সালাহউদ্দিনের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা

Print

গুম’ হওয়ার তৃতীয় বার্ষিকীর দিনে শরীরের সুস্থতার জন্য চিকিৎসকের ছুরি-কাঁচির নিচে যাচ্ছেন কক্সবাজারের জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
২০১৪ সালের ১০ মার্চ রাতে বিএনপির মুখপাত্রের দায়িত্বপালন কালীন ঢাকার উত্তরার একটি ভবন থেকে অজ্ঞাত অস্ত্রধারীদের হাতে ‘অপহৃত’ হয়ে ‘গুম’ হয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ।

আর ঠিক তিনবছর পর ২০১৭ সালের ১০ মার্চ ভারতের রাজধানী দিল্লীর সীমান্তবর্তী হরিয়ানা রাজ্যের বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান মেদান্ত স্পেশালাইজড হাসপাতালে কিডনির অপারেশন হচ্ছে এই রাজনীতিবিদের।
সালাহউদ্দিন আহমদের ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে ওই হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের তত্ত্বাবধানে তার কিডনীর অপারেশন হবে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনীজনিত জটিলতায় ভোগছিলেন।
সূত্রগুলো মতে, সালাহউদ্দিন আহমদের কিডনীতে জটিলতা দেখা পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কোমরে ও শরীরে ব্যথা নিয়ে দিন কাটাচ্ছিলেন। পরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে ওই দেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে চলমান মামলায় জামিনে থাকা সালাহউদ্দিন আহমদ আদালতের অনুমতি নিয়ে দিল্লীর ওই বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য গেছেন।
এদিকে এক বিবৃতিতে সালাহউদ্দিন আহমদ তার শরীরে সফল অস্ত্রোপচার ও দ্রুত সুস্থতার জন্য কক্সবাজার জেলাবাসির পাশাপাশি পুরো দেশবাসির দোয়া চেয়েছেন। বিবৃতিতে তিনি আশা করছেন, তার অগণিত ভক্ত, রাজনৈতিক সহকর্মী ও দেশবাসির দোয়ায় মহান আল্লাহ দ্রুত তাকে সুস্থতা দান করবেন।
দিল্লীতে তার সাথে থাকা নিকটাত্মীয় ছফওয়ানুল করিম জানিয়েছেন, শুক্রবার সকালে যে কোনো সময় সালাহউদ্দিন আহমদের কিডনীতে অপারেশন হবে দিল্লীর মেদান্ত হাসপাতালে। তবে ঠিক কয়টায় এই অপারেশন শুরু হবে তা তিনি নিশ্চিত করতে পারেননি।
তিনি জানান, ওই হাসপাতালের একদল বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সালাহউদ্দিন আহমদের শরীরে অস্ত্রোপচারে অংশ নেবেন।
দিল্লীতে থাকা ছফওয়ানুল করিম ও কক্সবাজারে থাকা নুরুল ইসলাম হেলালী জানিয়েছেন, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সালাহউদ্দিন আহমদ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলং থেকে কিডনীর চিকিৎসার জন্য দিল্লী সীমান্তের মেদান্ত হাসপাতালে যান। ওখানে এই ক’দিন শারিরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর অস্ত্রোপচারের জন্য তাকে প্রস্তুত করা হয়েছে।
তারা জানান, ইতিপূর্বেও একই হাসপাতালে সালাহউদ্দিন আহমদের গলায় অস্ত্রোপচার হয়েছিল। প্রায় বছরখানেক আগে অস্ত্রোপচারের সময়ই তাকে কিডনীতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছিলেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের শেষদিকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন উত্তাল, দেশের প্রধানতম বিরোধী দল বিএনপি যখন নিরপেক্ষ তত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে টানা আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল, ঠিক তখন দলটির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন তৎকালিন যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
অজ্ঞাতস্থান থেকে পাঠানো তার বিবৃতি ও ভিডিও বার্তা গুলো যখন দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছিল ঠিক তখন ২০১৪ সালের ১০ মার্চ রাতে ঢাকার উত্তরা এলাকার একটি ভবন থেকে ‘আইন-শৃংখলা বাহিনী’ পরিচয়ে একদল অস্ত্রধারী সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘অপহরণ’ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
সেই থেকে দীর্ঘ একবছর দুইদিন ‘গুম’ থাকার পর ২০১৫ সালের ১২ মার্চ ভারতের পাহাড়ঘেরা রাজ্য মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ে গলফ কোর্স ময়দানে চোখ বাঁধা অবস্থায় সালাহউদ্দিন আহমদকে পাওয়া যায়।
দীর্ঘদিনের ‘গুম’ রাজ্য থেকে ফিরিয়ে দেয়ার পর শিলং গলফ কোর্স ময়দান থেকে একটি সাদা গাড়ী চলে যেতে দেখেছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। এই নিয়ে কখনোই তিনি বিস্তারিত কিছু জানাতে পারেননি। মিডিয়াকে তিনি শুধু এইটুকু জানাতে পেরেছিলেন, অস্ত্রধারীরা তাকে তুলে নেয়ার পর থেকে একটি বদ্ধঘরে আটকে রেখেছিলেন। এক কাপড়ে এক রুমে এক থালায় খাবার দিয়ে তাকে রেখে দেয়া হয়েছিল। অপহরণকারীদের কেউই তার সাথে সেই সময়কালে কোনদিন কথা বলেননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ মিডিয়াকে জানিয়েছিলেন, তাকে যখন ওই রুম থেকে বের করে চোখ বেঁধে গাড়ীতে তোলা হয়েছিল তখন তাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, ‘আমাকে যদি হত্যা করা হয় লাশ যেন গোপন করা না হয়। আমার পরিবারের হাতে তোমরা লাশটি তুলে দিও।’
সেই কথার পরও তাদের কেউ একটি শব্দও সালাহউদ্দিন আহমদের সাথে বলেননি!
শিলংয়ে ছেড়ে দেয়ার পর তিনি যখন উদ্ভ্রান্তের মতো রাস্তার পাশে ঘুরছিলেন তখন ছিল কাক ডাকা ভোর। সেই ভোরে রাস্তায় হাঁটতে বের হওয়া লোকদের জিজ্ঞেস করে সালাহউদ্দিন আহমদ জেনে ছিলেন শহরটি শিলং।
পরে তিনি পুলিশ ষ্টেশনে গিয়ে নিজের পরিচয় তুলে ধরলেও দীর্ঘ একবছরের না কামানো দাঁড়ি গোফের কারণে পুলিশ তাকে পাগল ভেবে মানসিক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকেই ডাক্তারের মাধ্যমে তিনি পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেন। আর সেই সাথে অবসান ঘটে একবছর দুইদিনের ‘গুম’ রাজ্যে হারিয়ে যাওয়ার ইতিহাস।
উল্লেখ্য, সালাহউদ্দিন আহমদ সরকারী চাকুরী থেকে সরাসরি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) হয়েছিলেন। দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর সেই দায়িত্ব পালনের পর তিনি সরকারী চাকুরী ছেড়ে রাজনীতিতে আসেন। রাজনীতিতে আসার পরও তার উত্থান চলতেই থাকে।
তিনি কক্সবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়কের দায়িত্ব নিয়ে আসার পর যেমন রাজনীতিতে উত্থান ঘটে, তেমনি চকরিয়া-পেকুয়া সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচনে অংশ নিয়ে টানা ৩ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই সাথে তিনি সর্বশেষ বিএনপি সরকারের সময়ে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি দলটির যুগ্ন-মহাসচিবও হন। দলে ও দলের নেতৃত্বের কাছে গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরী করে তিনি এখন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির সর্বকনিষ্ট সদস্য হিসাবে যুক্ত হয়েছেন।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 359 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ