সর্ববৃহৎ জনসভা আ’লীগের টার্গেট

Print

পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আগামীকাল ১০ জানুয়ারি। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। এতে উপস্থিত থেকে দেশ ও জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ, দলের অঙ্গ ও ভ্রাতৃপ্রতীম সকল সংগঠন ধারাবাহিক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। ১০ জানুয়ারিকে ঘিরে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে রাজধানীর বিভিন্ন থানা-ওয়ার্ড এবং পাড়া-মহল্লার নেতাকর্মীদের বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতারা। মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগও জনসভা সফল করতে দফায় দফায় বর্ধিতসভা-বৈঠক করেছেন।
বিগত ২২/২৩ অক্টোবর ব্যাপক জাঁক-জমকের মধ্যদিয়ে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলন শেষ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। সম্মেলনের পর থেকেই দলের নেতারা বলে আসছেন তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনের ইতোমধ্যেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। সেই লক্ষ্যেই আগামীকাল মঙ্গলবার ১০ জানুয়ারি রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসে জনসভা করবে আওয়ামী লীগ। আর এ জনসভায় ব্যাপক লোক সমাগম ঘটিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি, সাংগঠনিক দক্ষতা ও শক্তিমত্তার প্রদর্শন করতে চায় দলটি। বিরোধীদলের বিরোধিতা, ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার সুদৃঢ় নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি শক্তিশালী; এ জনসভার মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটানোও দলের অন্যতম উদ্দেশ্য। ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমে ঘোষণা করেছেন জনসভায় উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দেবেন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পাকিস্তানের কারাগার থেকে আগামী ১০ জানুয়ারি মঙ্গলবার ৪৪তম বছর। ১৯৭২ সালের এ দিনটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু তার স্বপ্নের স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত স্বদেশে ফিরে আসেন। দিনটি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। অন্যান্য বছরের চেয়ে এবারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসটি ব্যাপক আয়োজনে পালনের নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দিবসের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চসহ বিভিন্ন মাইলফলক সৃষ্টিকারী ভাষণের স্থান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভা।
আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের এবারের দিবসটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ব্যাপক আয়োজনে পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসভাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা হাতে নিয়েছে। ইতোমধ্যেই আগামীকালের এ জনসভাকে সফল ও ব্যাপক জনসমাগম ঘটানোর জন্য আওয়ামী লীগ ও এর সকল অঙ্গ এবং ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনগুলো ধারাবাহিক মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভা করেছে। রাজধানী ঢাকার বাইরের নিকটতম ৫টি জেলার নেতাকর্মীদের জনসভায় উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যেই জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময় শেষ করেছে। একই সঙ্গে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা প্রতিদিনই রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে জনসভায় অংশ নেয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়ে পথসভা, লিফলেট বিতরণ করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবসের মঙ্গলবারের জনসভাকে ঐতিহাসিক জনসভায় রূপদানের আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ১০ জানুয়ারি ঢাকার সকল রাজপথ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সঙ্গে মিশে যাবে। এ জনসভাকে শুধু জনসমাগমের দিক থেকে নয়, শৃঙ্খলার দিক থেকেও ঐতিহাসিক জনসভায় পরিণত করার জন্য স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।
দলীয় নেতাকর্মীদের আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান জানিয়ে কাদের বলেন, আগামী নির্বাচনের আর বেশি দেরি নেই। এ জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে। দলকে একটি সুশৃঙ্খল, কলহ-কোন্দলমুক্ত শক্তি হিসেবে আমাদের তৈরি হতে হবে।
১৯৭২ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করে তার স্বপ্নের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন। এই দিন স্বাধীন বাংলার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফিরে আসেন তার প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে। স্বদেশের মাটি ছুঁয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের নির্মাতা শিশুর মতো আবেগে আকুল হয়ে উঠেন তিনি। আনন্দ-বেদনার অশ্রুধারা নেমে আসে তার দু’চোখ বেয়ে। প্রিয় নেতাকে ফিরে পেয়ে সেদিন সাড়ে সাত কোটি বাঙালি আনন্দাশ্রুতে সিক্ত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু ধ্বনিতে প্রকম্পিত করে তোলে বাংলার আকাশ বাতাস। ওইদিনই শেখ মুজিব ৭ মার্চের স্মৃতিজড়িত ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে বলেন, যে মাটিকে আমি এত ভালবাসি, যে মানুষকে আমি এত ভালবাসি, যে জাতিকে আমি এত ভালবাসি, আমি জানতাম না সে বাংলায় আমি যেতে পারবো কিনা। আজ আমি বাংলায় ফিরে এসেছি বাংলার ভাইয়েদের কাছে, মায়েদের কাছে, বোনদের কাছে। বাংলা আমার স্বাধীন, বাংলাদেশ আজ স্বাধীন।
জানা গেছে, বিশ্ব ইজতেমার তিনদিন আগে সমাবেশের দিন নির্ধারণ করার পেছনেও রয়েছে বিএনপি-জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করা উদ্দেশ্য। বিশ্ব ইজতেমা শুরু হচ্ছে আগামী ১৩ জানুয়ারি। আওয়ামী লীগের দাবি, বিশ্ব ইজতেমাকে ঘিরে বিএনপি-জামায়াত যাতে কোনো ধরনের নাশকতা করতে না পারে, সেজন্য ঢাকামহানগর ও রাজধানীর উপকণ্ঠের জেলা ও মহানগর নেতাদের যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
সূত্রমতে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আগামীকালের সমাবেশ নিয়ে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা করছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সোহরাওয়ার্দীর জনসভা সফলের জন্য ঢাকা মহানগরীসহ আশপাশের এলাকার সব নেতাকর্মীকে নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে ওইদিন কোনো ধরনের কর্মসুচি নিয়ে বিএনপি-জামায়াত সমাবেশ বা জমায়েতের চেষ্টা করলে কঠোরভাবে দমন করবে আওয়ামী লীগ।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব-উল আলম হানিফ গতকাল বলেন, ১০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিবস। এই দিবসের সঙ্গে আমাদের আবেগ অনুভূতি জড়িয়ে আছে। ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের জনসভা জনসমুদ্রে পরিণত হবে। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশের মাটিতে ফিরে আসার মধ্য দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা পূর্ণতা পেয়েছিল। দেশের লাখ লাখ লোক সেদিন তাদের প্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধুকে বরণ করে নিয়েছিল। তাই এ দিবসের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার আনন্দ জড়িত রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি স্বাধীনতা ৪৫ বছর পর এই দিবসটি দেশের মানুষ ঐতিহাসিকভাবে পালন করবে। এবারের জনসভা জনসমুদ্রে রূপ নেবে।
এদিকে জনসভা সফল করতে ৮ জানুয়ারি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতিঝিল বিআরটিসি ভবনে মতবিনিময় সভা হয়। একই দিন বিকালে বর্ধিত সভা করেছে যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ। একইদিন ঢাকা-৫ নির্বাচনী এলাকার নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মাতুয়াইল কোনাপাড়া কাঠেরপুল অডিটোরিয়ামে মতবিনিময় সভা হয়। ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান মোল্লাসহ ডেমরা থানা আওয়ামী লীগ নেতারা এতে উপস্থিত ছিলেন। ৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে মতবিনিময় সভা হয়। ৫ জানুয়ারি ওয়ারি, গেন্ডারিয়া ও সূত্রাপুর থানা আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে জহির রায়হান মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৬ টায় মতবিনিময় সভা হয়। একইদিন লালবাগ ও চকবাজার থানা আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আজিমপুর গার্লস হাইস্কুল অডিটোরিয়ামে সন্ধ্যা ৬টায় মতবিনিময় সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। ৪ জানুয়ারি রমনা ও শাহবাগ থানা আওয়ামী লীগ, সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এবং ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ ট্রেড সেন্টার সমিতি কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা হয়। ৩ জানুয়ারি খিলগাঁও, সবুজবাগ, মুগদা, মতিঝিল, শাহজাহানপুর ও পল্টন থানা আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে পল্টন কমিউনিটি সেন্টারে মতবিনিময় সভা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সভাপতি হাজী আবুল হাসনাত ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহে আলম মুরাদ, পল্টন থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি, শাহজাহানপুর থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, মুগদা থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, সবুজবাগ থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, খিলগাঁও থানা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রমুখ। ১ জানুয়ারি শ্যামপুর থানা আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ফরিদাবাদ হাইস্কুল মাঠে মতবিনিময় সভা করা হয়। ২৯ ডিসেম্বর যাত্রাবাড়ী থানা আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ৪৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ মতবিনিময় সভা করেন।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে জনসভাকে সফল করার জন্য আওয়ামী লীগ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী, সমর্থকসহ সব শ্রেণি-পেশা এবং সর্বস্তরের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহে আলম মুরাদ বলেন, বিএনপি তো এখন জনসমর্থনহীন দলে পরিণত হয়েছে। এরা ঢাকায় আবার কী আন্দোলন করবে। আন্দোলনের নামে তারা নাশকতা করার পরিকল্পনা করলে তা কঠোরহস্তে দমন করা হবে। আমাদের নেতাকর্মীরা সবাই সজাগ ও প্রস্তুত রয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 146 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ