সুন্দরবন যে কোনো মূল্যে নিরাপদ করব

Print

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, ‘আমরা যে কোনো মূল্যে সুন্দরবন নিরাপদ করতে যাচ্ছি এবং করব। বনদস্যুদের দমন করা আমাদের পক্ষে কোনো ব্যাপারই না। আমরা মনে করি, সুন্দরবন শুধু মৎস্যজীবী বা মধু আহরণকারীদের জন্য নয়। সুন্দরবন হলো পৃথিবীর একটি দর্শনীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এই সুন্দরবনে হাজার হাজার দর্শণার্থী আসে। তাদের নিরাপত্তা দেখার জন্য প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। যারা সুন্দরবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাচ্ছে তাদের সুন্দর জীবনে ফিরে আসতে হবে। তা না হলে তাদের পরিণতি হবে অতি ভয়াবহ।’
রোববার দুপুরে বরিশাল র‌্যাব-৮-এর কার্যালয়ে সুন্দরবনের দস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মো. জাহাঙ্গীর শিকারি তার সহযোগীদের নিয়ে আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিখির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এসব কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর তার ২০ সহযোগীসহ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে অস্ত্র তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা ৩১টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১ হাজার ৫০৭ রাউন্ড গোলাবারুদ জমা দেন।
আত্মসমর্পণকারী জলদস্যুরা হলেন-জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান মো. জাহাঙ্গীর শিকারি (৩৮), শেখ মো. ফরিদ (৩৮), মো. মারুফ শেখ (৪১), মো. আকরাম শেখ (৩৫), মো. মোস্তাহার শেখ (৫০), মো. এরশাদ খান (৩৫), মো. গাজী তরিকুল ইসলাম (৩৫), মো. কামরুল শেখ (২২), মো.কামরুল হাসান (৩৮), মো. হায়দার শেখ (২৯), মো. হারুন শেখ (৫৫), মো. আইয়ুব আলী শেখ (৫২), মো. মাফিকুল গাজী (৩৮), মো. কবির গাজী (৩২), মো. পলাশ হোসেন (৩৫), মো. বাছের শিকদার (২৬), মো. আ. হান্নান সরদার (২৩), মো. মহাসিন মোড়ল (৩৯), মো. ইয়াকুব সরদার (২৯) এবং মো. ইজাজ মোল্লা (৪১)।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুন্দরবনে সক্রিয় থাকা অন্যসব জলদস্যুকেও সরকারের দেওয়া সুবিধা গ্রহণ করে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা যদি জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমন করতে পারি তাহলে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ বদলে যাবে। যেখানে জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ দমনে পৃথিবীর অন্য দেশ হিমশিম খাচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ সফল হচ্ছে। এটা সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর অবস্থানে ও দেশের সচেতন মানুষের জন্য।’
মন্ত্রী বলেন, ‘ইসলাম হলো শান্তির ধর্ম। তবে একটি পক্ষ ইসলামের নামে মানুষ হত্যা করছে। ইসলামে মানুষ হত্যাকারীর কোনো স্থান নেই। যারা এটা করছে তারা ইসলামের প্রকৃত শত্রু। বাংলাদেশের মানুষ জঙ্গিবাদ সমর্থন করে না বলেই আমরা সফল হচ্ছি জঙ্গি দমনে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে র‌্যাবের মহা-পরিচালক বেনজির আহমেদ জলদস্যুদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হয় আত্মসমার্পণ করুন নতুবা প্রচলিত আইনের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে আমরা বাধ্য হবো। এছাড়াও জলদস্যুদের মদদদাতাদের খুঁজে তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরিশাল র‌্যাব-৮-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আনোয়ার উজ জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন র‌্যাব-৬-এর অধিনায়ক খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, নগর পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিন, জেলা প্রশাসক গাজী মো. সাইফুজ্জামান প্রমুখ।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 200 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি