দেশ রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সঙ্কট পড়েছে : মির্জা ফখরুল

Print

গুম, খুন, মিথ্যা মামলা দিয়ে সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে চায় মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দেশ রাজনৈতিক সঙ্কটের সাথে সাংবিধানিক সঙ্কটেও পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই। সেজন্য খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমেই সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করতে হবে। সরকার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বচানকে একটি তামাশায় পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার রোগমুক্তি কামনায় আজ বিকেলে এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন বিএনপির মহাসচিব।

আজ বাদ আসর রাজধানীর গোপীবাগস্থ সাদেক হোসেন কমিউনিটি সেন্টারে সূত্রাপুর-ওয়ারী-গেন্ডারিয়া-বংশাল এবং কোতোয়ালি থানা বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিল হয়।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, অর্থনৈতিক সম্পাদক আবদুস সালাম, ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক কাজী আবু বাশার, সদস্য নবী উল্লাহ নবী, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা আলী রেজাউর রহমান রিপন, ছাত্রদল সভাপতি রাজীব আহসান, ঢাকা দক্ষিণ ছাত্রদল সভাপতি জহির উদ্দিন তুহিন, বর্তমান ওয়ার্ড কমিশনার মকবুল ইসলাম টিপু, এম এ শাহেদ মন্টু, বাদল সরদার, আবদুল কাদির, আনোয়ার পারভেজ বাদল, সাবেক কমিশনার মোশাররফ হোসেন খোকন, মো: মোহন, জয়নাল আবেদিন রতন চেয়ারম্যান, জুম্মন মিয়া চেয়ারম্যান, বাড্ডা থানা বিএনপি নেতা এ জিএম শামসুল হক, মীর হোসেন মীরু, সাইদুর রহমান মিন্টু, মহিলা দল নেত্রী হাসিনা মোর্শেদ কাকলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। দোয়া মাহফিলে সাদেক হোসেন খোকার রোগমুক্তির জন্য মুনাজাত পরিচালনা করেন ওলামা দলের সভাপতি হাফেজ এম এ মালেক। এ ছাড়া সূত্রাপুর, গেন্ডারিয়া, ওয়ারী, কোতয়ালী ও বংশাল থানা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, একদলীয় শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার আদালতের দেয়া রায়ের (বিচারপতিদের অভিশংসন আইন) বিরোধিতা করছে। বিচার বিভাগ যখন তাদের স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য রায় দিচ্ছেন, তখন সরকার তাদের বিরোধিতা করছে। কারণ তারা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা রক্ষা করতে চায় না।

দেশ রাজনৈতিক সঙ্কটের সাথে সাংবিধানিক সঙ্কটেও পড়েছে দাবি তিনি বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার বিকল্প নেই।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সঙ্কট সমাধানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বারবার বলেছেন, আসুন আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করি। কিন্তু তারা (সরকার) কর্ণপাত করছে না। সেজন্য খালেদা জিয়ার আহবানে সাড়া দিয়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতান্ত্রিকভাবে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে এই সরকারকে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে বাধ্য করতে হবে। এজন্য বিএনপির মহানগর শাখাকে আরো সংগঠিত হয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনে অগ্রণী ভুমিকা রাখার আহবান জানান তিনি।

সরকার ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা (সরকার) ইউনিয়ন পরিষদ নির্বচানকে একটি তামাশায় পরিণত করেছে। জনগণ সেখানে ভোট দিতে পারে না। ভোটের আগের দিন রাতের আঁধারেই ভোট হয়ে যায়। সিটি করপোরেশন, উপজেলা নির্বাচনেও একই অবস্থা হয়েছে।

সুষ্ঠু নির্বাচন হলে সরকার জিততে পারবে না জেনে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের কারাগারে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, আজ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের কারাগারে ভরে ফেলা হচ্ছে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যাদের বিরুদ্ধে ২০-২৫টি মামলা নেই। সরকার ভালো করেই জানে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তারা জিততে পারবে না। সেজন্য হত্যা, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা দিয়ে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করে টিকে থাকতে চায়।

সাদেক হোসেন খোকার নামে মামলা দেয়ায় সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে একটার পর একটি মিথ্যা মামলা দিয়েই যাচ্ছে এই সরকার। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে রাজপথে থাকার প্রস্তুতি নিতে হবে।

সাদেক হোসেন খোকাকে লড়াকু নেতা আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল আরো বলেন, তাকে অসুস্থ অবস্থায় নয়, রাজপথে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেবেন সেই অবস্থায় দেখতে চাই। কারণ আমরা তাকে সেই পরিস্থিতিতে দেখতে অভ্যস্ত। তিনি সত্যিকার অর্থেই কর্মীবান্ধব মানুষের এবং গণতন্ত্র ও স্বার্বভৌমত্ব রক্ষার লড়াকু এক নেতা। সাদেক হোসেন খোকার আরোগ্য চেয়ে সবার দোয়া কামনা করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অসুস্থ অবস্থায় মানুষের সহানুভুতি পাওয়ার কথা, কিন্তু আমরা এমন এক অসভ্য সরকারের অধীনে আছি যে, মুত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধেও মামলা হচ্ছে, অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব সাদেক হোসেন খোকার রাজপথে থাকার অতীতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে নেতাকর্মীদের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 45 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ