শাবি ছাত্রের সুইসাইড নোটে যা লিখা ছিল

Print

শয়ণকক্ষ থেকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তার নাম বিশ্বজিৎ মল্লিক। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ধারণা তিনি আত্মহত্যা করেছেন। লাশ উদ্ধারের ধরন দেখে এমনটাই ধারণা করছে পুলিশ।

ওই ছাত্র আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। চিঠির শুরু হয় প্রথম কথা দিয়ে। এর শেষে লেখা রয়েছে পঞ্চম কথা।

বিশ্বজিতের সুইসাইড নোটে ‘প্রথম কথায়’ একে অন্যের প্রেমিকাকে নিয়ে কটু কথা বলার বিষয়টি দৃষ্টিপাত করে দোষ-ত্রুটি যা-ই থাক সামনা-সামনি কথা বলার বিষয়ে আলোকপাত করা হয়। কারো পেছনে কোনো কথা না বলার জন্যও বলা হয় সেখানে।

‘দ্বিতীয় কথা’ পয়েন্টেও প্রেমিকা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে। যেখানে, যাদের প্রেমিকা আছে তারাও অপরের প্রেমিকা নিয়ে যেন মাথা ঘামায় এমন কথা বলা হয়েছে।

‘তৃতীয় কথা’ পয়েন্টে লেখা হয়েছে, বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার পর একে অপরের প্রতি বিদ্রুপ ও অশালীন মন্তব্য করার কথা, যেটা ঠিক নয় তার মতে। এ পয়েন্টে একটা প্রশ্ন করা হয়েছে। ‘তাই বলে একটু মার্জিত মন্তব্য করা উচিত নয় কি?’

‘চতুর্থ কথা’ পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়, ‘কিছু কিছু বন্ধু আছেন যারা নিজেদের বন্ধুর ব্যপারে একটু বেশিই নাক গলান। নাকটা কম গলাবেন। অতিরিক্ত নাক গলানো তার যেমন পছন্দ নয়, তেমনি আপনারও নয় মনে রাখবেন।’

এবং ‘পঞ্চম কথা’ পয়েন্টে উল্লেখ করা হয়, ‘যেসব বন্ধু আপনাদের সাথে কম শিশে তাকে নিয়ে মজা করতে আপনার খুবই ভাল লাগে। কিন্তু যাকে নিয়ে মজা করছেন তার ভাল লাগে না। বরং তাকে নিয়ে মজা না করে, কেন সে আপনাদের সাথে কম মিশছে বা আপনাদের সাথে কয়েকদিন মেশার পর কেন এড়িয়ে যাচ্ছে তা বের তো করবেনই না, উল্টো তাকে লুথা বলবেন। সমস্যা দু’জনেরই আছে শুধু যে বন্ধুটি আপনার সাথে কম মিশেছে তাকে একা দোষ দেবেন না।’

এরপর লেখা সর্বশেষ কথা। যেখানে তিনি উপদেশ দিয়েছেন। এতে লেখা রয়েছে।

‘আমাদের প্রথম বাড়ি আমাদের পরিবার, দ্বিতীয় বাড়ি আমাদের স্কুল এবং তৃতীয় বাড়ি আমার মতে বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে ৪-৫ বছর একসাথে থাকবেন, একটু হলেও সবার সাথে মিলেমিশে সুন্দরভাবে থাকার চেষ্টা করুন। ৪-৫ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়ার পর হয়তোবা কারো সাথে কখনো দেখা হবে না। শুধু শুধু ঝগড়া, হিংসা করে আপনার লাভটা কী? সে যাবে তার পথে, আপনি যাবেন আপনার পথে। মৈত্রী তৈরি করুন, আশা করি সবাই ভাল থাকবেন।’

উল্লেখ্য, শনিবার মধ্য রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বড়গুল এলাকার ‘সুরমা নীড়’ নামক দোতলা একটি মেস থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে জালালাবাদ থানা পুলিশ।

বিশ্বজিৎ মল্লিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 54 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ