সিটি স্ক্যান নিয়ে যতো কথা

Print

আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে চিকিৎসাশাস্ত্রেও। রোগ নির্ণয়ের জন্যে এসেছে একের পর এক যন্ত্র। আধুনিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে সিটি স্ক্যান অন্যতম। সিটি স্ক্যান হলো এক ধরনের অনুভেদকারী মেডিক্যাল পরীক্ষা যাকে কখনও কখনও ক্যাট স্ক্যানও বলা হয়। এর মাধ্যমে একজন চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করে থাকেন।  সিটি স্ক্যান বিশেষ এক্স-রে যন্ত্রকে সুবিধাজনকভাবে কম্পিউটারের সঙ্গে সংযোগ ঘটিয়ে শরীরের ভেতরের অংশের বহুমাত্রিক ইমেজ বা ছবি উঠানো হয়। আড়াআড়িভাবে ওঠানো ইমেজগুলো পরীক্ষা করে কম্পিউটারের মনিটরে নেয়া হয় অথবা প্রতিচ্ছবি তৈরি করা হয়।

সিটি স্ক্যানের উপকারিতা :
১. হাড়, নরম টিস্যু ও রক্তনালীর খুব ভালো ছবি একই সময়ে একত্রে ওঠানো সম্ভব।
২. স্বাভাবিক এক্সরের চেয়ে সিটি স্ক্যান অতি সুন্দরভাবে ফুসফুস, হাড় ও নরম টিস্যুর ছবি তুলতে পারে।
৩. সিটি স্ক্যান অতি দ্রুত করা যায় এবং অতি জরুরি রোগীর ক্ষেত্রে সহজেই শরীরের ভেতরের অংশের ক্ষতি নির্ণয় করা যায়।
৪. রোগীর নড়াচড়া, এম. আর. আই -এর চাইতে সিটিস্ক্যানে কম প্রভাব ফলে।
৫. শরীরে ভেতরে প্রতিস্থাপিত অঙ্গ থাকলে যেখানে এম.আর.আই করা যায় না সেখানে সিটি স্ক্যান করা যায়।
৬. সিটি স্ক্যান রিয়েল টাইম ইমেজ দেয় বলে সিটি নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি যেমন : বায়োপসি, সূচ দিয়ে তরল পদার্থ বের করা ইত্যাদি খুবই সহজ।
৭. সিটি স্ক্যানের মাধ্যমে রোগ নির্ণয় সহজ হওয়ায় রোগ নির্ণয়ের জন্যে অনেক সময় অপারেশানের প্রয়োজন পড়ে না।
৮. সিটি স্ক্যানের পর কোনো রেডিয়েশান শরীরে অবস্থান করে না।
৯. সিটি স্ক্যানে যে এক্সরে ব্যবহার করা হয় তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম।
১০. কি ধরণের স্ট্রোক হয়েছে অথবা মাথার আঘাত এর পর অবস্থা নির্ণয়ে সিটি স্ক্যান এর ভুমিকা অপরিসীম।

ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা :
১. বারবার রেডিয়েশানের সম্মুখীন হলে কিছুটা ক্যান্সারের ঝুঁকি আসে। কিন্তু এখানে ঝুঁকির চেয়ে রোগ নির্ণয়ের সাফল্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
২. গর্ভাবস্থায় সিটি স্ক্যান ক্ষতিকর। গর্ভাবস্থায় মায়ের জীবন মারাত্নক ঝুঁকির মধ্যে না পড়লে সাধারণত সিটি স্ক্যান করা হয় না।
৩. যে সমস্ত মায়েরা বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়ান তারা সিটি স্ক্যান করার পর কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
৪. সিটি স্ক্যানে ব্যবহৃত কনট্রাস্ট পদার্থে মারাত্নক এলার্জিক রিএকশান হতে পারে।
৫. শরীরের নরম অংশ যেমন : মস্তিষ্ক, কোমরের ভেতরের অঙ্গসমূহ, কাঁধের হাড়ের জোড়া, হাঁটুর হাড়ের জোড়ার ভেতরের অংশ সিটি স্ক্যানের তুলনায় এম.আর. আই দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যায়।
৬. খুব বড় আকারের মানুষ অথবা অস্বাভাবিক ওজন সম্পন্ন মানুষ সিটিস্ক্যান পরীক্ষার জন্যে উপযুক্ত নয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 88 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ