লাভের বিসিআইসি এখন লোকসানে

Print
..

টানা তিন বছর লাভের পরপর আবার লোকসানে পড়েছে বাংলাদেশ রসায়ন শিল্প সংস্থা (বিসিআইসি)। সংস্থাটির ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৯টিতে গত অর্থবছরে ৩৩৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। আর বাকি চারটি প্রতিষ্ঠানের লাভ হিসাব করলেও সব মিলিয়ে লোকসান প্রায় ৭৮ কোটি টাকা। অথচ এর আগের বছরও প্রতিষ্ঠানটি ৯৩ কোটি টাকা লাভ করেছিল।
বিসিআইসির কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের অদক্ষতা, গাফিলতি ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণেই ডুবতে বসেছে বিসিআইসি এবং এর অধীন ১৩টি প্রতিষ্ঠান। এর ফলে হতাশায় আছেন এখানকার আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী। অভিযোগ উঠেছে, বিসিআইসি লোকসান করলেও অতিরিক্ত গাড়ি ব্যবহারসহ চেয়ারম্যান নানা ধরনের অনৈতিক সুবিধা নিচ্ছেন।
বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২১৭ কোটি টাকা লাভ করেছিল বিসিআইসি। কিন্তু ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর মোহাম্মদ ইকবাল যোগ দেওয়ার পরই দুর্নীতি, অনিয়ম ও একের পর এক ভুল সিদ্ধান্তে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে লাভ কমে নেমে আসে ৯৩ কোটি ৪৪ লাখে। কিন্তু পরের বছর লোকসান হয় ৭৭ কোটি ৭৯ লাখ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই লোকসান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিসিআইসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইকবাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিসিআইসির বছর ওয়ারি কোনো লাভ-লোকসানের হিসাব আমার জানা নেই।’ একটা প্রতিষ্ঠানের লাভ-লোকসানের হিসাব কেন থাকবে না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি গত দুই বছর ধরে আয়-ব্যয় সমান করার চেষ্টা করেছি। বিসিআইসিতে যোগ্য কর্মকর্তার অভাব। নানা সমস্যা আছে। আমি তারপরও দুই বছর চেষ্টা করেছি। আমি হয়তো ব্যর্থ।’
বিসিআইসির অধীনে বর্তমানে থাকা ১৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রামের কেমিক্যাল কমপ্লেক্স (সিসিসি) এখন বন্ধ। এটি চালু করার জন্য চীনা একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ১৪ মাসের বদলে ৪২ মাস পেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পটি চালু হয়নি। বিদায়ী অর্থবছরে ৪১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
সিসিসি বাদে বাকি ১২টির প্রতিষ্ঠান চালু থাকলেও ৯টিই গত অর্থবছরে লোকসান করেছে। এর মধ্যে ঘোড়াশাল সার কারখানায় (ইউএফএফএল) গত অর্থবছরে ৯৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা, চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানায় (সিইউএফএল) ৫৭ কোটি ২ লাখ টাকা ও পলাশ সার কারখানা (পিইউএফএফএল) ৩১ কোটি ৫৬ লাখ টাকা লোকসান করেছে। অথচ এর আগের বছরগুলোতে এই প্রতিষ্ঠানগুলো লাভ করেছিল।
বিসিআইসির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, এই সার কারখানাগুলোতে যথাসময়ে গ্যাস দেওয়া হয়নি। সেখানকার যন্ত্রাংশগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপিএফসিএল) সার কারখানায় গত বছর অ্যামোনিয়া ট্যাংকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এখনো সেটি ঠিক করা হয়নি। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের ন্যাচারাল গ্যাস সারকারখানা (এনজিএফএফ) ও শাহজালাল সারকারখানা (এসএফসিএল) গত অর্থবছরে ১৩ কোটি ১৩ লাখ কোটি টাকা লোকসান করেছে।
বিসিআইসি সূত্রে জানা গেছে, বিসিআইসির আটটি সার কারখানার মধ্যে গত অর্থবছরে মাত্র তিনটি লাভ করেছে। এগুলো হলো যমুনা সার কারখানা, আশুগঞ্জ সার কারখানা ও চট্টগ্রামের টিএসপি সার কারখানা। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই আগের বছরের চেয়ে কম লাভ করেছে।

-প্রথম আলো

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 122 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ