সুস্থতার জন্য পটল ও ঝিঙেও কম নয়

Print

1462290637_p-2

পটল বাংলাদেশের একটি অতি পরিচিত ও পুষ্টিকর সবজি। মোটামুটি সব ঋতুতেই পটল পাওয়া যায়। এ সবজির মূল সময় হচ্ছে গ্রীষ্মকাল। বর্তমানে আমাদের দেশে প্রায় বারো মাসেই পাওয়া যায় টপল। পটলের পাতা, কচি ঢাল, দুটোই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। পটলের লতাপাতা এবং পটলের রয়েছে প্রচুর ওষুধি গুণ। আয়ুর্বেদিক মতে পটলের লতাকে পলতা বলা হয়। বিজ্ঞানীরা নাম দেন ট্রাইকো স্রানথোস ডাইওইকা। পটলের সবজি হিসেবে খেতে খুবই সুস্বাদু। পুষ্টি তালিকা : প্রতি ১০০ গ্রাম পটলে রয়েছে-প্রোটিন ২ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৩০ মি.গ্রাম, কার্বোহাইড্রেট ২.২ গ্রাম, ফসফরাস ৪০ মি.গ্রাম, ভিটামিন এ ২৫৫ আইইউ, লৌহ ১.৭ মি.গ্রাম, ফ্যাট ০.৩ গ্রাম, পটাশিয়াম ৮৩ মি.গ্রাম, নিকোটিনিক এডিস ০.৫ মি.গ্রাম, ভিটামিন সি ২০ মি.গ্রাম, আঁশ ৩ গ্রাম। উপকারিতা : * ১০ গ্রাম তেতো পলতে, ১০ গ্রাম ধনে, এক কাপ পানিতে রাতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে এর পানি ছেঁকে মধুর সাথে দিনে তিনবার খেলে কৃমি সেরে যাবে। * কাশি, জ্বর ও রক্তের দোষ ভালো করতে সাহায্য করে। * পটলের রস মাথায় লাগালে মাথায় টাক পড়া বন্ধ হয়। নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। * তেতো পটলের ক্বাথ তৈরি করে মধুর সাথে খেলে পিত্তজ্বর ভালো হয়, তৃষ্ণা নিবারণে অনেক কার্যকরী। শরীরের জ্বালা কমায়। * এলাচি, দারুচিনি ও লবঙ্গের সাথে খাওয়া খুব উপকারী। * পটলের তরকারি হজম শক্তিকে বাড়িয়ে দেয়। সব ধরনের রোগীরা পটল খেতে পারেন। ঝিঙে গ্রীষ্মকালীন সবজির কথা বললেই খাঁজকাটা, লম্বা ও গাঢ় সবুজ বর্ণের যে সবজিটির কথা আমাদের মনে আসে তা ঝিঙে। ঝিঙে হলো গরম ও বর্ষাকালের সবজি হিসেবে পরিচিত। দেখতে একটু লম্বা, গায়ে দৈর্ঘ্য বরাবর খাঁজকাটা দাগ দেখা যায় এবং এর গা হলো খসখসে। ঝিঙে দুই রকমের তেতো ও মিষ্টি। এর বৈজ্ঞানিক নাম : লুকা অ্যাকুটিঙ্গুলা। এর পুষ্টিগুণ : প্রতি ১০০ গ্রাম ঝিঙেতে আছে ০.৫ গ্রাম আমিষ, ৩.৪ গ্রাম শর্করা, ০.৫ মি. গ্রাম আঁশ, ০.১ মি. গ্রাম চর্বি, ১৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ১৮ মি. গ্রাম ক্যালসিয়াম, ২৬ মি. গ্রাম ফসফরাস ০.৩৯ মি. গ্রাম লৌহ, ৩৩ মাইক্রোগ্রাম ক্যারোটিন ও ভিটামিন বি-কমপেক্স। উপকারিতা : * ঝিঙের লতার শিকড় গরুর দুধে বা ঠা-া পানিতে ঘষে সকাল বেলা তিন দিন খেলে পাথুরি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। * তেতো ঝিঙে ও শেস্মা নাশ করে। শূল, গুল্ম ও অর্শ রোগের বিশেষ উপকারী। * তেতো ঝিঙের মধ্যে রয়েছে জোলাপের গুণ অর্থাৎ তেতো ঝিঙে পেট পরিস্কার করে, বমন কমাতে সাহায্য করে। * শুকনো ঝিঙের গুঁড়ো নস্যের মতো করে নাকে ব্যবহার করলে মাথা ব্যথা সেরে যায়। * শোথ বা ফোলার কারণে প্রস্রাব কমে গেলে ঝিঙের রস গরম করে খেলে উপকার পাওয়া যায়। এর পাতার রস বাহ্যিক ব্যবহারে দাদ নিরাময় হয়। * ঝিঙের রং দেখতে পিত্ত রসের মতো। তাই ঝিঙে খেলে পিত্তথলির সমস্যা দূর করে।

 

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 48 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ