সাংবাদিকের খুলি নিয়ে ডাক্তার-সাংবাদিক পাল্টাপাল্টি বিতর্ক চরমে

Print

ডা. অঞ্জলি সাহা
________________________
প্রথম আলো পত্রিকার ফটো সাংবাদিক জিয়ার মাথার খুলির অংশ খুলে রাখার তথাকথিত হাস্যকর অভিযোগ নিয়ে ডাক্তার সমাজকে মিডিয়াধোলাই এখন চরমে।
এর মধ্যেই বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট ডাক্তাররা বিষয়টিকে মিডিয়ার মুর্খতার দু:খজনক নজীর বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারপরও বিতর্ক থেমে নেই। সিনিয়র সাংবাদিকরাও মিডিয়ার পক্ষে কৈফিয়তবাচক তর্কে অংশ নিচ্ছেন। জবাব দিচ্ছেন ডাক্তাররাও। এই পাল্টাপাল্টিতে অবশ্য বেরিয়ে আসছে প্রকৃত তথ্য।

এজন্য ডাক্তার প্রতিদিনের এই পরিবেশনা। যাতে পাঠক প্রকৃত সত্য অনুধাবন করতে পারেন। কান নিয়েছে চেলে ভেবে চিলের পেছনে না ছোটেন।

 

সাংবাদিক বুদ্ধিজীবীদের সমালোচনা ________________________________

বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক প্রবাসী শওগাত আলী সাগর তার লেখায় বলেন ,

প্রথম আলোর ফটো সাংবাদিক জিয়ার দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়টায় সকল মিডিয়ার দৃষ্টি ছিলো তার চিকিৎসার প্রতি। প্রথম আলোর মতো প্রভাবশালী একটি পত্রিকা সরাসরি তার দেখভাল করছিলো। সেই জিয়ার মাথার খুলির অংশ সঙ্গে দিতে ভুলে যায়- ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতাল। সেই হাসপাতালে সাধারন যারা চিকিৎসা নিতে যায়- তাদের অবস্থাটা কি হয়- তা কি কল্পনা করা যায়?
জিয়ার ঘটনাটা খবর হয়েছে, তাও মেইনস্ট্রিম প্রভাবশালী পত্রিকাগুলো এটি এড়িয়ে গেছে। প্রথম আলো কি সংবাদটি প্রকাশ করেছে? আমার চোখে পড়েনি। কেন? অ্যাপোলো কি এতোটাই প্রভাবশালী?
অ্যাপোলো কি এই ব্যাপারে কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে?
অ্যাপোলোর অন্তত তিনজন পরিচালক টরন্টোতে থাকেন বলে শুনেছি। তারা নিশ্চয় এখানকার হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা নেন। হাসপাতাল, চিকিৎসাসেবা কেমন হয়- তারা নিশ্চয়ই জানেন। নিজেদের পরিচালিত হাসপাতালে সেগুলোর প্রচলন নিয়ে তারা কি কখনো কিছু ভেবেছেন? না কি কানাডা থেকে কিছু তারা দেশে নিতে চান না, কেবল বাংলাদেশ থেকে, অ্যাপোলো হাসপাতাল থেকে আনতে চান কেবল।
অ্যাপোলো হাসপাতালের ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রনালয় বা স্বাস্থ্যখাতের নিয়ন্ত্রকরা কখনো কি কিছু ভেবেছেন?

ইপ্সিতা মজুমদারের টিপ্পনি : মনে হয় , প্রধানমন্ত্রীর অনুমুতি ছাড়া পুরো খুলি বিদেশে পাঠান যায়না ।
___________________________

ডাক্তারদের বিজ্ঞানসম্মত পাল্টা জবাব
__________________________

 

জবাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাক্তার ও বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ডা. গুলজার হোসেন উজ্জ্বল বলেন,
হে আল্লাহ, হে পাক পরওয়ার দেগার, এই জাতিরে তুমি বিদ্যা- বুদ্ধি না দাও, অন্তত কমন সেন্স দাও।
অরগ্যান প্রোপার রিকুইজিশন ছাড়া পাঠানো যায়না। এর কিছু এথিক্যাল প্রসিডিউর আছে। যখন রিপ্লেইস্মেন্ট সার্জারি হবে তখনই সংশ্লিষ্ট সার্জন রিকুইজিশন দেবেন তখনই সেটা পাঠানো হবে।

রিপ্লেইসমেন্ট সার্জারি সিংগাপুরে নাও হতে পারতো। এটা অনেক সময় লং গ্যাপে করে। কদ্দি ন সিংগাপুরে থাকবে, অপারেশনটি করবে কিনা….. নিশ্চিত হবার বিষয় আছে। এটা ‘ নিয়া যান, কাজে লাগবো’ এরকম বিষয় না।
এখানে কিছু এথিক্যাল বাইন্ডিংস আছে। খোলামেলা আলোচনা আসলেই দরকার। পত্রিকায় রিপোর্ট করবার আগেই দরকার।এটা যখন কাজে লাগবে তখনই যেন পাওয়া যায় তার জন্যই এই প্রিজারভেশনের ব্যাবস্থা। এবং সেভাবেই হয়েছে। আর এগুলোকে বলা হয় ইলেক্টিভ সার্জারি মানে যেটা ইমারজেন্সি না। দিন তারিখের সুবিধা অনুযায়ী সার্জারি। আর উপরের মন্তব্যেই বাকি সব প্রশ্নের উত্তর আছে। আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. অসিত চন্দ্র সরকার বলেন , মানুষের মাথায় আঘাত লাগলে ব্রেন ফুলে যায়। তখন বেশি জায়গার প্রয়োজন হয়। ফলে হাড়ের অংশ খুলে রাখা হয়। এই অংশটি শরীরের ভেতরেও রেখে দেওয়া যায়। আবার বাইরেও রাখা হয় অনেক সময়। সেটি চিকিৎসকরা নোটে টুকে রাখেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 116 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ