লিটন হত্যা: এখনো অন্ধকারে পুলিশ

Print

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যার ছয় দিন পার হলেও এখন পর্যন্ত খুনিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ পর্যন্ত যে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে, তাদের বিষয়েও কোনো তথ্য দিচ্ছে না বাহিনীটি।
গত শনিবার সুন্দরগঞ্জে নিজ বাড়ির বৈঠকখানায় লিটনকে গুলি করে হত্যা করা হয়। দুটি মোটরসাইকেলে করে আসা পাঁচজন এই হত্যায় অংশ নেয়- আপাতত এই তথ্যটুকুই জানা গেছে। এই পাঁচজন কারা, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় কী, তাদের সঙ্গে স্থানীয় সংসদ সদস্যের কী বিরোধ ছিল- এসব বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্যই প্রকাশ পায়নি।

এই হত্যার পর থেকেই লিটনের পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে জামায়াতকে দায়ী করে বক্তব্য দেয়া হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ বরাবরই জামায়াতের সহিংসতাপ্রবণ এলাকা। লিটনই এখানে স্বাধীনতাবিরোধী দলটির আধিপত্য ভেঙে দিতে বেশ সফল হয়েছিলেন। এ কারণেই তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে অভিযোগ করছে ক্ষমতাসীন দল। এমনকি প্রধানমন্ত্রীও একই দিকে ইঙ্গিত করেছেন। এখন পর্যন্ত যতজনকে আটক করা হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই জামায়াত-শিবিরের রাজনীতিতে জড়িত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বুধবার ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানান, সদর থানা পুলিশ, র‌্যাব, গোয়েন্দা বিভাগ, পুলিশের বিশেষায়িত তদন্ত দল এই খুনের রহস্য উদঘাটন এবং খুনিদের গ্রেপ্তারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এই হত্যার তদন্তে জামায়াত-শিবির চক্র, পারিবারিক শত্রুতা এবং জেএমবি জঙ্গি- এই তিনটি বিষয়ের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার বিকালে লিটন হত্যার প্রত্যক্ষদর্শী পরিবারের লোকজন ও বাড়ির তত্ত্বাবধায়কদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী শ্যালক বেদারুল আহসান বেতারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এই জিজ্ঞাসাবাদের কারণ সম্পর্কে পুলিশ সুপারের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ ব্যাপারে তদন্তের স্বার্থে কোনো কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানান।
উপজেলা জামায়াতের আমিরের দুই সন্তান উধাও
লিটন হত্যার পর থেকেই সুন্দরগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমির ইউনুস আলীর ছেলে শহিদুল ও আশরাফুল বাড়ি থেকে উধাও হয়ে যান। এই দুজন সুন্দরগঞ্জের একাধিক নাশকতা এবং ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি বামনডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে চার পুলিশ সদস্যকে পিটিয়ে হত্যার মূল আসামি। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হলেও পরে তারা জামিনে মুক্তি পান। তাদের হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়া নিয়েও আছে নানা কানাঘুষা।
তদন্তে অগ্রগতির তথ্য পেয়েছেন ডেপুটি স্পিকার।
বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্স থেকে ফেরার সময় গাইবান্ধার সংসদ সদস্য ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি মিয়া এমপি বলেন, ‘আমি জেলার পুলিশ সুপারের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি এবং অগ্রগতি পর্যালোচনা করছি। পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম আমাকে জানিয়েছেন হত্যা মামলা তদন্তের অগ্রগতি হচ্ছে। শিগগির খুনিরা ধরা পড়বে এবং খুনের প্রকৃত তথ্যও জানা যাবে।’ তবে তদন্তে অগ্রগতির কোন তথ্যটি পাওয়া গেছে- এ বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার খোলাখুলি কিছু বলেননি।
এই ঘটনায় পারিবারিক কোন্দল জড়িত বলে চাওর হওয়া কথাকে দুর্বৃত্তদের একটি অপপ্রচার এবং খুনের ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন ডেপুটি স্পিকার।
একাধিকবার হত্যা প্রচেষ্টা হলেও বাড়িতে সিসি ক্যামেরা ছিল না
স্বজনরা জানান, লিটনকে ঢাকা ও সুন্দরগঞ্জে মোট তিনবার হত্যার প্রচেষ্টা চালিয়েছিল জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররা। প্রতিবার তিনি অল্পের জন্য রক্ষা পান। হত্যাকা-ের আগে কয়েক দিন ধরে তার মোবাইল ফোনে এসএমএস দিয়ে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেয়া হয়। তারপরও তিনি তার নিরাপত্তার বিষয়ে উদাসীন ছিলেন। তাই বাড়িতে কোনো সিসি ক্যামেরাও লাগাননি।
লিটনের ঘনিষ্ঠ স্থানীয় ডি ডাবি¬উ ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক আলমগীর জানান, ‘এমপি হওয়া সত্ত্বেও মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন নিজকে তৃণমূল মানুষের নেতা মনে করতেন। তিনি তার বিশেষ বরাদ্দের টাকায় সুন্দরগঞ্জ থানা, উপজেলা পরিষদ এবং সুন্দরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লে¬ক্সে সিসি ক্যামেরা লাগানোর ব্যবস্থা করেন। অথচ নিজে নিরাপত্তার জন্য তার বাড়িতে প্রশাসন ও পুলিশের অনুরোধ সত্ত্বেও সিসি ক্যামেরা লাগাননি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 102 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ