সোলার সেল কি? সোলার হোম সিষ্টেম কিভাবে কাজ করে?

Print

সময়ের সবচেয়ে আলোচিত সম্যসার নাম বিদুৎ । বাংলাদেশে বিদুৎ সংকট অনেক পুরাতন সম্যসা। যদিও কুইক রেন্টাল এর নামে সম্প্রতি বেশ কিছু বিদুৎ উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি হয়েছে । তবে তা চাহিদা পুরণ করতে পারেনি। বরং বিদুৎ এর বিল গ্রাহক পর্যায় দ্বিগুন হয়েছে। এখন দেশের মোট ৫৫-৬০% বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছে এবং বাকি ৪০% মানুষ এই সুবিধা হতে বঞ্চিত রয়েছে।
এই অবস্থায় গ্রাম গঞ্জে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সোলার সিষ্টেম। এককালীন কিছু টাকা বিনিয়োগ করলে বিদুৎ বিল ছাড়াই বিদুৎ পেতে পারে গ্রাহক। আসুন তাহলে জেনে নেই সোলার কি?

সোলার সেলঃ 
সোলর সেল অথবা ফটোভলটেইক সেল এমন একটি ডিভাইস যা আলোর শক্তিকে বিদ্যুতিক শক্তিতে রূপান্তর করে। মাঝে মাঝে কোন কোন যন্ত্রপাতিতে সোলার সেল ব্যবহার করা হয় যেন তা সূর্যরশ্মি থেকে এনার্জি ক্যাপচার করতে পারে।
বর্তমান বিশ্বে সোলার পাওয়ার অভাবনীয় সাফল্যের মুখ দেখেছে। যেমন আফ্রিকা, এশিয়া, সাউথ আমেরিকা, ইউনাইটেড স্টেটস ইত্যাদি।
সূর্য প্রতিদিনই আমাদের আলোকরশ্মি দিয়ে যাচ্ছে।
তাই নির্ভার হয়ে ব্যাবহার করা যায় বহুদিন ধরে।
ইতিমধ্যে নদী ভাঙ্গন প্রবন এবং চর এলাকায় সোলার বেশ সফলতা দেখিয়েছে। ক্রমশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

আর এজন্য ইডকল ভূমিকা অনেক। ২০০৩ সাল হতে ইডকল এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ হতে আর্থিক সহোযোগিতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন গ্রামে এনজিওর মাধ্যমে সোলার হোম সিস্টেম কিস্তির মাধ্যমে বিক্রয় হয়ে আসছে।
এই পযন্ত প্রায় ২৪,৩৮,৯৫৭ লক্ষ সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। যা দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ মোট চাহিদার ১% , ধারনা করা হচ্ছে সর্বমোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১০০ মেগা ওয়াট এর কাছকাছি এবং প্রতি মাসে বিক্রয় হচ্ছে ৮০,০০০ সোলার হোম সিস্টেম।

এই খাতে আরা যারা সফলতা দেখিয়েছে, গ্রামীণ শক্তি, ব্র্যাক, আর এস এফ, উবমস ছাড়াও আর ৪০ টি এনজিও ।

সোলার হোম সিষ্টেম কিভাবে কাজ করে?

১। সোলার প্যানেল, ২। চার্জ কন্ট্রোল , ৩। ব্যাটারী, ৪। লাইট , ৫। তার, ৬। এম এস, ৭। অন্যান্য যন্ত্রাংশ।
কোম্পানী গুলো বিক্রয় উত্তর সেবা দিয়ে থাকে। যেমন প্যানেল এর জন্য ২৫ বৎসর ওয়ারেন্টি, ব্যাটারীর জন্য ০৫ বৎসর, চার্জ কন্ট্রোলারের ০ ৩ বৎসর এবং লাইট ০৩ বৎসর।
স্থাপন পক্রিয়াঃ
প্রথমে সোলার প্যানেল একটি ফ্রাম এর উপর ২৩ডিঃ এ্যঙ্গেল এ স্ক্র দিয়ে উত্তর এবং দক্ষিণ মুখী করে লাগাতে হবে। এমন জাগায় বসাতে হবে যেখানে সবসময় সূযেরআলো থাকে। তারপর প্যানেল এর (+) টারমিনাল চার্জ কন্ট্রোল এর + প্রান্তে এবং ( -) টারমিনাল চার্জ কন্ট্রোল এর (-) প্রান্তে লাগাতে হবে। তারপর ব্যাটারি (+) টারমিনাল চার্জ কন্ট্রোল আরেক ( +) প্রান্তে এবং ( -) টারমিনাল চার্জ কন্ট্রোল ( -) লাগাতে হবে। সর্ব শেষ লোডে টার্মিনাল গুলো লাইট এর সহিত সংযোগ করে ব্যবহার করা যায়।

গ্রাহকের চাহিদার ভিত্তিতে বাজারে বিভিন্ন সাইজ এর সোলার হোম সিস্টেম পাওয়া যায়।গ্রাহকের লোড ক্যালকুলেশন করে সিধান্ত নিতে হবে।
সবচেয়ে ভালো হয় কোন ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলীর নিকট হইতে পরামর্শ নিলে।
শুরুর দিকে মূল্য অনেক বেশি ছিলো। তবে এখন মোটামুটি সহনীয় পর্যায় নেমে এসেছে। সরকারের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা পেলে এর সেবার আরো বেশি সংখ্যক মানুষের দোড় গোড়ায় পৌছাতে পারবে এই পরিবেশ বান্ধব পন্যটি।
বাংলাদেশে এখন ৩০ টির ও বেশী সরবরাহ কারী রয়েছে
তবে কিছু ব্যাবসায়ী নিম্নমানের সোলার প্যানেল আমদানি করে, সাধারন গ্রাহকদের কাছে অধিক লাভের আশায় বিক্রি করছে। প্রতারিত হচ্ছে গ্রাহক তাই ভালো সরবরাহকারী থেকে সোলার ক্রয় করতে হবে। যাতে বিক্রয়ত্তর সেবা পাওয়া যায়।
এই খাতে সরকারী সহযোগীতা বাড়ানো উচিৎ। বিশেষ করে অবহেলিত গ্রাম এলাকায় গরিব জনগোষ্টিকে স্বল্প সুদে ব্যাংক লোন দেওয়া উচিৎ। যাতে এই সোলার বিদুতের সুবিধা সবাই গ্রহন করতে পারে। অবশ্য ইতিমধ্যো সরকার নতুন শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে সোলার প্যানেল ব্যাবহার ব্যাধতামূলক করেছে।
এই সেবার জন্য যোগাযোগ করতে পারেন
গ্রামীন শক্তি, ইলেক্ট্রোকম টেকনোলজিস লিঃ,নেক্সট পাওয়ার লিঃ,ফুজিতসু বাংলাদেশ লিমিটেড, ইনোভেটিভ টেকনোলজি, ব্রাইট ইলেক্ট্রিক সেভার টেকনোলজি লিঃ ইত্যাদি।

লিখেছেন,
এম এম ওবায়দুর রহমান (যন্ত্র প্রকৌশলী)

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 197 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ