সু-স্বাস্থ্যের জন্য মাটির পাত্র

Print
বাংলাদেশ, চীনসহ বিভিন্ন দেশে প্রাচীনকালে মাটির তৈজসপত্রের বহুল ব্যবহার ছিল। গ্রাম কিংবা শহরের প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই থাকতো প্লেট, গ্লাস, সানকি, কলস, পানির জগ ও মগ, চায়ের কাপ, নাস্তার বাটি, মাটির বড় (ভাত বা ঝোল রাখার জন্য) বোল, হাঁড়ি ইত্যাদি। কিন্তু ঐতিহ্যবাহী ওসব পাত্রের ব্যবহার বর্তমানে একেবারে নেই বললেই চলে।
matir jinis pottro

একটা সময় প্রতিটি ঘরে মাটির তৈরি ফুলদানি, বিভিন্ন আকারের ল্যাম্পশেড, দেওয়াল ফলক কিংবা বিখ্যাত মনীষীদের প্রতিকৃতি ইত্যাদি দেখা যেত। সেগুলো আমাদের ঐতিহ্যেরই অংশ। তবে ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানো ওই পণ্যগুলোও এখন আর দেখা যায় না। এর স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক পণ্য। ফলে ঐতিহ্যবাহী মৃৎ শিল্পও প্রায় বিলুপ্তির পথে।

প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে; সেই সঙ্গে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ছে। মূলত মাটির পাত্রের উপকারী দিকগুলো অনেকেই জানেন না বলে এর ব্যবহার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে মানুষ। মাটির তৈরি পাত্রে রান্না, খাবার সংরক্ষণ এবং খাওয়ার জন্য মাটির পাত্র ব্যবহার করলে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমে। মাটির পাত্রে খাবারের পুষ্টিগুণ অটুট থাকে।

matir pattre khanbar

মাটির পাত্রের উপকারিতা:

প্লাস্টিকে বিপিএ- এর মতো কেমিক্যাল রয়েছে; যা অস্বাস্থ্যকর। প্লাস্টিকের বোতলে পানি সংরক্ষণের পর তা পান করলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। অন্যদিকে মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা পানি শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এতে কোনো স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকে না। আবার স্বাদেরও পরিবর্তন হয় না।

গবেষণায় জানা গেছে, প্লাস্টিক পাত্রে সংরক্ষণ করা পানি শরীরের টেস্টোটেরোনের মাত্রা কমিয়ে দেয়। কিন্তু মাটির পাত্রে রাখা পানি টেস্টোটেরোন বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং বিপাক ক্রিয়া শক্তিশালী রাখে।

মাটি ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি পানির পিএইচ লেভেল বজায় রাখে। মাটির পাত্রে অ্যাসিডিক খাবার রান্না করলে এর ক্ষতিকারক উপাদান নিষ্ক্রিয় করে দেয় মাটির ক্ষারীয় উপাদান।

matir pattro 2

মাটির পাত্র শতভাগ প্রাকৃতিক। এতে কোনো বিষাক্ত পদার্থ নেই। মাটির পাত্রে খাবার রাখলে দীর্ঘ সময় ধরে গরম থাকে। খাবারের পুষ্টিগুণও অটুট রাখে মাটির পাত্র।

খাবার পরিবেশনের জন্যও মাটির বাসন বেশ স্বাস্থ্য উপযোগী ও সুন্দর। কারণ অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম, নিকেল এবং ক্রোমিয়ামের মতো ধাতব পাত্রে রান্না করলে খাবার ধাতুর সংস্পর্শে অস্বাস্থ্যকর হয়। কিন্তু মাটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক, তাই মাটির পাত্রে খাবারের পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত থাকে।

রেফ্রিজারেটর হিসেবে কাজ করে মাটির পাত্র। মাটির পাত্র ব্যবহারে খাবার শীতল রাখা যায়। যখন রেফ্রিজারেটর ছিল না, তখন খাবার ভালো রাখতে মাটির পাত্রই ছিল ভরসা।

জেনে নিন খাবার রান্না, সংরক্ষণ ও পরিবেশনে কেন মাটির পাত্র ব্যবহার করবেন-

.অ্যালুমিনিয়াম, টাইটানিয়াম, নিকেল এবং ক্রোমিয়ামের মতো ধাতব পাত্রে রান্না করলে খাবার ধাতুর সংস্পর্শে এসে অস্বাস্থ্যকর হয়ে পড়ে। কিন্তু মাটি পুরোপুরি প্রাকৃতিক, তাই মাটির পাত্রে খাবারের পুষ্টিগুণ অপরিবর্তিত থাকে।

.প্লাস্টিকের বোতলের বদলে পানি সংরক্ষণ করুন মাটির পাত্রে। কারণ প্লাস্টিকের থাকে বিপিএ-এর মতো কেমিক্যাল যা অস্বাস্থ্যকর। মাটির পাত্রে সংরক্ষণ করা পানির স্বাদে কোনও ধরনের পরিবর্তন হয় না।

.কিছু গবেষণার বলে যে, প্লাস্টিক পাত্রে সংরক্ষণ করা পানি শরীরের টেস্টোটেরোন-এর মাত্রা কমিয়ে দেয়। কিন্তু মাটির পাত্রে রাখা পানি টেস্টোটেরোন বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং বিপাক ক্রিয়া শক্তিশালী রাখে।

.মাটি ক্ষারজাতীয় উপাদান। এটি পানির পিএইচ লেভেল বজায় রাখে। এছাড়া অ্যাসিডিক খাবার মাটির পাত্রে রান্না করলে এর ক্ষারীয় প্রকৃতি নিষ্ক্রিয় করে দেয় ক্ষতিকারক উপাদান।

.মাটির পাত্র শতভাগ প্রাকৃতিক। এতে কোনও ধরনের বিষাক্ত পদার্থ নেই। দীর্ঘক্ষণ খাবার গরম রাখতে পারে এটি। পুষ্টিগুণও অটুট থাকে মাটির পাত্রে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 268 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ
error: ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি