সুপার গতিতে চলছে আ.লীগ

Print

আগামী জাতীয় নির্বাচনে জয়লাভ আওয়ামী লীগের আরেকটি টার্গেট। এ টার্গেটকে সামনে রেখে সংগঠনের সাংগঠনিক জেলাগুলোতে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে দলীয় বিভিন্ন বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। দলের ‘ক্লিন ইমেজ’ বাড়ানোর তাগিদে এসব জেলাগুলোতে সুপার গতিতে কাজ করেও যাচ্ছেন তারা। এছাড়া কৌশলে চলছে দলের বিতর্কিত নেতাদের জরিপ কার্যক্রম।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আওয়ামী লীগের নির্বাচনকেন্দ্রিক কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যেই ক্লিন ইমেজ মনোভাব তৈরি হচ্ছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। পাশাপাশি বিতর্কিত নেতাদের শোধরানোর জন্য এ পদ্ধতি বেশ সাড়া পাচ্ছে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভিশন ২০২১/৪১ বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে দলের দপ্তর সম্পাদক ড. আব্দুস সোবহান গোলাপ বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করা হবে আওয়ামী লীগের আরেকটি টার্গেট।

গোলাপ বলেন, এই নির্বাচনের আগেই দলের নিয়ম ভঙ্গকারী এবং বিতর্কিত নেতাদের শনাক্ত করণের লক্ষ্যে একটি জরিপ কার্য পরিচালনা করা হতে পারে। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হবে তাদের নির্বাচনের আগেই সতর্ক করা হবে। তিনি বলেন, দলে ক্লিন ইমেজ বাড়িয়ে আগামী নির্বাচনে জনগণের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করাই আমাদের মূল লক্ষ্যে। আর এই লক্ষ্যে সুপার গতিতে চলছে আমাদের কার্যক্রম।

একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই আওয়ামী লীগের একটি টিম মাঠে নেমেছে তাদের বিতর্কিত নেতাদের খোঁজ খবরে। দেশের প্রতিটি জেলায় তৃণমূল নেতাকর্মীদের কাছ থেকে তথ্যও নিচ্ছেন। তবে এই টিমে কারা কাজ করছেন এ নিয়ে সঠিক কোনো তথ্য জানা যায়নি। এবিষয়টি নিয়ে দলের নীতি-নির্ধারকরাও কিছু বলতে রাজি নন। তবে দলের ক্লিন ইমেজ নষ্টকারী নেতাদের খুঁজে বের করতে গোয়েন্দাদের তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু দিন আগে থেকেই তথ্য নিতে মাঠে কাজ করছেন তারা।

সূত্রটি জানিয়েছে, দলের সক্ষমতা বাড়ানো। দলীয় সকল কোন্দল মিটিয়ে নেতাকর্মীদের আনুগত্যে আনা এবং সকল নির্বাচনি এলাকায় সাধারণ জনগণের সাথে সুসম্পর্কের মেলবন্ধন করার জন্যই তাদের দিয়ে এই জরিপ কার্যপরিচালনা করছেন আওয়ামী লীগ। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত বছরে দলের ২০তম জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতা পাওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সভা-সেমিনারে দলীয় এসব বিতর্কিত নেতাদের কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে কলহ কোন্দল ঝেড়ে ফেলার নির্দেশ দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা কলহ করবে, কোন্দল করবে, ঘরের মধ্যে আরেক ঘর বানাবে, মশারির মধ্যে আরেক মশারি বানাবে তাদের আওয়ামী লীগ করার প্রয়োজন নেই। ত্যাগী কর্মীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্যাগী কর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। আওয়ামী লীগে নেতাদের চেয়ে কর্মীদের মূল্যায়ন বেশি বাড়ানো দরকার। কেননা কর্মীরাই হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রাণ। অপরদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে টার্গেট করে ইতোমধ্যেই ঘর গোছানোর কাজ পুরোদমে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পরবর্তী নির্বাচনের জন্য এখনও প্রায় দুবছর হাতে থাকলেও নতুন বছরের শুরু থকেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ বিরোধ-কোন্দল মেটাতে সকল প্রকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন ওবায়দুল কাদের। নেতার সঙ্গে কর্মীর, সংসদ সদস্যের সঙ্গে নেতার বিরোধ মিটিয়ে সংগঠন সাজানোর কাজই এখন তার মূল লক্ষ্য। দলীয় নেতা-কর্মীদের চাঙা মেজাজে ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছেন সাংগঠনিক সফরও। যাতে কড়া বার্তাও প্রকাশ পাচ্ছে।

দলীয় সূত্র জানায়, সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগের তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করতে দলীয় সাধারণ সম্পাদককে নির্দেশ দিয়েছেন। টানা আট বছর ক্ষমতায় থাকায় একশ্রেণির নেতাদের কার্যক্রমে সংগঠনে অগোছালো ভাব তৈরি হয়েছে। যা কাটিয়ে উঠতেই তিনি মাঠে নেমেছেন। সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেও মনোযোগ দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের দ্বিতীয় প্রধান নেতা ওবায়দুল। সূত্র মতে, দলীয় প্রতিটি কর্মসূচিতেই ওবায়দুল কাদের আগামী নির্বাচনের দিকে দৃষ্টি দিয়েছেন। নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে ও দলকে ঐক্যবদ্ধ করতে কর্মীদের মূল্যায়নের জন্যই গ্রুপিং কোন্দল নিরসনের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

জানা যায়, প্রতিষ্ঠার ৬৯ বছরে এসে আওয়ামী লীগ এখন আরও সমৃদ্ধ। আর সে কারণেই ইমেজসংকট কাটতে এখন ক্লিন ইমেজ পদ্ধতিতে হাঁটছে দলটি। এই পদ্ধতির কারণে দলের বিভিন্ন কার্যক্রম সুপার গতি পাচ্ছে। আরেকটি সূত্রে জানিয়েছে, আওয়ামী লীগ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল। এখানে কোনো বিতর্কিতদের স্থান হবে না। যারা দুর্নীতি ও দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করাই আওয়ামী লীগের এখন মূল টার্গেট। আর এর জন্য অবশ্যই সাধারণ জনগণের ভালবাসা প্রয়োজন। এ ভালবাসা পেতেই সুপার গতিতে সারাদেশে কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে বিশ্বের সাথে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে দেশের সেবা করতে হবে। হাছান মাহমুদ বলেন, আর সেই লক্ষ্যে আওয়ামী লীগকে বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের মধ্যে যারা বিতর্ক সৃষ্টি করেন অবশ্যই নেত্রী তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন। ইতোমধ্যে তিনি তা দেখিয়েছেন। ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।

-দৈনিক আমার সংবাদ

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 59 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ