সাক্ষাতের প্রথম দিনই চরিতার্থ করলো লালসা

Print

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়। এই সামাজিক পরিচয়ের আড়ালে লম্পট প্রিন্স চৌধুরী বাপ্পীর ছিল নারী লিপ্সা। সাক্ষাতের প্রথম দিনই চরিতার্থ করলো লালসা। গত রোববার প্রথম দেখার পরই মোহাম্মদপুরে স্কুলের সামনে থেকে তুলে নিলো ওই কিশোরীকে। একটি ছয়তল ভবনের ছাদে তুলে ধর্ষণ করলো। ঘটনার আকস্মিকতা, ধর্ষণের কালিমা ও যন্ত্রণার তীব্রতায় এখনও থেকে থেকে সে সংজ্ঞা হারাচ্ছে। তার বড় দু’ভাইয়ের শিক্ষা জীবনের প্রতিটি স্তরেও চমৎকার ফলাফল। তারা দুজনই এখন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট (সিএ) পড়ছেন। সাবেক ব্যবসায়ী পিতা ও গৃহিণী মায়ের এই সম্ভাবনাময় সাজানো পরিবারের ভবিষ্যৎ আজ কালো ছায়ায় ঢাকা। তাদের সবার বিষণ্ন নির্ঘুম রাত কাটছে ঢামেক হাসপাতালে। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছে প্রিন্স চৌধুরী।
মেয়েটির পিতা বলেন, আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চেষ্টা তিন সন্তানকে মানুষের মতো মানুষ করা। তাই শিক্ষা-দীক্ষায় ভালোভাবেই তাদের বড় করছিলাম। তিনজনই ভালো ফলাফল নিয়েই তাদের শিক্ষা জীবনে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কেবল আমার মেয়ে নয়, পুরো পরিবারকে তছনছ করে দিয়ে গেছে। এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ধাক্কা তো দুঃস্বপ্নের মতোই নির্মম। জানিনা তা কাটিয়ে উঠতে পারবো কিনা। তবে চিকিৎসক জানিয়েছেন যে, এখন মেয়ের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

সূত্রমতে, গত বেশ কিছুদিন ধরেই ফেসবুকে ওই ১৪ বছরের কিশোরীর সঙ্গে প্রিন্সের পরিচয়। এরপর কয়েকদিন ধরে মুঠোফোনে কথা। সে বারবার কিশোরীর কাছে ঠিকানা জানতে চায়। একপর্যায়ে গত শনিবার ওই ছাত্রী তাকে কেবল স্কুলের নামটি বলে। তখনই সে বলে যে স্কুলের সামনে এসে তার সঙ্গে দেখা করবে। তার এমন কথায় ঘাবড়ে যায় সে। বারবার তাকে সাক্ষাৎ না করার জন্য অনুরোধ করে। অনুরোধ করে স্কুলের সামনেও না যাওয়ার জন্য। পরদিন গত রোববার স্কুলের সামনে আসতেই ওই যুবককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে সে। কথা আছে বলেই তাকে তুলে নেয় একটি ব্যাটারি চালিত অটোরিকশায়। তারপর নিয়ে যায় মিরপুরে। যাত্রাপথের একপর্যায়ে সে সাইনবোর্ডে মিরপুর-১ লেখা দেখতে পেয়েছে বলে জানায়। তারপর তুলে নেয় একটি আবাসিক ভবনের ছাদে। সেখানেই তাকে জোর করে ধর্ষণ করে। এরপর দ্রুত সে সেখান থেকে সরে পড়ে বলে জানায় ওই ছাত্রী। এরপর আহত অবস্থায় ওই ছাদ থেকে নেমে একটি রিকশায় উঠে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। কিন্তু পরে তাকে ঢামেক হাসপাতালে নেয়া হয়। খবর পেয়ে ছুটে যান স্বজনরা। প্রথমদিন তাকে সাধারণ ওয়ার্ডে রাখা হয়। সেখান থেকে নেয়া হয় ওসিসিতে। এখন সেখানেই তার পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা চলছে।
নির্যাতিত ওই ছাত্রীর পিতা ছিলেন ব্যবসায়ী। মা গৃহিণী। বাবা-মার চেষ্টায় সন্তানরা ভালো ফলাফল নিয়েই পড়াশুনা করে যাচ্ছে। বড় ভাই সিএ’র শেষ পর্যায়ে রয়েছে। অপর ভাইও সিএ প্রথম পর্ব শেষ করেছে। উচ্চ মাধ্যমিকে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ নিলেও ওই ছাত্রীর একজন বড় আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন ছিল বলেই জানিয়েছে তার বড় ভাই।
তিনি আরো বলেন, ফেসবুকে অল্প কিছুদিনের একআধটু পরিচয়ের পর মোবাইলে কথা বলার সূত্র ধরেই প্রিন্স নামের ওই যুবক বোনের স্কুলে গিয়ে দেখা করে। এরপরই সে এই ঘটনা ঘটায়। আমরা তার বিস্তারিত পরিচয়ও এখন পর্যন্ত জানতে পারিনি। সে ব্যবসা করে বলে শুনেছি। ওসিসি থেকে পুলিশ মামলার প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানানো হয়েছে। এই অপরাধের উপযুক্ত বিচার চাই।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 169 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ