সাতক্ষীরায় নিজের মাকে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে পাষণ্ড ছেলে ও তার স্ত্রী

Print
জিল্লুর রহমান।।বাগআঁচড়া।।
——————————————-
জানু পারভীন বয়স ৭০ বছর এলাকায় তিনি দাদি বলে পরিচিত। প্রতিদিন ভোরে গিয়ে পাড়ার বিভিন্ন ঘরে নামাজের জন্য তিনি সবাইকে ডাকতেন। দরজায় ধাক্কা দিতেন। সেই দাদির ডাকে তাদের ঘুম ভাঙত। সবাই নামাজ পড়তো। এরপর এলাকার সবাই কাজকর্মে বেরিয়ে যেতেন। সেই জানু পারভীনকে তিনমাস ধরে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছে পাষণ্ড ছেলে ও তার স্ত্রী। হৃদয়বিদারক ঘটনাটি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিয়ালডাঙ্গা গ্রামে।
জানু পারভীন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা। তিন মাস ধরে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে শেকল দিয়ে। কান্নাকাটি করলেও মায়ের সেই শেকল খুলে দেন না ছেলে ও তার স্ত্রী।
শিয়ালডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা আমিনুর রহমান জানান, জানু পারভীনের পাঁচ ছেলে ও এক মেয়ে। একমাত্র মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। চার ছেলে বিয়ে করে আলাদা থাকেন। মেজো ছেলে শফিকুল ও তার স্ত্রীর কাছে থাকতেন জানু পারভীন। সেই ছেলে ও ছেলের স্ত্রী তিন মাস ধরে তার পায়ে শেকল বেঁধে রাখছেন। কিছুদিন আগে পারভীনকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠানো হয়। পরে আবার নিয়ে আসেন তার ছেলে। এখন বাড়ির ভেতর নোংরা একটি জায়গায় গাছের সঙ্গে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিন মাস ধরে এভাবেই চলছে বৃদ্ধা জানু পারভীনের জীবন। এখন ছেলে-মায়ের পায়ে শেকল বাঁধার সময় বৃদ্ধা ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। শিশুর মতো কাঁদতে থাকেন। ওই গ্রামের বাসিন্দারা বলেন, এমন অমানবিক দৃশ্য আমরা দেখতে চাই না। এমন পিশাচপুত্রের বিচার হওয়া উচিত। ছেলে শফিকুল ইসলাম জানান, তার মায়ের মাথা খারাপ। মাঝে মাঝে পাগলামি করেন। বাড়ির জিনিসপত্র ভাংচুর করেন। তাই শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। বৃদ্ধার ছেলে শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মাকে বেঁধে না রাখলে পাড়ায় যেয়ে মানুষকে জ্বালাতন করেন।’ শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আবদুল মজিদ বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি ন্যাক্কারজনক। কোনো সন্তান তার মাকে এভাবে নোংরা জায়গায় তিনমাস বেঁধে রাখতে পারে না। আমার এলাকায় এমন ঘটনা আমি প্রশ্রয় দেব না। সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ আহমেদ জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 213 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ