‘সনদ বানিজ্যের সাথে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো চিহ্নিত করা উচিৎ’

Print

উচ্চ শিক্ষার অনেক বড় একটি খাত বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাব্যবস্থা। দিন দিন দেশে যে পরিমান শিক্ষার্থীর বাড়ছে সেই পরিমান বাড়ছে না পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যার কারনে কদর বাড়ছে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর । সাথে এই খাতে বদনামও রয়েছে ব্যাপক পরিমান। এসব নিয়ে কথা বলেন স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান এবং একসময়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম. এ. হান্নান ফিরোজ।

দেশের বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর বর্তমান হালচাল নিয়ে আপনার কাছে কি মনে হয়?

ড.এম. এ. হান্নান ফিরোজ : দেখেন বাংলাদেশে শিক্ষার্থীর পরিমান অনেক বেড়েছে। সেই সাথে কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় তেমন একটা বাড়েনি।এই দিক থেকে বেবেচনা করলে দেশে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাখাতে দারুন ভুমিকা রাখছে। একবার চিন্তা করুন দেশে কোন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় নেই তাহলে দেশে শিক্ষাব্যবস্থার কি হাল হবে! তবে উচ্চ শিক্ষায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া পরিপূর্ন খাত হিসেবে ধরা যাবে না।

কিন্তু বর্তমানে অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর সনদ বানিজ্যসহ নানান অভিযোগ রয়েছে,বিষয়টি কিভাবে দেখছেন?

ফিরোজ: খুব দু:খ লাগে এমন কথা শুনলে। কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিয়মের অভিযোগের কারনে সব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় বদনামের ভাগিদার হয়। এসব বিশ্ববিদ্যালয় যদি সনদ বানিজ্যই করবে তাহলে তারা চাইলে তো দোকান দিয়ে বসতে পারে,বিশ্ববিদ্যালয় দেয়ার কি দরকার? সনদ বানিজ্যের সাথে জড়িত বিশ্ববিদ্যালয় গুলো চিহ্নিত করা উচিৎ। তবে আমি চাইবো সরকার যেন এই খাতকে প্রাধান্য দেয়,নজরদারী করে তাহেল এমন অভিযোগ আর আসবে না। এমন বিশ্ববিদ্যালয় গুলোকে নজরদারী না করাও অন্যায়।

দেখা যায় কিছু বিশ্ববিদ্যালয় শপিংমলের ওপর ক্যাম্পাস খুলে বসে এবং সেখানে ক্লাস করিয়ে থাকে। আপনার দৃষ্টিকোন থেকে কি বলবেন?

ফিরোজ: এটা কোনভাবেই ঠিক না। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় হয়তো কোন কারনে এমনটা করে থাকে। যারা শপিংমলের ওপর ক্যাম্পাস চালাচ্ছে তাদের উচিৎ এমন ক্যাম্পাস সরিয়ে ফেলা।

বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে খন্ডকালীন শিক্ষক,টির্চাসরুম সংকট,বেতন নিয়ে টালবাহানার অভিযোগ প্রায়ই ওঠে। এমনটা হওয়ার কারন কি?

ফিরোজ: আমার মনে হয় খন্ডকালীন শিক্ষকের অভিযোগটি তেমন একটা ঠিক না আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে সব স্থায়ী নিয়োগ দেয়া,তবে মার্স্টাসের জন্য কিছু খন্ডকালীন নিতে হয় তাও এক পার্সেন্ট। শিক্ষকের দিক থেকে সববিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমরাই সেরা। আর যে দুটি অভিযোগের কথা বললেন সেগুলোও ঠিক না। আমাদেরও যথেষ্ট টির্চাস রুম আছে ।অন্যদের কথা আমি বলতে পারবো না। আর বেতন নিয়ে টালবাহানার ব্যাপারটি হচ্ছে, প্রায় সময় হয় কি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কালেশন তেমন না হলে এমন বিপত্তি ঘটে। তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে এমনটা হয় না।

একটি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ের কি কি গুন থাকা উচিৎ?

ফিরোজ: আমার মনে হয় একস্ট্রা ক্যারিকুলাম। তবে শিক্ষক,রির্সোস,ক্যাম্পাস এগুলো তো অব্যশই থাকতে হবে।সেটার বাইরে একস্ট্রা ক্যারিকুলামটাই গুরুত্বপূর্ন।

অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নেই। এমন অভিযোগ আপনার বিশ্ববিদ্যালয়েরও আছে.

ফিরোজ: আমাদের সিদ্বেশরী স্থায়ী ক্যাম্পাস ছিল। কোন একটা ঝামেলার কারনে আমরা সেখান থেকে সরে আসছি। তবে আমাদের তিনটি স্থানে জায়গা কেনা আছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই সমস্যা সমাধান হবে। তবে স্থায়ী ক্যাম্পাসবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়পত্র দেয়া উচিৎ না। এটা আমি স্বীকার করি।

একটি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দেয়ার ক্ষেত্রে কি কি দেখা উচিৎ বলে মনে হয় আপনার?

ফিরোজ: দেখেন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কি শর্ত মানতে হবে কর্তৃপক্ষ ভালোই করেই জানে। তবে আমার মনে হয় নিজস্ব ক্যাম্পাস,যাদেরকে বিশ্ববিদ্যালয় দিচ্ছে তাদের যোগ্যতা, তাদের দক্ষতা।এসব দেখেই তাদের অনুমোদন দেয়া উচিৎ।

আপনার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে আপনার সন্তুষ্টি কেমন?

ফিরোজ: খুব কঠিন প্রশ্ন। এই উত্তরটি সবচেয়ে ভালো দিতে পারবে শিক্ষক,শিক্ষার্থীরা। কারন তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে। আর শিক্ষার্থীরা ক্লাস করে যাচ্ছে। তবে আমার মনে আমরা যাইয়ে আছি আমরা আরো ভালো করবো এবং আরো ভালো করা উচিৎ।

একজন ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আপনি কি ভূমিকা রাখছেন?

ফিরোজ: আমার আসলে, কাজটিই হচ্ছে সবাইকে একটি জায়গা তৈরী করে দেয়া ,কিছু ম্যাপ তৈরী করে দেয়া যাতে সেই ম্যাপ মতো বাকিরা কাজ করে। আমি সেটাই করছি। আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার হচ্ছে একজন ট্রাস্টিবোর্ডের চেয়ারম্যানকে তদারকি করতে হবে নিখুঁতভাবে যাতে করে গাইডলাইনটা সঠিক কার্যকর হয়।

লেটেস্টবিডিনিউজ

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ