শুল্ক বিভাগের চিঠি পেয়ে বাকশক্তি ‘লোপ’ মুসার

Print

বিলাসবহুল গাড়ির শুল্ক ফাঁকির তদন্তে হাজির হতে তিন মাস সময় চেয়ে আবেদন করেছেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসের। ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার হাতে স্বশরীরে হাজির হয়ে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছিল। কিন্তু আগের দিন এর লিখিত আবেদনে বাকশক্তি লোপসহ অসুস্থতার নানা কারণ দেখিয়ে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে কাছে সময়ের আবেদন করেন মুসা।
সময় চেয়ে আবেদনে আলোচিত এই কথিত ধনকুবের লেখেন, তিনি পক্ষাঘাত রোগে আক্রান্ত। তার বাকশক্তি মারাত্মকভাবে লোপ পেয়েছে। চিকিৎকের পরামর্শ মতে তাকে দীর্ঘদিন বিশ্রামে থাকতে হচ্ছে। এ কারণে স্বশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্য দিতে হলে তিন মাসের সময় প্রয়োজন।

মুসার এই আবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মঈনুল খান  বলেন, ‘আবেদনটি যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।’
এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের তলবের আগেও তিনি মৃত্যুভয়ের কথা বলে সময়ের আবেদন করেছিলেন। তবে দুদক সে আবেদন নাকচ করার পর ২০১৬ সালের ২৮ জানুয়ারি তিনি দুদকে হাজির হয়েছিলেন।
মুসা বিন শমসের নিজেকে প্রিন্স নামে পরিচয় দিতে পছন্দ করেন। তার দাবি, তিনি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক। আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসায় কমিশন থেকে এই টাকা আয় করেছেন তিনি।
তবে অর্থাভাবে গুলশানে বাড়ি তৈরি জন্য নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ভাগাভাগির চুক্তি সইয়ের কথাও প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। তার বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরে নিজ এলাকায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার অভিযোগও আছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মুসার অপরাধের অভিযোগও করা হয়েছে।
গত ২১ মার্চ ধানমন্ডির একটি বাড়ি থেকে মুসার বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়ি আটক করে শুল্ক অধিদপ্তরের গোয়েন্দারা। ভুয়া আমদানি দলিলাদি দিয়ে গাড়িটি ভোলার বিআরটিএ অফিস থেকে ভূয়া বিল অব এন্ট্রি দিয়ে ফারুকুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির নামে নিবন্ধন করানো হয়। এর নিবন্ধন নম্বর ছিল ভোলা ঘ ১১-০০-৩৫ হিসেবে।
গাড়িতে শুল্ক ফাঁকি ও মানি লন্ডারিং সংক্রান্ত তদন্তের জন্য ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার মুসার শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরে হাজির হতে বলা হয়।
শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর বলছে, আটক গাড়িটি কার্নেট ডি প্যাসেজের মাধ্যমে আনা হলেও শর্ত মোতাবেক পূর্ণ রপ্তানি করা হয়নি। মুসা বিন শমসের গাড়িটির শুল্কমুক্ত সুবিধার অপব্যবহার করে এবং জালিয়াতি নাম ব্যবহার করে অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করেন। তবে তিনি নিজেই গাড়িটি ব্যবহার করতেন। এতে সরকারের দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকা শুল্ক কর ফাঁকি দেওয়া হয়েছে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 132 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ