সার্চ কমিটি যোগ্য ১০ জনের খোঁজ পেয়েছে

Print

নতুন নির্বাচন কমিশন গঠনে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশনার পদের জন্য যোগ্য ১০ জনের খোঁজ পেয়েছে এ লক্ষ্যে গঠিত সার্চ কমিটি। এরই মধ্যে তাদের সততা, দক্ষতা, দল নিরপেক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বিশ্লেষণের কাজ শেষ হয়েছে। ক্লিন ইমেজধারী সেই ব্যক্তিদের নামের তালিকা আজ সোমবার কমিটির পূর্ব নির্ধারিত বৈঠকে চূড়ান্ত করে আজই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের কাছে হস্তান্তর করবেন তারা। ইতিমধ্যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের সময়ও পেয়েছেন তারা। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হবে। বঙ্গভবন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব জয়নাল আবেদীন জানান, সার্চ কমিটির সদস্যরা সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পেয়েছেন। নতুন ইসি গঠনে এই কমিটি যোগ্যদের নামের একটি প্রস্তাবনা রাষ্ট্রপতির হাতে হস্তান্তর করতে পারেন।

নির্বাচন কমিশন গঠনে ২৫ জানুয়ারি বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান করে ৬ সদস্যের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন রাষ্ট্রপতি। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান, সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাদিক, বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য শিরীন আখতার। আগামী ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে ইসি গঠনের জন্য সুপারিশ করা লোকজনের নাম দিতে হবে এই কমিটিকে।
সার্চ কমিটির এক সদস্য জানিয়েছেন, কমিটির আজকের (সোমবার) বৈঠকে সুপারিশ করা লোকজনের নাম চূড়ান্ত হতে পারে। এরপরই সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তারা। ওই সময় রাষ্ট্রপতির কাছে সুপারিশ করা লোকজনের নাম ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সারসংক্ষেপ তুলে দেবেন। তবে সুপারিশকৃতদের সবাইকে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রস্তাবিত নামের ভিত্তিতে তৈরি করা ২০ জনের শর্টলিস্ট থেকেই নেয়া হচ্ছে নাকি এর বাইরে থেকেও যোগ্য কারো নাম এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু বলতে চাননি।
এদিকে সার্চ কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে থাকা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিশিষ্টজনদের পরামর্শ অনুযায়ী কারো চাপে কখনো মাথা নত করবে না, প্রশাসনিক যোগ্যতাসম্পন্ন এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সক্ষমতা রয়েছে এমন ক্লিন ইমেজধারী ব্যক্তিদের নতুন নির্বাচন কমিশনে নিয়োগের জন্যই সুপারিশ করবে সার্চ কমিটি। আজকের বৈঠকে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে সার্চ কমিটি দশজনকে চূড়ান্ত করে রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের নাম সুপারিশ করবে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ একজন প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্যূন পাঁচ সদস্যের নতুন নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেবেন।
এর আগে নির্বাচন কমিশন গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি গঠিত সার্চ কমিটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে পাঁচজন করে নাম দিতে বলেছিলেন। এরপর ২৫টি দল নাম জমা দেয়। সেখানে আসা ১২৫টি নাম থেকে ২০ জনের সংক্ষিপ্ত একটি তালিকা করা হয়। পরে দু’দফা বিশিষ্ট নাগরিকদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের পরামর্শ নেয় সার্চ কমিটি। সর্বশেষ গত বুধবার চার বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে বৈঠক হয়। ওই বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদের অতিরিক্ত সচিব আবদুল ওয়াদুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, যাদের ক্লিন ইমেজ রয়েছে, সমাজের সবাই যাদের ভালো হিসেবে বিবেচনা করে এবং যাদের প্রশাসনিক যোগ্যতা রয়েছে, কাজের দায়িত্ব পালনের জন্য শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা রয়েছে এবং যারা যেন কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করেন এমন লোকদের ইসির জন্য নির্বাচন করতে বিশিষ্টজনরা পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের পরামর্শ অনুযায়ীই যোগ্যদের তালিকা হচ্ছে।
এদিকে নির্বাচন কমিশন জানায়, আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও অন্য কমিশনারদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। শুধু পরে যোগদান করায় নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজের মেয়াদ শেষ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। এ কারণে নিয়মানুযায়ী, বিদায়ের আগের দিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন সিইসি ও অন্য কমিশনাররা।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 79 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ