনসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ক্লাসে ঢুকে নবীণ শিক্ষার্থীদেরকে বিভিন্ন ভাবে র‌্যাগিং করতে থাকে।
এসময় তারা ছাত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন অশালীন উক্তি করে বলেও জানা গেছে। এক পর্যায় তারা ছাত্রীদেরকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞাসা করে ‘তোদের সাইজ কত?’ এসময় সেখানে উপস্থিত ছাত্রীরা লজ্জায় মাথা নিচু করে রাখে বলে উপস্থিত অন্য শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।
জাকির ও মেরিন বিশ্ববিদ্যালয় সাদ্দাম হোসেন হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি কামরুজ্জামান খান সাগরের অনুসারী ও হল শাখা ছাত্রলীগের কর্মী।
তারা প্রভাব খাটিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলেও ঝরনাকে মোবাইল ফোনে বিশ্ববিদ্যালয় সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসতে বলে। এসময় তারা মোবাইলে বিভিন্ন হুমকি ধামকি দিলে ঝরনা তাদেরকে খালেদা জিয়া হলের সামনে আসতে বলেন।
পরে ছাত্রী হলের সামনে এসেও মেরিন, রিসালতসহ ৬-৭জন ওই ছাত্রীকে বিভিন্ন অশালীন কথা বলে এবং ছবি তোলার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এসময় তারা ওই ছাত্রীকে বলে, ‘তুই তো ফেমাস হয়ে গেছিস। তোকেতো ফোন করে পাওয়া যায়না। তুইতো একটা মাল। তোর মালের সাইজ কত? পরে সেখানে উপস্থিত অন্য ছাত্রদের সহযোগীতায় হলে ফেরেন ঝরনা।
এবিষয়ে ওই ছাত্রী বলেন, ‘তারা ক্লাসে আমাদেরকে র‌্যাগ দিয়েছে এবং খুব বাজে বাজে কথা বলেছে। পরে আমাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে ফোন দিয়ে সাদ্দাম হোসেন হলের সামনে আসতে বলে। না আসলে ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায় বাধ্য হয়ে আমি তাদেরকে খালেদা জিয়া হলের সামনে আসতে বলি। সেখানে আসার সময় অন্য বান্দবীদেরকেও সাথে আনতে চাইলে তারা নিষেধ করে। একপর্যায়ে হলের সামনে আসলে তারা আমাকে ঘিরে ধরে বিভিন্ন বাজে কথা বলে। তখন তারা আমার ছবিও তোলার চেষ্টা করে। পরে অন্য ভাইয়াদের সহযোগিতায় আমি হলে চলে যাই। ’
তবে র‌্যাগিংয়ের বিষয়টি অস্বীকার করে রেসালাত হাসান মেরিন বলেন, বিভাগের ছোট বোনদের সাথে পরিচিত হতে ক্লাসে গিয়েছিলাম। সেখানে পরিচয় পর্ব সম্পন্ন না হওয়ায় এবং তাদের সাথে নাস্তা করবো এজন্য ডেকেছিলাম।’
বিভাগীয় সভাপতি প্রফেসর ড. মনজারুল আলম বলেন, ‘অভিযোগ পেলে একাডেমিক ভাবে ঘটনার সত্যতা জাচাই করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 210 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ