লক্ষাধিক শেয়ার করা আজিব একটি খবর

Print

 

ডা. তরফদার জুয়েল
______________________________

আজিব দেশ আজিব আদমি ।

কয়দিন ধরে লক্ষাধিক ব্যক্তি কর্তৃক শেয়ার করা একটি খবর ___________

“আইসিইউ থেকে মৃত রোগি বের করার সময় ভালভাবে দেখতে হবে, তার বগলে কোন ফুটা আছে কি না। কারন ওই ফুটা দিয়ে গরুকে দেয়া ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ দিয়ে ইঞ্জেকশন দিয়ে ২৮ দিন পর্যন্ত মৃত রোগি বাচিয়ে রেখে টাকা আদায় করা হয়”

ভয়ানক খবর!!!!

আমার মনে হয় যে বলদে এই আবিষ্কার করছে, সে আসলে CV (Central venous catheter) Line এর ফুটা দেখে এইটা আবিষ্কার করছে।

CV লাইন হল রোগির সংকটাপন্ন অবস্থায় বিশেষ করে

যে রোগি অজ্ঞান বা মুখে খেতে পারে না, তাকে স্যালাইনের মাধ্যমে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট সহ সকল খাদ্য উপাদান সরবরাহ করার জন্য

অথবা

যে ওষুধগুলো হাতে বা পায়ের চিকন শিরায় দিলে ক্ষতি হবার চান্স থাকে, সেই ওষুধগুলো দেয়ার একটা সেন্ট্রাল চ্যানেল, যা সাধারণত বিশেষ প্রক্রিয়ায় বুকের উপরের দিকে মুল শিরায় করা হয়।

এই চ্যানেল মুমূর্ষু রোগির জন্য যে কতখানি উপকারি বা দরকারি তা বোঝানোর কোন ভাষা আমার জানা নাই। আর বলদ পাবলিক এইটাকে নিয়ে যে খবর বানাল, তাতে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে, ডাক্তার-রোগি সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে ডিনামাইট ফিট করল, তার ফল কয়দিন পরেই পাওয়া যাবে।

কিছুদিন আগের খবর-

১. “শ্বাসকস্টের রোগির চিকিৎসা করতে গিয়ে গলা কেটে রোগি মারল কসাই ডাক্তার।”

প্রকৃত ঘটনা : দীর্ঘদিন বিনা চিকিতসায় থাকা Ca Larynx এর রোগির হঠাত শ্বাসকষ্ট শুরু হওয়ায় জীবন বাচানোর জন্য ডাক্তার Tracheostomy ( শ্বাসনালিতে ব্লক থাকলে জরুরি ভিত্তিতে শ্বাস নালিতে ফুটা করে নল লাগান ) করেছিল কিন্তু রোগির মৃত্যু পর বাকি সব ইতিহাস।

২. “বুকে ব্যথার রোগির বুকের উপর উঠে চাপাচাপি করায় রোগির মৃত্যু, হাসপাতাল ভাংচুর।”

প্রকৃত ঘটনা: হার্ট এটাক পরবর্তি কার্ডিয়াক এরেস্টে CPR ( হার্ট কোন কারনে হঠাত বন্ধ হয়ে গেলে একটি লাইফ সেভিং পন্থা) দেয়া হয়েছিল কিন্তু রোগি মারা যাওয়ার পর ডাক্তার দানবে পরিণত হয়েছে।

৩. “নাকের অপারেসনের রোগির নাকের পরীক্ষা না করে বুকের Xray ও কিডনীর পরীক্ষা করল কমিশনখোর ডাক্তার।”

প্রকৃত ঘটনা: রোগীকে সম্পূর্ণ অবশ করার অাগে তার শরীরের সকল গুরুত্বপূর্ণ অংগের পরীক্ষা করা হয়েছে, যা রোগীর অপারেসনের ফিটনেস দেখার জন্য করা হয়।

৪. “মরা রোগিরও ইসিজি করে কমিশনখোর ডাক্তার।”

প্রকৃত ঘটনা: রোগি মৃত্যুর পর একটি মেডিকেল ডকুমেন্ট হিসাবে ইসিজি করা হয়।

৫. “সাপে কাটা রোগীকে একসাথে ১০ ইঞ্জেকসন দেয়ায় রোগির মৃত্যু, ভুল চিকিতসার অভিযোগে ডাক্তারকে মারধর।”

প্রকৃত ঘটনা: বিষধর সাপে কাটা রোগীর চিকিতসাই হল একসাথে ১০ ভায়াল এন্টিভেনম দেয়া।

৬. “বিষ খাওয়া রোগিকে শতাধিক ইঞ্জেকসন দিয়ে মেরে ফেলল শিক্ষাণ-বিষ ডাক্তার।”

প্রকৃত ঘটনা: OPC POISONING ( organophosphoras compound poisoning, কৃষি কাজে ব্যবহৃত একটি অতি পরিচিত কিটনাশক) এর চিকিতসা হল- ৫ অ্যাম্পুল Atropin প্রথমে দেয়া, পরবর্তিতে ডাবল ডোজ অর্থাৎ ১০, ২০, ৪০, ৮০ এভাবে চলবে; যতক্ষণ পর্যন্ত Sign of atropinization অর্থাৎ বিষের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে Atropin এর ক্রিয়া দেখা যাবে। এভাবেই চিকিতসা চলছিল কিন্তু বিষ বেশি খাওয়ায় আগে ভাগে রোগি মারা যাওয়ায় চিকিৎসক হয়েছে কসাই অার আমজনতা হয়েছে ডাক্তার।

ভাইরে, কই যামু? জমিন তো ফাক হয় না।

___________________________________

ডা. তরফদার জুয়েল
স্নাতকোত্তর (এফসিপিএস) শিক্ষার্থী,
সাবেক ছাত্র- রাজশাহী মেডিকেল কলেজ।

daktarprotidin

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 1072 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ