‘সিক বয়’ ব্যস্ত ছাত্রলীগ নেতাদের কাজে

Print

আরিফুল ইসলাম আরিফ, জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অসুস্থ শিক্ষার্থীরা সিক বয়দের কাছ থেকে কোনো সেবাই পাচ্ছেন না। কারণ সিক বয়দের ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে ছাত্রলীগের নেতাদের সেবা দেওয়ার জন্য। সুস্থ-সবল ছাত্রলীগ নেতারা সিক বয়দের সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখছেন নিজেদের কাজের জন্য। যার কারণে অসুস্থ শিক্ষার্থীর কাছে যাওয়ার সময়ই পান না তাঁরা।

জাবির প্রতিটি হলে চার থেকে ছয়জন কর্মচারী থাকেন যাদের কাজ অসুস্থ শিক্ষার্থীদের দেখাশোনা করা, চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া, খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দিয়ে সাহায্য করা। বিশ্ববিদ্যালয়ে এরাই ‘সিক বয়’ নামে পরিচিত।

বিভিন্ন হলের ছাত্ররাই এ অভিযোগ করেন। একাধিক হলের একাধিক সিক বয়ের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। এ প্রতিবেদকের অনুসন্ধানে মিলেছে এর সত্যতা। এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের বেশ কয়েকজন সিক বয়ের সঙ্গে কথা হয় এ প্রতিবেদকের।

সরেজমিনে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য একটি ছাত্র হলে গেলে একজন সিক বয়ের সঙ্গে দেখা হয় এ প্রতিবেদকের। তিনি তখন ক্যান্টিন থেকে একজনের জন্য খাবার নিয়ে যাচ্ছিলেন। কার জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, জানতে চাইলে এক ছাত্রলীগ নেতার নাম বলেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ‘সিক বয়’ জানান, ‘বিগত এক সপ্তাহে মাত্র একজন অসুস্থ ছাত্র সেবা করার জন্য আমাকে ডেকেছেন। তবে প্রতিদিনই গড়ে ছয়-সাতজন ছাত্রলীগ নেতা আমাকে বিভিন্ন প্রয়োজনে ডেকেছেন।’

ওই সিক বয় আরো জানান, ‘ছাত্রলীগের সব নেতা এটা করেন না। কয়েকজন নেতা আছেন যারা আমাকে অসুস্থ হওয়া ছাড়া কখনো কোনো কিছুর জন্য ডাকেননি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অন্য হলের এক সিক বয় বলেন, ‘হলে অনেকে ছাত্র অসুস্থ হন। কিন্তু তাঁরা আমাদেরকে ডাকেন না। কারণ নেতাদের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় আর এ কারণে সময়মতো আমরা যেতে পারি না। ফলে বন্ধু-বান্ধবরাই তাদের সেবা করেন।’

ছাত্রলীগ নেতাদের কী কী ধরনের সেবা দিতে হয় জানতে চাইলে একজন সিক বয় জানান, ‘প্রতিবেলার খাবার, সিগারেট, নাশতা, সাবান-শ্যাম্পু এমনকি ব্লেডটাও এনে দিতে হয়। খাবার এনে দেওয়ার পর অনেককে প্যান্টও ধুয়ে দিতে হয়।’

তবে এ নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অসন্তুষ্টি রয়েছে অনেক ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মাঝেও। এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক পর্যায়ের একজন নেতা বলেন, ‘এটা আমাদের জন্য বেশ বিব্রতকর। সাধারণ ছাত্ররা বিষয়টিকে বেশ নেতিবাচকভাবে গ্রহণ করে। তারা আড়ালে আবডালে এ নিয়ে সমালোচনাও করে।’ তিনি বলেন, ‘এটা কোনো নেতার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে পড়ে না। দলের স্বার্থেই নেতাদের ডাইনিং-ক্যান্টিনে গিয়ে খাওয়া উচিত। ওখানে সবাই থাকে, সবার সাথে কথাবার্তা হয়, পরিচয় হয়, গ্রহণযোগ্যতাও বাড়ে।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল বলেন, ‘নেতাকর্মীরা কেউ এ রকম করে কি না এ ব্যাপারে কেউ আমাকে কিছু বলেনি। ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী যদি এমনটা করে থাকে, তাহলে এটা অনৈতিক। ছাত্রলীগের আদর্শের সঙ্গে এটা যায় না।’

শহীদ সালাম বরকত হলের প্রভোস্ট কবিরুল বাশার বলেন, ‘সিক বয় অসুস্থ ছাত্রদের জন্য। অন্যরা তাদের দিয়ে কাজ করালে তা অনৈতিক। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।’

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 67 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ