শাহজাদপুরে সমকাল সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ : অবস্থা শংকাজনক

Print
শাহজাদপুরে সমকাল সাংবাদিক গুলিবিদ্ধ : অবস্থা শংকাজনক : ৭২ ঘন্টা পর অপারেশনের সিদ্ধান্ত

শামছুর রহমান শিশির : আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে শাহজাদপুর সরকরি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি বিজয়কে আটক করে পৌর মেয়রের বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারপিট করে হাত পা ভেঙ্গে ফেরত পাঠানোর ঘটনায় তাৎক্ষণিক ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষুব্ধ হয়ে বগুড়া-নগরবাড়ি মহাসড়ক অবরোধ করে। প্রায় আধাঘন্টাব্যাপী ওই অবরোধ চলাকালে ওই মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটক পড়ে। খবর পেয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলীমুন রাজীব, সিনিয়র সহকারি পুলিশ সুপার ( শাহজাদপুর সার্কেল) আবুল হাসনাত, থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার সময় বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের আরেকটি গ্রুপ সংঘবদ্ধ হয়ে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর মণিরামপুরের বাসভবন ঘেরাও করে। এ সময় ঘটনাস্থলে বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ খবর জানতে পেরে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুুল হাকিম শিমুল পেশাগত দায়িত্বপালনকালে পৌর মেয়রের শর্টগান থেকে ছোঁড়া গুলিতে আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই সজ্ঞাহীন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী জানায়, শাহজাদপুর পৌরমেয়রের ছোট ভাই পিন্টু ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী কর্তৃক শাহজাদপুর সরকারি কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি বিজয় মাহমুদকে স্থানীয় সাবরেজিষ্ট্রি অফিসের সামনে থেকে উঠিয়ে নিয়ে মেয়রের বাড়িতে আটক করে বেধড়ক মারপিট করে হাত পা ভেঙ্গে গুরুতর অবস্থায় ভ্যানে তুলে দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় বিকেলে এর প্রতিবাদে স্থানীয় ছাত্রলীগের কর্র্মী সমর্থকদের বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধ কর্মীসমর্থকরা পৌর সভার মেয়র হালিমুল হক মিরুর মণিরামপুর মহল্লার বাসভবন ঘেরাও করে। এ সময়  বিক্ষোভকারীদের লক্ষ করে পৌরমেয়র হালিমুল হক মিরু তার শর্টগান থেকে গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দৈনিক সমকালের শাহজাদপুর প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুল গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও তার শারীরীক অবস্থার অবনতি ঘটলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালে স্থানান্তর করে। প্রত্যক্ষদর্শী চাঁদবাবু জানান, ‘ বিক্ষুব্ধ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পৌর মেয়রের বাড়ি ঘেরাও কালে সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুল ছবি তুলতে নেন। এ সময় পৌর মেয়রের বাসার ভেতর থেকে বিকট একটি শব্দ হবার সাথে সাথেই সাংবাদিক শিমুল ঘটনাস্থলে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।’
এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদে  তাৎক্ষণিক শাহজাদপুরে কর্মরত সকল সাংবাদিক বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। পৌর মেয়র ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে গ্রেফতারের দাবিতে স্থানীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি বিমল কুন্ডু ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুজ্জামান শফির নেতৃত্বে সাংবাদিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে । মিছিলটি পৌর শহর প্রদক্ষিণ শেষে শাহজাদপুর থানার সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে পৌর মেয়রসহ দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এ ব্যাপারে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ রেজাউল হক জানান, ‘ পৌর মেয়রের ভাই পিন্টুকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং মেয়রের লাইসেন্সকৃত শর্টগান জব্দ ও ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।’
এ ব্যাপারে পৌর মেয়র হালিমুল হক মিরুর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি  বলেন, ‘ ছাত্রলীগের বিক্ষোভকারীরা অস্ত্রসস্ত্রসহ আমার বাড়িতে হামলা চালালে আত্মরক্ষার্থে আমি বাসার ভেতর থেকে লাইসেন্সকৃত শর্টগান থেকে এক রাউন্ড ফাকা গুলি ছুঁড়ি। এতে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে চলে যায়। পুলিশ আমার লাইসেন্সকৃত শর্টগান জব্দ করে ও গুলির খোসা উদ্ধার করে। বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ এন্ড হসপিটালের চিকিৎসকরা সাংবাদিক আব্দুল হাকিম শিমুলের চিকিৎসার্থে বোর্ড মিটিং এর সর্বশেষ সিদ্ধান্ত পরবর্তী ৭২ ঘন্টা পর অবস্থার প্রেক্ষিতে অপারেশন করা হবে। অপরদিকে, এ ঘটনায় সমকাল প্রতিনিধি আব্দুল হাকিম শিমুলের পরিবারের পক্ষ থেকে শাহজাদপুর থানায় একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিলো বলে জানিয়েছেন থানার ডিউটি আফিসার। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়রের বাড়িসহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে.
সিরাজগঞ্জ কন্ঠ

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 311 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ