শততম টেস্টের বোলাররা প্রথম দিনটি রাঙালেন

Print

শততম টেস্ট ম্যাচটি স্মরণীয় করে রাখতে চাই- কলম্বো টেস্ট শুরুর আগে বাংলাদেশের প্রায় সব ক্রিকেটারই এভাবে বলেছেন। শততম টেস্ট স্মরণীয় করে রাখার প্রথম দায়িত্ব উঠেছিল বোলারদের কাঁধে। যে দায়িত্ব ভালোভাবেই পালন করলেন বাংলাদেশের বোলাররা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শততম টেস্টের প্রথম দিনটি রাঙিয়ে রাখলেন মুস্তাফিজ, মিরাজ, সাকিব, তাইজুলরা।

দিনেশ চান্দিমালের অপরাজিত ৮৬ রান বাদ দিলে পুরোটা দিন শাসন করেছে শুধু বাংলাদেশই। দেখে বোঝার উপায় নেই এই শ্রীলঙ্কাই গল টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪৯৪ রান করেছিলো। কলম্বো টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের বোলারদের বোলিং তোপের মুখে ১৯৫ রান তুলতেই সাত উইকেট হারিয়ে বসেছে স্বাগতিকরা। প্রথম দিন শেষে লঙ্কানদের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে সাত উইকেট ২৩৮ রান।

প্রথম দিনের শেষটা অবশ্য তুলনামূলক খারাপ গেছে বাংলাদেশের। রঙ্গনা হেরাথকে সাথে নিয়ে অষ্টম উইকেটে অবিচ্ছিন্য ৪৩ রানের জুটি গড়েছেন দিনেশ চান্দিমাল। এই সময়টাতে আর আঘাত হানতে পারেননি বাংলাদেশের কোনো বোলার। অবশ্য একবার রিভিউ নিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছেন লঙ্কান অধিনায়ক রঙ্গনা হেরাথ। সাকিবের এলবিডব্লিউর আবেদনে সাড়া দিয়ে আম্পায়ার আউট ঘোষণা করলেও রিভিউ নিয়ে এ যাত্রায় বেঁচে যান লঙ্কান অধিনায়ক।

তবে বাংলাদেশ যে স্বস্তি নিয়েই প্রথমদিনের খেলা শেষ করেছে সেটা বলাই যায়। প্রথম টেস্টে ২৫৯ রানে হার মানা দলের বিপক্ষেই নতুন করে নিজেদের হাজির করেছে মুশফিকবাহিনী। ২০০ পেরনোর আগেই প্রতিপক্ষের সাত ব্যাটসম্যানকে সাজঘরে পাঠিয়েছেন বাংলাদেশের বোলাররা। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত শততম টেস্টের রোমাঞ্চ নিয়েই আছে বাংলাদেশ।

প্রথম দিন শেষেই বাংলাদেশের ঝুলিতে শ্রীলঙ্কার ১০ উইকেট উঠতে পারতো। কিন্তু আলো স্বল্পতার কারনে সেটা আর সম্ভব হয়নি। ৬.৫ ওভারের খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি আলো স্বল্পতার কারণে। ৮৩.১ ওভারে শ্রীলঙ্কা ২৩৮ রান তোলার পর প্রথম দিনের খেলা স্থগিত ঘোষণা করেন মাঠের দুই আম্পায়ার আলিম দার ও সুন্দরম রবি।

বল হাতে বাংলাদেশের শুরুটা ছিলো দূর্বার। শ্রীলঙ্কার দলীয় রান তখন ১৩। বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের দেয়া একটি বাইরের ফ্লাইট ডেলিভারি শট খেলতে গিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ধরা পড়েন লঙ্কান ওপেনার দিমুথ করুনারত্নে। ভাঙনের শুরু এখান থেকেই। ১৩ রানে প্রথম উইকেট হারানো শ্রীলঙ্কাকে চেপে ধরেন মিরাজ।

দলীয় ২৪ রানে কুশল মেন্ডিজ ও ৩৫ রানের মাথায় উপুল থারাঙ্গাকে ফিরিয়ে দেন বাংলাদেশের তরুণ এই স্পিনার। দলীয় ৭০ রানের মাথায় শুভাশিষ রায়ের বিষে আঘাতে আরো কাবু হয়ে পড়ে শ্রীলঙ্কা। চার উইকেট হারিয়ে লঙ্কানরা যখন হাবুডুবু খাচ্ছে তখনই ছোবল বসান স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তার শিকার ৩৪ রান করা ধনঞ্জয়া ডি সিলভা।

তখনো ভেল্কি দেখাতে পারেননি বাংলাদেশ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। কিন্তু নিজের ১৩তম ওভার করতে এসেই দেখিয়ে বাম হাতের খেল। নিরোশান ডিকভেলার স্টাম্প উপড়ে নেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি এই অভিজ্ঞ স্পিনার। এরপর আবারো মুস্তাফিজ ঝলক।

করুনারত্নের মতো অনেকটা একইভাবে বাইরের দিকে ফ্লাইট ডেলিভারি দিয়ে দিলরুয়ান পেরেরাকে বোকা বানান কাটার মাস্টার। ১৯৫ রানের মধ্যেই সাত উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। এরপর অবশ্য আর উইকেট হারায়নি শ্রীলঙ্কা। মুস্তাফিজ ও মিরাজ দুটি করে করে উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া সাকিব, শুভাশিষ ও তাইজুল একটি করে উইকেট নেন।

স্মরণীয় করে রাখার কথা অনেকটাই রেখেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। বাকি তিন উইকেট নিতে হয়তো দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনই যথেষ্ট হবে মুস্তাফিজ, মিরাজ, সাকিবদের জন্য। আসল লড়াই হবে তখন থেকেই। বোলারদের মতো ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখার পথে হাঁটতে পারবেন তো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা!

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 106 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ