সাহস থাকলে প্রতিবাদ করেন, সিদ্ধান্ত আপনার!

Print

আমাদের দেশে বেশিরভাগ যারা জ্ঞান বিতরণের মহান কাজে ন্যস্ত তারা নিজেরাই অশিক্ষিত। অশিক্ষিত ইতর জাতির পড়াশোনা বিমুখ প্রজন্মকে যা বলা হয় তোতাপাখির মতো তাই গিলতে থাকে। এদের কোন বাছ-বিচার, জ্ঞান-বুদ্ধি, মাথা-মগজ পূর্বে ছিলনা, অদ্য নাই, আগামী সাড়ে চার হাজার বছরের মধ্যে পরিবর্তনের কোন সম্ভাবনাও নাই। কারণ এসব যন্ত্রপাতি কোনদিন নিজের ত্বরণ-গতিতে চলে না। তো সেরকমই এক ছাগলের (ছাগল বলার জন্য আক্ষরিক অর্থে যারা ছাগল তাদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী) পাল ‘বৈষম্য’ নামক একখানা অখাদ্য বানিয়ে সুন্দর প্লেটে সাজিয়ে হাগু-মুতুসহ আনুষঙ্গিক বিভিন্ন আবর্জনা দিয়ে মানুষের সামনে পরিবেশন করেছে। আর শোপিসে সাজিয়ে রাখার জন্য তৈরি ‘মাথা’ নামক উত্তম বস্তুটিতে চাপ তৈরি না করে ম্যালনিউট্রিশনে ভোগা মাথামোটার আরেক পাল ‘আরিব্বাশ এদ্দিনে মনের মতো একখান জিনিস পাইসি, এখন শুধু ভিডিও হপে’ বলে নাকের মধ্যে দড়ি বেঁধে ভিডিওতে গিট্টু দিয়ে চোখে ঠসা দিয়ে বোঁ বোঁ করে ঘুরছে।

তারা বলেছে যেসব মেয়েরা প্রকাশ্যে সিগারেট খায় তাদের ভিডিও বানিয়ে ভাইরাল করে দিলে সমাজিক দায়বদ্ধতা ঘুচে জাতিকে পঙ্কিলতার টন টন প্যাক থেকে উদ্ধার করা যায়। তারা আরো বলেছেন কারো মা গ্রাম থেকে এসে একটা মেয়ের সিগারেট খাওয়া দেখে সব মেয়েকে খারাপ ভাববে। সেই পিতলা ঘুঘু আরো বলেছে, বাসে ৯টা সিট মেয়েদের জন্য বরাদ্দ, এটা সমঅধিকারের কথা বলে ছেলেদের কাছ থেকে বাগিয়ে নিয়ে নিজেদের দুর্বল বলে সহমর্মিতা চাওয়া হচ্ছে। সবচেয়ে বড় কথা সে বুঝেছে, মেয়েরা নরমের জাত, শরমের জাত, গ্রীষ্মের লেপের মতো বাক্সের ভেতর পোঁতায়ে পড়ে থাকার জাত।

এবার প্লিজ তাকে কেউ একটু সমঅধিকারের পাঠ দেন। কয়েকদিন আগে আমার শ্যুটিং এর একটা সিগারেটের আলো-জ্বালানো ছবি নিয়ে আর মদের খালি বোতলে সাদা পানিভর্তি ছবি নিয়ে ফেইসবুক তোলপাড় ছিল। তখন আমার কাছের বন্ধুরা আমাকে সীতার মতো বনবাসে দিয়ে নিজেরা তল্পিতল্পা নিয়ে ৫০ তলা বিল্ডিং এর ওপর গিয়ে বসে থেকে, আমি খারাপ তাই আমাকে তারা কেউ চিনেন না টাইপ ভান ধরে ত্যাজ্য করে ইনবক্সে একা একা ঝড় সামলাতে কেমন লাগে প্রশ্ন করে মজা নিয়েছেন। আমি মারাত্মক রকমের ট্রমাটাইজড হয়ে আরো বেশি গুনগুন করে গান গাইতে গাইতে নিজেকে হালকা করেছি। আরো বেশি পড়ায় মন দিয়েছি, বাইরে বসে আড্ডা দেওয়ার পরিমান বাড়িয়েছি, অফিসের কাজে দ্বিগুন এনার্জি ইনভেস্ট করে আরো ভাল আউটকাম নিয়ে এসেছি। তারপর ট্রমা কেটে গেলে, ঘেন্না ক্ষীণ হয়ে এলে রোদ পোহাতে বসেছি।

সমঅধিকারের প্রসঙ্গে যখন আমার এই বন্ধুরা বলত, বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কাজ না করতে তখনই আমি বুঝেছি পরিবর্তন এত সহজ নয়। সমাজ নামের শরীরে যারা মাথা হয়ে বসে আছে তারাই পরিবর্তনগুলো চাপিয়ে রেখে নিম্নবিত্তের অর্জিত অভিজ্ঞতাকে, অশিক্ষাকে সুগারকোটেড এলিট মোড়কে মুড়ে সোনা, রূপা, ডায়মণ্ডের থালায় পাতে তুলে দেয় তখন সেটা ‘বৈষম্য’ নামের শর্টফিল্ম হয়। এই বৈষম্য শুধু ১১.১৫ মিনিটের শর্টফিল্ম নয়, এটা এলিটদের গা বাঁচানো শ্যাম-কূল রক্ষা করে গলা জড়াজড়ি করে থাকার নাম। এরাই মেজোরিটি, এই দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে!

দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা, যা কিনা মুক্তিযুদ্ধের জঠর, ভাষা আন্দোলনের বীজতলা, সেখানে থেকে এই ছাইপাশ বানিয়ে দেশের তাবৎ জনগণকে মেইল শভিনিস্ট বানানোর চেষ্টা করে, মিসোজিনিস্ট হতে উদ্বুদ্ধ করে, নারীকে সামাজিকভাবে নিচের তলার মানুষ ভাবতে শেখায় তখন বুঝতে হবে আমরা কোনদিকে যাচ্ছি। বুঝতে হবে এই জাতির শিক্ষায় কোথাও কোন গণ্ডগোল আছে, বুঝতে হবে এই গণ্ডগোল ক্যান্সারের চেয়েও ভয়াবহ। সিগারেট বদভ্যাস, খারাপ জিনিস এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। স্বাস্থ্য যে একা নারীর আজীবন লিজ নেওয়া, পুরুষের শরীর বলে কিছু নাই, ক্ষতিরও কিছু নাই এমন তো না বিষয়টা। ক্যাম্পেইনটা যদি ছেলে-মেয়ে উভয়কেই স্বাস্থ্যগত ঝুঁকির কথা বলে সচেতনতার উদ্দেশ্যে বানানো হত তাহলে তিন আলিফ টান দিয়ে সালাম দিতাম। কিন্তু নারীর জন্য চূড়ান্ত রকমের অবমাননাকর, অসম্মানজনক, পেশীশক্তির জোর দেখিয়ে দুনিয়া আমার বাপের সম্পত্তিমূলক ভিডিও বানানো হয়েছে তাকে ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করলাম। এই ভিডিও যারা পজিটিভলি নিয়ে প্রচার প্রচারণা চালাবে বলে মনস্থির করেছে বা ইতোমধ্যে পোস্টার টানিয়ে ৬৫ ডেসিবল শব্দ তুলে মাইক নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে তাদের প্রত্যাখ্যান করছি। সর্বোপরি যারা এই ভিডিও লাইক কমেন্ট করে পাসায় তেকে নারীদের নৈতিক জ্ঞান বিতরণ করছে তাদের প্রত্যাখান করছি। কেউ প্লিজ বলেন, সাইবার অপরাধকে হাওড়ের বাঁধ ভাঙ্গা বানের মতো বিস্তৃত করার অপরাধে এই সেক্সিস্ট ছাগলগুলোর কোন শাস্তি হবে না? তারা জানবে না, বাংলাদেশের আইনে কারো ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও অনুমতি ব্যতীত শেয়ার দণ্ডনীয় অপরাধ?

এই ভাবনার মুখে ১০৫টা জুতোর বাড়ি মেরে কাল থেকে মেয়েরা প্রকাশ্যে সিগারেট না খেতে পারলে বুঝতে হবে ভয়াবহতার মাত্রা নিরাময় অযোগ্য। প্রকাশ্যে সিগারেট খাওয়া অপরাধ জানার পরেও ছেলেরা গ্যালন গ্যালন ধোঁয়া ছেড়ে পরিবেশের বারোটা বাজানোকে বৈধ ঘোষণা করে কতিপয় অভ্যস্ত মেয়েদের চিপায় ফেলে শিক্ষা দেওয়ার বিরূদ্ধে অবস্থান নেওয়া হোক। তা নাহলে বুঝতে হবে দোলাদের মতো মেয়েরা ক্যামেরায় ধরা পড়ে হেনস্তা হবার পরোয়া না করে নিজ হয়ে ওঠার যে আন্দোলন করে তার কোন দাম নেই, বুঝতে হবে মেয়েরা সকলেই অগ্নিপরীক্ষা দিয়ে পুরুষতন্ত্রের দক্ষিণ দরজা খুলে নারীবিদ্বেষী একপাল ছাগলের সাথে আততায়ীর মতো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। সাহস থাকলে প্রতিবাদ করেন, সিদ্ধান্ত আপনার! এই ছাগলের পালকে এখনই নিয়ন্ত্রণ না করলে কয়দিন পর দুই পায়ে তালা দিয়ে, ছিটকিনি আটকে বস্তার মতো পড়ে থাকতে হবে। সাহস থাকলে আটকান।

-বীথি সপ্তর্ষির ফেইসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগ্রহকৃত

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 56 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ