সুনামগঞ্জে দুই শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনে ব্যাংক ড্রাফট ৩হাজার টাকা

Print

তাহিরপুর(সুনামগঞ্জ)প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জের দুটি উপজেলার দুই শিক্ষা প্রতিষ্টানের প্রধান শিক্ষক ৩হাজার ও সহকারী প্রধান শিক্ষা পদে দেড় হাজার টাকা আবেদনের সাথে ব্যাংক ড্রাফট চাওয়া হয়েছে। যা সরকারী নিয়ম বর্হিভূত কাজ বলে মনে করছেন জেলাবাসী। এছাড়াও বালিজুরী হাজী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় দিলেও শক্তিয়ারখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে নাম সর্বস্ব পত্রিকায় ও এক বারেই সবার অগোচরে। এদিকে প্রধান শিক্ষক পদে আগ্রহী প্রার্থীরা সহ স্থানীয় জনসাধরনের মাঝে ব্যাংক ড্রাফটে এত টাকা নেওয়ার কারনে তুমুল আলোচনা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এই বিষয় সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ কোন কার্যকর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না ক্ষোব প্রকাশ করছে সচেতন মহল। এই বিষয়ে গত ২৮শে আগষ্ট জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্য্যালয়ে লিখিত ভাবে অভিযোগ করেন,বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দক্ষিন বাদাঘাট ইউনিয়নের ললিয়ারপুর গ্রামের মোঃ কামাল মিয়া। বালিজুরী হাজী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যাংক ড্রাফটে এত টাকা নেওয়ায় এ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সিদ্দিকুর রহমান ক্ষোব প্রকাশ করেন এবং আগামী রবিবার লিখিত ভাবে অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানান। স্থানীয় সুত্রে জানাযায়,শক্তিয়ারখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য সবার অজান্তে সহাকারী প্রধান শিক্ষক জাহাঙ্গীর হোসাইন নিজে নিয়োগ পেতে কাউকে না জানিয়ে ও এলাকায় যখন (আগষ্ট মাসের প্রথম সাপ্তাহে) বন্যায় পরিস্থিতি অবনতি ছিল তখন প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞাপন পত্রিকায় প্রকাশ করিয়েছেন। অন্যদিকে বালিজুরী হাজী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় দিলেও এখানেও ব্যাংক ড্রাফটে ৩হাজার টাকা চাওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে ব্যাংক ড্রাফট ৩-২হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্থ হাওরাঞ্চলের বর্তমান অবস্থা বিবেচনা না করে শুধু নিজেদের পকেটে ডুকানোর জন্যই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন আবেদন কারী ও এলাকাবাসী। এ বিষয়ে বালিজুরী হাজী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নূর আলী মেম্বার বলেন,প্রধান শিক্ষক পদে ২হাজার ও সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে দেড় হাজার টাকা আবেদনের সাথে ব্যাংক ড্রাফট দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিটির পরামর্শে নেওয়া হয়েছে। হাজী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া বলেন,ব্যাংক ড্রাফটের বিষয়টি সম্পূর্ন স্কুল কমিটির সিদ্ধান্তেই নেওয়া হয়েছে। শক্তিয়ারখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন,৩হাজার টাকার ব্যাংক ড্রাফটের বিষয়ে আমি চানি না। শক্তিয়ারখলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রজত কান্তি বলেন,নিয়োগ কার্যক্রম ও ব্যাংক ড্রাফটটি কমিটির সিদ্ধান্তেই হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান,এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সিলেট আঞ্চলিক বিদ্যালয় পরির্দশক ও সাবেক সুনামগঞ্জ জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান,৫শত টাকার উপড়ে ব্যাংক ড্রফটের সরকারী কোন নিয়ম নেই। এটা সম্পূন অবৈধ। বালিজুরী এলাহী বক্স উচ্চ বিদ্যালয়ে চরম অনিময় ও দূর্নীতি হচ্ছে। একের পর এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষাকের বিরোদ্ধে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে না পারায় নানান অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ তুলে বিদায় করে দিয়ে আবার নিয়োগ দেয়। পরে যারা নিয়োগ পায় তাদের কাছে ২-৩লাখ টাকা দাবী করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি যার জন্য শিক্ষকগন আর যোগদান করে না। আর বার বার নিয়োগ বিজ্ঞাপন দেয়। এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 111 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি