সাবধান? ফ্রিজে রাখা খাবারও বিষ হয়!

Print
দৈনন্দিন ব্যস্ত জীবনের একটি উপকারী অনুষঙ্গ ফ্রিজ। সুবিধামতো খাবার সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহারের জন্য নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারেও এ ক্ষুদ্র হিমাগারের ঠাঁই হয়। আকারের ভিন্নতা থাকলেও প্রায় সব ঘরেই ফ্রিজ ভর্তি খাবার রাখতে দেখা যায়।

কিন্তু দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরও ফ্রিজে খাবার রাখার বিষয়ে অনেক কিছুই জানেন না আধুনিক গৃহিনীরাও। আর ভুল ব্যবহারের কারণে ফ্রিজে রাখা খাবারও অনেক সময় নষ্ট হয়। শুধু নষ্ট হয়- তা কিন্তু নয়; অনেক সময় নিয়মভঙ্গের কারণে ভালো এবং উপাদেয় খাবারও বিষে পরিণত হয়।

Freeze

ছোট ছোট ভুলের বিষয়ে সাবধান থাকলে বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। অর্থসূচকের আজকের আয়োজনে থাকছে ফ্রিজ ব্যবহারের কিছু টিপস। লিখেছেন তাবাচ্ছুম মেহরীন।

সাধারণত ডিপ ও নরমাল- এ দুই ভাগে বিভক্ত থাকে ফ্রিজ। এর মধ্যে কাঁচা মাংস, মাছ ইত্যাদি ডিপ অংশে এবং সবজি, ফল ইত্যাদি নরমাল অংশে রাখা হয়।

ফ্রিজের নরমাল অংশের ব্যবহার:

১. দরজার একেবারে উপরের তাকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা থাকে। এখানে ডিম রাখার জন্য ট্রে থাকে। অর্থাৎ এ তাকে ডিমই রাখা উচিৎ। অন্য কোনো খাবার এ তাকে রাখা উচিৎ নয়।

২. দরজার দ্বিতীয় তাকে মাখন, চিজ জাতীয় খাবার এবং ইনসুলিন জাতীয় ওষুধ রাখা যায়।

৩. দরজার একেবারে নিচের তাকে ফলের রস, সস, জ্যাম, পানি রাখা যায়। এছাড়া এ তাকে কাচের বয়ামের মধ্যে কাঁচা মরিচ রাখতে তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ভালো থাকে। তবে ৩-৪ দিনের বেশি সময় ফ্রিজে কাঁচা মরিচ সংরক্ষণ করা উচিৎ নয়।

৪. ফল ও সবজি জাতীয় খাবার রাখার জন্য ফ্রিজে ড্রয়ার দেওয়া থাকে। তবে একই ড্রয়ারে একইসঙ্গে ফল ও সবজি রাখা উচিৎ নয়; এতে দুই ধরনের খাবারই নষ্ট হতে পারে। যদি ড্রয়ারে একইসঙ্গে ফল ও সবজি রাখার প্রয়োজন পড়ে, তবে অবশ্যই বায়ুরোধক বক্স বা প্লাস্টিক কন্টেইনার ব্যবহার করা যেতে পারে।

৫. রান্না করা খাবার ফ্রিজের নরমাল অংশের ওপরের তাকে রাখা যাবে। এছাড়া বাটা মসলা ফ্রিজে রাখতে চাইলে তা বক্সভর্তি করে এ তাকেই রাখা যাবে। মিষ্টি জাতীয় খাবার, দই ইত্যাদি সর্বোচ্চ ৩ দিন পর্যন্ত এ তাকে সংরক্ষণ করা যায়।

ফ্রিজের ডিপ অংশের ব্যবহার:

১. সাধারণ কাঁচা মাছ ও মাংস রাখতে ফ্রিজের ডিপ অংশ ব্যবহার করা হয়। কাঁচা মাছ বা মাংসের সঙ্গে অন্য খাবার রাখা ঠিক নয়। এতে খাবার বিষাক্ত হতে পারে।

২. সংরক্ষণ উপযোগী মৌসুমী সবজি সেদ্ধ করার পর বিভিন্ন বক্সভর্তি করে ফ্রিজের এ অংশে রাখা যায়। এতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সবজিগুলোর গুণগত মান ভালো থাকবে। আর মৌসুম শেষে সেগুলো রান্না করে খাওয়া যাবে।

৩. আইসক্রিম ও প্যাকেটজাত রোল, সিঙ্গারা, সমুচা, পিঠা ইত্যাদি খাবার ফ্রিজের ডিপ অংশে রাখা যাবে। তবে ৩ দিনের বেশি সময় এসব খাবার ফ্রিজে রাখার পর খাওয়া হলে তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

৪. দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য টক দই ডিপ ফ্রিজে রাখা যায়।

*** দীর্ঘদিন সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজের ডিপ অংশে দুধ রাখা যায়। তবে খাওয়ার কমপক্ষে এক ঘণ্টা আগে তা বের করে নিতে হবে। আর অল্প সময়ের জন্য ফ্রিজে দুধ রাখতে হবে তা ডিপ অংশে না রেখে নরমাল অংশে রাখতে হবে। এতে দুধের গুণগত মান নষ্ট হয় না।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 148 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ