সমাজে নতুন নতুন ধর্ষক তৈরি করছে কারা

Print

ভয়াবহ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ ফেব্রুয়রী ২০১৭ বুধবার । ধর্ষণের পর শিশুটি সহ তার দরীদ্র পরিবারের অসহায় আর্তনাদ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বিষয়টি প্রশাসনের দৃষ্টিতে আসে। কিন্তু ঘটনার দুদিন পরেই প্রভাবশালী মহলের হুমকি আর চাপে পড়ে নিজেদের জবানবন্দী বদলে দিতে চেষ্টা করছেন ঐ পরিবারটি।
বিষয়টি নিয়ে রেীমারী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধির পাঠানো তথ্যে প্রথমবার সংবাদ প্রকাশের পর ঘটনার পরবর্তী আপডেট জানতে আজ শুক্রবার নিউজরুম থেকে প্রতিনিধিকে ফোন করা হলে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। সচেতন মহল মনে করেন এভাবেই যদি ক্ষমতা আর গায়ের জোরে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা অহরহ ঘটবে। আড়ালেই থেকে যাবে এমন নির্যাতনের হাজারো ঘটনা। এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের আশুদৃস্টি ও গভীর অনুসন্ধান প্রয়োজন।

ঘটনা সুত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল নয়টার দিকে বাড়িতে একা পেয়ে একই গ্রামের জয়নুল মাস্টারের (৬০) ঘরে ঢুকে একটি শিশুকে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণ করে । এসময় রক্তাক্ত হয়ে ভয়াবহ রকমের অসুস্থ্য হয়ে পড়ে শিশুটি। জরুরী চিকিতসা দিতে শিশুটিকে নেয়া হয় স্থানীয় রাজিবপুর হাসপাতালে। ঘটনার শিকার শিশুটি কুড়িগ্রাম এর রাজিবপুর উপজেলার কোদালকাটি ইউনিয়নের চর সাজাই মনডলা পাড়া গ্রামের দরিদ্র মহিজল মেয়ে।
পরদিনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঐ শিশুটি ও তার পরিবারে করুন আর্তনাদ ও যন্ত্রনার কথা নিজের মোবাইল ফোনে রেকর্ড করে সংবাদ প্রকাশিত হয় ।
এদিকে, রাজিবপুর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফেরার পথে ধর্ষণের শিকার শিশুটি ও তার পরিবারকে আটকে রেখে ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে হুমকি প্রদান করে অভিযুক্ত জয়নুল মাস্টারের লোকজন । ফলে রাতারাতি বদলে যায় শিশুটির পরিবারের সব বক্তব্য! এই প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে হুমকি দিয়ে ‘মুখ বন্ধ’ করার ঘটনা। এর আগে দেয়া ঘটনার শিকার ঐ শিশুটির অসহায় আর্তনাদ সহ তার বাবা-মায়ের সব আকুতির কথা রেকর্ড করা আছে প্রতিবেদকের কাছে। ঘটনাটি পুরো এলাকায় ‘ওপেন সিক্রেট ও আলোচনার মুল কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও প্রভাবশালীদের চাপে বিচারতো দূর এখন মুখ খুলতেই ভয় পাচ্ছেন শিশুটির পরিবার।
এর আগে শিশুটির দেয়া জবানবন্দীতে জানা গেছে, ধর্ষণের পর অভিযুক্ত হুমকি দিয়ে তাকে বলেন, ‘কাউরে যদি বলিস্ তাহলে তরে জীবনের তরে শেষ করে দিমু মনে রাখিস।’
অন্যদিকেশিশুটির মা জরিনা খাতুন এই প্রতিবেদককে জানায়, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেননা। গরুর ঘাস তোলার জন্য চলে যাওয়ার পর মেয়েকে একা বাসায় পেয়ে জয়নুল মাসটার ঘরে ঢুকে তার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে।
ধর্ষিতার মা জরিনা বলেন,’আমি বাড়িতে আইসা দেহি গেদি ঘরের মাইজায় পইড়া রইছে তহন ডাহি আর কতা কায়না তহন দেহি খালি রক্ত পরতাছে তহন মাথায় পানি ডাইলা সুস্ত কইরা হনি যে জাইরা জয়নুল মাসটার ইন্না কাম করছে মেয়াডারে আকামা কইরা এহন রক্ত বন্ধ হয়না’
শিশুটির বাবা মহিজল এই প্রতিবেদককে জানান, ‘ আমি পেটের দায়ে ঢাকায় গ্যাছিলাম এর মধ্য খবর পাই যে, আমাগর মমতা ওইসব ঘটনার শিকার ওইছে তহন ঢাকা থাইকা কাম কাজ বাদ দিয়া বাত্তে আইসা দেহি মেয়া খুবি অসস্তিতে রইছে পরে তারাহুরা কইরা হাসপাতালে নিয়া যাই যাওয়ার পরে রাজিবপুর হাসপাতালের ডাঃ কয় যে এখানে মমতার চিকিৎসা ওইসব না তারাতারি উন্নত চিকিৎসক দ্বারা চিকিৎসা দেওয়ার দরকার এহন কুড়িগ্রামে যাবার জন্য বাড়িতে যাই আরো বলেন আমরা গরীব মানুষ এতো টেহা কনে পামু আললাই জানে। তবে আমি আইনের কাছেই উচিৎ বিচারের দাবী জানাই!’
অপরদিকে অভিযুক্ত জয়নুল মাসটারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনা নিয়ে টালবাহানা করে অনেক সময় পার করে বলেন যে, ‘পত্রিকায় নিউজ কইরেন না মানুষের মধ্যেই তো এইরকম ভুল হয়’ ।
ধর্ষণের বিষয় নিয়ে কোদালকাটি ‘ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছক্কু মিয়ার কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ ঘটনা সত্যিই কিন্তু আমি ঢাকায় আসছি, ফিরে গিয়ে এর চিকিৎসা সহ বাকি ব্যবস্থা নেবো ।
এ বিষয়ে শুক্রবার রাজিবপুর থানার ওসি প্রিতিস কুমার সরকার এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাটি বিভিন্ন সুত্রের মাধ্যমে জানি। বর্তমানে মেয়ের বাবা মা ও মেয়েসহ সবাই আমার সামনে আছে কিন্তু ‘ধামাচাপা’ দেয়ার চেষ্টা করছেন তারা ধর্ষণের বিষয়ে কোন স্পস্ট স্বীকারোক্তি দিচ্ছেন না তারা ।
এদিকে, রাজিবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল মামুন তালুকদারের সংগে এ বিষয়ে কথা হলে তিনিঅ এই প্রতিবেদকে জানান, ধর্ষণের বিষয়টি শুনেছি শোনার পর নিজ তাগিদেই আমি ওই ধর্ষিতা ও তার পরিবারের সাথে কথা বলেছি কিন্তু তারা স্বীকার করছেনা কোন কিছুই ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 120 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ