লামায় ৩দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

Print

মোঃ ইউছুপ মজুমদার, বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৩দিনব্যাপী ফলদ বৃক্ষ মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) বিকালে লামা উপজেলা পরিষদ চত্বরে আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। এতে উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াই নু অং চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো: নুরে আলমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের সভায় বক্তব্য রাখেন, পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য মোঃ মোস্তফা জামাল, লামা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ সায়েদ ইকবাল, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারাবান তহুরা, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রাশেদ পারভেজ, উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা জুয়েল মজুমদার, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। এসময় বক্তারা পুষ্টি শুন্যতা পুরণে দেশীয় ফলের চাষাবাদ বাড়ানোর উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশীয় ফলে ভিটামিনের সকল পুষ্টি উপদান রয়েছে। তাই আমাদের সাধারণ বৃক্ষের পাশাপাশি বেশী করে দেশীয় ফলমূল গাছ রোপন করতে হবে। এসময় বক্তারা আরো বলেন, প্রকৃতির শোভা বর্ধনেই নয়, গাছ আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র এবং মানুষের জীবন বাঁচাতে সহায়তা করে। গাছ থেকে যে পরিমাণ অক্সিজেন আমরা গ্রহণ করি ঠিক সেই পরিমাণ মানুষের শরীর থেকে নির্গত কার্বন-ডাই-অক্সাইড বৃক্ষ গ্রহন করে। বক্তারা বিশেষজ্ঞদের মতের বরাত দিয়ে জানান, আমাদের দেশের আয়তন ও জনসংখ্যা অনুপাতে ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন কিন্তু কাগজে কলমে ১৬-১৮ভাগ দেখানো হলেও বাস্তবে রয়েছে ১০-১২ ভাগ বনভূমি। গাছ শুধু অক্সিজেন তৈরি এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্রহণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন পাহাড় ধস, বন্যা, খরা, ঝড়, জলোচ্ছাস ইত্যাদি থেকে আমাদের রক্ষা করে। বিভিন্ন প্রজাতির ফুলগাছ প্রকৃতিকে নয়নাভিরাম দৃশ্যে পরিণত করে। সবুজ বৃক্ষের সমারোহ আমাদের দৃষ্টিশক্তিকে আরও প্রখর করে। তাই আসুন একটি গাছ কাটলে অন্তত ১০টি গাছ রোপন করি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গোপন চৌধুরী, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ মেলার আয়োজন করে। তিনদিনব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলায় সরকারী বেসরকারীও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ বৃক্ষের চারা নিয়ে স্টলে অংশগ্রহন করে। পরে সেরা ষ্টল ও কৃষকদের মাঝে ৫ ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করে পুরস্কার প্রদান করেন আগত অতিথিবৃন্দ। পুরস্কার প্রাপ্ত সরকারী পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, ২য় স্থান অধিকার করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ৩য় স্থান অধিকার করেন লামা বনবিভাগ, বেসরকারী পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করেন, ব্রিটিশ অ্যামেরিকান ট্যোবাকো বাংলাদেশ লিঃ, ২য় স্থান অধিকার করেন ঢাকা ট্যোবাকো কোং, আবুল খায়ের ট্যোবাকো কোং লিঃ ৩য় স্থান অধিকার করেন। এনজিও পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করেন কারিতাস খাদ্য নিরাপত্তা প্রকল্প, ২য় স্থান অধিকার করেন, কারিতাস স্যাপলিং প্রকল্প, ব্যক্তি পর্যায়ে ১ম স্থান অধিকার করেন, খাজা নার্সারী চকরিয়া, উত্তর বঙ্গ নার্সারী ২য় স্থান এবং আল্লাহর দান নার্সারী ৩য় স্থান অধিকার করেন। এছাড়াও অন্যান্য অংশগ্রহনকারী প্রতিষ্ঠান গুলোকে সাত্বনা পুরস্কার প্রদান করা হয়। পুরস্কার বিতরণ শেষে সরকারী রাজস্ব অর্থায়নে উপজেলার ৬০জন কৃষকের মাঝে মাল্টা চারা, সার, কিটনাশক ও ছত্রাক নাশক , সাইনবোর্ড ও গর্ত খনন এবং খুটি বাবদ নগদ দুই হাজার টাকা প্রদান করা হয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 156 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ