সমকামী ছেলে- মেয়েদের চেনার উপায় !

Print
যে সব সমকামী নারী পুরুষ উভয়কে পছন্দ করে তাদের বাই (Bi) বলা হয়। মেয়েদের বলা হয় লেসবিয়ান। ঢাকায় কিছু জায়গা আছে যেখানে সন্ধ্যার পর সমকামীরা জড়ো হয় তাদের বিছানার সঙ্গী খুঁজতে। চ্যাটিং এর বদৌলতে এখন সমকামীরা ঘরে বসে অন্য সমকামীর সাথে সহজেই পরিচিত হতে পারছে। ইয়াহু চ্যাটিং এর বাংলাদেশ রুমে গেলে দেখবেন boy2boy, boy4boy, man2man, gay এ রকম অনেক নাম। এরা এইসব নিক নিয়ে বসে থাকে অন্য সমকামীকে খোঁজার জন্য। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে সমকামীদের সার্কেলও সৃষ্টি হয়েছে।সমকামীদের ২/৩টা ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ আছে। তারা ডিসকো নাইট, পিকনিক আয়োজন করে, গেট টুগেদার করে। সমকামীদের মধ্যেও ভালোবাসাটা প্রবল। একজন মেয়ের অন্য মেয়ের প্রতি ফিলিংস এতটাই প্রবল যে, না দেখলে কেউ বিশ্বাস করবেন না।

হাদিস শরিফে এসেছে- ‘যে ব্যক্তি কোনো মুমিনের দুনিয়াবি সংকটগুলো থেকে একটি সংকট মোচন করে দেয়, আল্লাহ তাআলা তার আখিরাতের সংকটগুলোর একটি সংকট মোচন করবেন। যে ব্যক্তি কোনো অভাবগ্রস্তের অভাব মোচনে সাহায্য করবে, আল্লাহ তাআলাও তাকে দুনিয়া ও আখিরাতে স্বাচ্ছন্দ্য দান করবেন। যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ-গুণ গোপন করবে, আল্লাহ তাআলা দুনিয়া ও আখিরাতে তার দোষ গোপন করবেন। আল্লাহ বান্দার সাহায্যে থাকেন, যতক্ষণ বান্দা তার ভাইয়ের সাহায্যে নিয়োজিত থাকে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)।

বাংলাদেশে প্রকাশ্যে সমলিঙ্গের বন্ধুদের মধ্যে আবেগপ্রবণতা প্রচলিতভাবে স্বীকৃত, এবং এ নিয়ে কোন সমালোচনা না হলেও এর পাশাপাশি সমকামিতার প্রতি কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। উক্ত দেশের ৯০%  ইসলাম ধর্মাবলম্বী জনসংখ্যার ধর্মীয় ঐতিহ্য ও বাংলাদেশী সমাজের মানসিকতার ফলে উক্ত বিরোধী মনোভাব দেখা যায়। পরিবারে বাইরের ব্যক্তিবর্গ যেমন পুলিশ, বিদ্বেষী ও মুসলিম মৌলবাদী দলসমূহ এলজিবিটি (হিজড়া ব্যতীত) সদস্যদের হয়রানি, নির্যাতন ও শারীরিকভাবে আক্রমণ করে থাকেন। এই নৈতিক মানদণ্ডে সরকার কোন অর্থায়ন না করলেও কোন প্রকার উদ্যোগ নিতে কোন প্রকার উৎসাহ বা সক্রিয়তাও কখনো তাদের মাঝে দেখা যায় না।

বাংলাদেশের সংবিধানে সকল নাগরিকের ধর্মীয় ও সামাজিক অধিকার দেয়া হলেও নৈতিক অবক্ষয়ভিত্তিক বিধিনিষেধ রয়েছে। ৩৭৭ ধারা মোতাবেক সমকামিতা ও পায়ুমৈথুন শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ, যার শাস্তি দশ বছর থেকে শুরু করে আজীবন কারাদণ্ড এবং সাথে জরিমানাও হতে পারে।

৩৭৭. প্রকৃতিবিরুদ্ধ অপরাধ: কোন ব্যক্তি যদি স্বেচ্ছায় কোন পুরুষ, নারী বা পশুর সঙ্গে প্রকৃতির নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সঙ্গম করে, তবে তাকে আজীবন কারাদণ্ড দেয়া হবে, অথবা বর্ণনা অনুযায়ী নির্দিষ্টকালের কারাদণ্ড প্রদান করা হবে যা দশ বছর পর্যন্ত বর্ধিত হতে পারে, এবং এর সাথে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক জরিমানাও দিতে হবে।

ব্যাখ্যা: ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণে যৌনসঙ্গমের প্রয়োজনীয় প্রমাণ হিসেবে লিঙ্গপ্রবেশের প্রমাণ যথেষ্ট হবে।

৩৭৭ ধারার ব্যাখ্যায় পায়ুসঙ্গমজনিত যে কোন যৌথ যৌন কার্যকলাপকে এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একারণে, পরস্পর সম্মতিক্রমে বিপরীতকামী মুখকাম ও পায়ুমৈথুনও উক্ত আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে।

সমকামী নারীদের চেনার কিছু উপায় পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হলো। যেন তাদের মা-বাবা বা পরিবার পরিজন তাদের সংশোধন করতে পারেন। তাদের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়ে তাদেরকে সঠিক পথ দেখাতে পারেন।

কীভাবে বুঝবেন কোনও ছেলে সমকামী:

১. সমকামী পুরুষরা সাধারণত সাজগোজ করতে অনেকটা সময় নেয়।

২. সমকামী বা বাইসেক্সুয়াল বা রূপান্তরকামী সেলিব্রিটিরা এঁদের আদর্শ হন।

৩. রাস্তাঘাটে চলাফেরার সময়ে অন্য ছেলেদের ওপর এদের নজর থাকে বেশি।

৪. কোনও পাবলিক টয়লেটে যেতে এরা সাধারণত দ্বিধা বোধ করে।

সমকামী নারীদের চেনার উপায় তুলে ধরা হলো–

সমকামী নারীদের মেজাজ থাকবে তিক্ত, সামান্যতেই রেগে যাবে। সব সময় তাদের নাকের উপর রাগের চিহ্ন ফুটে থাকবে, চেহারা থাকবে কুঞ্চিত, চোখের নিচে কালো দাগ, চেহারা ফ্যাকাশে, চেহারার মাঝে খারাপ চাপ ফুটে উঠবে।

চেহারা সব সময় শুকনো শুকনো মনে হবে, চেহারার উজ্জলতা নিস্তেজ এবং চোখদ্বয় কোটরাগত হবে, চোখের চারপাশে চিন্তা ও টেনশনের ছাপ প্রস্ফুটিত হবে। এসব নারীর সব সময় মাথা ব্যাথা থাকে, কথার আওয়াজে কোনো ভারত্বভাব থাকবে না। মাথার চুল অতি অল্প বয়সেই ঝরতে থাকবে।

অতি অল্প বয়সেই চুল সাদা হতে থাকবে। ক্ষুধা হ্রাস পাবে। আবার যা খাবে, তাও সহজে হজম হবে না। সব সময় বুক ধড়ফড় করতে থাকবে। আবার অনেকের ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যায়। যদি ঋতুস্রাব আসেও তবু তা পরিমাণে একেবারেই সামান্য। ঋতুস্রাবের রক্ত থাকবে কালো রঙয়ের দিকে ধাবমান এবং তা হবে খুবই দুর্গন্ধ যুক্ত।

পিঠ এবং রানেও ব্যাথা অনুভব হবে। জরায়ুর ভিতরে এবং লজ্জাস্থানের বহিরাংশ ফুলে যাবে। জরায়ু থেকে ক্রমাগত রক্ত পড়তেই থাকবে। লজ্জাস্থানে জ্বলন রোগ দেখা দিতে পারে।

আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশের সমকামীরাঃ 

সমকামী অধিকার কর্মী জুলহাস মান্নান হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই বাংলাদেশের অন্য সমকামীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে প্রতিটি দিন-রাত। এমনকি তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতেও এখন আর সক্রিয় থাকতে দেখা যাচ্ছে না।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলহাজ ও তার বন্ধু মাহবুব রাব্বী তনয়কে হত্যার পরপরই সমকামী কমিউনিটির অনেক সদস্যই আত্মগোপণে চলে গেছেন। কেউ কেউ বাসাও পরিবর্তন করেছেন, কেউ আবার গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন।

জুলহাস ও তনয়কে হত্যার পরপরই তাদের আরেক বন্ধুকেও হত্যার হুমকি দেয়া হয়েছে। হাতে লেখা চিঠিতে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে তোমার পাপের স্বীকারোক্তি করে নাও, ইচ্ছেমতো খাওয়া-দাওয়া করে নাও। কারণ কেউ তোমাকে বাঁচাতে পারবে না।’

বাংলাদেশ ব্লগার, শিক্ষক এবং বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের উপর সম্প্রতি একাধিক হামলার ঘটনা ঘটলেও সমকামীদের উপর এটাই প্রথম হামলার ঘটনা। ওই হত্যাকাণ্ডটি ভারতের আল কায়েদা শাখা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেছে। যদিও বাংলাদেশ সরকার ও পুলিশ বলছে, বাংলাদেশে আল কায়েদার কোনো অস্তিত্ব নেই।

জুলহাজ মান্নান বাংলাদেশে সমকামীদের একমাত্র ম্যাগাজিন ‘রূপবান’ এর সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য ছিলেন। ২০১৪ সালের জানুয়ারি মাসে এ পত্রিকার আত্মপ্রকাশ ঘটে। বাংলাদেশের মতো মুসলিমপ্রধান দেশে এ ধরনের পত্রিকা প্রকাশ নিয়ে তখনই ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। দেশের আলেমরা এটি নিষিদ্ধ করারও দাবি জানান।

২০১৫ সালের জানুয়ারিতে ‘রূপবান’ এর এক বছর পূর্তি উপলক্ষে বিবিসি বাংলাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জুলহাজ বলেছিলেন, রূপবান সমকাম নয় বরং সমপ্রেমে বিশ্বাসী মানুষের ভালবাসার অধিকারের বিষয়টি তুলে ধরতে চায়। সমপ্রেমে বিশ্বাস করে এমন মানুষদের জীবনধারা, ভালোলাগা ও দুঃখ কষ্টের বিষয়টি তুলে ধরে রূপবান।

তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশে সমকামীরা অদৃশ্য জীবনযাপন করে কিন্তু আমরা জানাতে চাই যে এই সমাজেই আমরা আছি এবং আমরা আপনাদের পরিবারেই সদস্য। আমরা সমকামী মানুষ ও হিজড়াদের অধিকার এবং মানবাধিকার নিয়ে কাজ করছেন। এ ধরনের পত্রিকা প্রকাশে সমস্যায় পড়তে হয় বলেও উল্লেখ করেন জুলহাজ।

প্রসঙ্গত, বর্তমান বিশ্বে অনেক দেশেই সমকামিতাকে বৈধতা দিলেও বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। বাংলাদেশের আইন সমকামিতাকে এখনো প্রকৃতি বিরুদ্ধ মনে করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রেখেছে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি স্বেচ্ছাকৃতভাবে কোনো পুরুষ, নারী বা জন্তুর সাথে প্রকৃতিক নিয়মের বিরুদ্ধে যৌন সহবাস করেন, সেই ব্যক্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে বা দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং তদুপরি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত হবেন। এ ধারায় বর্ণিত অপরাধীরূপে গণ্য হওয়ার জন্য যৌন সহবাসের নিমিত্তে অনুপ্রবেশই যথেষ্ট বিবেচিত হবে।

বাংলা বর্ষবরণের মঙ্গল শোভাযাত্রার পর ‘রূপবান’ নামে একটি সংগঠন ‘রেইনবো র‌্যালি’র আয়োজন করেছিল। কিন্তু কিছু মানুষ তাদের প্রতিহত করতে চারুকলার সামনে দাঁড়িয়ে যায়। পরে শাহবাগ থানা পুলিশ র‌্যালিতে অংশ নিতে আসা সমকামীদের সরিয়ে দেয়। চারজনকে থানায়ও নিয়ে যায়। পরে তাদের ছাড়াতে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন জুলহাজ মান্নান। বর্ষবরণের ওই ঘটনার দিন থেকেই জুলহাজ বিশেষ একটি গোষ্ঠীর টার্গেটে পরিণত হন বলে জানিয়েছেন তার বন্ধুরা। বিষয়টি নিয়ে নাকি তিনি তাদের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন।

এদিকে সমকামী সমাজের আট সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছেন রয়টার্স প্রতিবেদক। একজন ছাড়া তাদের কেউ নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি। কারণ তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। তাদের অনেকেই নিজেদের বাসা ছেড়ে গোপন আশ্রয়ে চলে গেছেন। কেউ কেউ গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন, কারণ তাদের ধারণা ঢাকার চেয়ে গ্রামই বেশি নিরাপদ।

একজন সমকামী চাকরিজীবী বলছিলেন, গত সপ্তাহে একজনকে ব্যাগ হাতে তার পেছন পেছন হেঁটে আসতে দেখে তিনি আতঙ্কে অস্থির হয়ে যান। এটাই এখন আমাদের জীবনের অঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ ভয় কাজ করে, পেছনে কারো ব্যাগের ভেতর হয়তো চাপাতি আছে, সেটা আমার ঘাড়ের উপর পড়তে পারে।

অনেকেই তাই এখন তাদের চলাফেরায় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছেন। অনেকেই ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা এবং কড়া নিরাপত্তা রয়েছে এমন বাসায় উঠেছেন। কেউ কেউ আবার আত্মরক্ষার জন্য কারাতে প্রশিক্ষণও নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র : ইন্টারানেট।

– See more at: http://www.bdmorning.com/top-news/191089#sthash.kPKNKqjV.dpuf

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 491 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ