স্কুলছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক অস্বীকার কুড়িগ্রামে জামায়াত নেতাকে গণধোলাই

Print

সাইফুর রহমান শামীম,কুড়িগ্রাম
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে স্কুলছাত্রীর সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায় জনতার হাতে আটক হয়ে গণধোলাইয়ের স্বীকার হয়েছেন আমির হোসেন (৪৪) নামে এক জামায়াত নেতা। উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মুচলেকা দিয়ে জামায়াত নেতাকে জনতার রোষানল থেকে উদ্ধার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছেন। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সীমান্তবর্তি কৃঞ্চানন্দবকসী গ্রামে। তোলপাড় করা এ ঘটনাটি এখন ফুলবাড়ীতে টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার চর-গোরকমন্ডল গ্রামের মৃত: মফিজ উদ্দিনের পূত্র আমির হোসেন বিবাহিত এবং ৪ সন্তানের জনক। সে কৃঞ্চানন্দবকসী জামে মসজিদের ঈমাম ও চর-গোরকমন্ডল ওয়ার্ডের জামায়াতের সভাপতি। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গ্রামের মহিলাদের সংগঠিত করে পবিত্র কোরআন শরিফ শিক্ষা প্রদানের অন্তরালে দৈহিক সর্ম্পক্য গড়ে তোলে একই এলাকার রমজান আলীর স্কুল পড়–য়া দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে। তিন বছর ধরে সম্পর্ক চলছিল তাদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার প্রেমিক আমির হোসেনকে নিয়ে স্কুলছাত্রীটি পাশর্^বর্তী গ্রামে দুলাভাই সাবুর বাড়িতে বেড়াতে যায়। সেখানে স্কুল ছাত্রীটি প্রেমিক জামায়াত নেতাকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এনিয়ে দুজনের মধ্যে শুরু হয় উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়। এক পর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে আশাপাশের জনতা এসে জামায়াত নেতা আমির হোসেনকে আটক করে গণধোলাই দেয়। মুহুর্তে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে। অবস্থা বেগতিক হলে উপজেলার জামায়াতের সদস্যরা ঘটনাস্থলে সংগঠিত হতে থাকে। পরবর্তিতে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারমান রফিকুল ইসলাম ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান ও অনির উদ্দিন (অন) শতশত মানুষের মাঝে বিচারের আশ্বাস প্রদানের মুচলেকা দিয়ে জিম্মায় নিয়ে আসেন জামায়াত নেতাকে। স্কুলছাত্রীটিকে চর-গোরকমন্ডল ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য হাবিবুরের মাধ্যমে পরিবারের কাছে তুলে দেয়া হয়।
ঘটনার শিকার স্কুলছাত্রীটি জানায়, নিজের সংসারে অশান্তির কথা বলে আমার সাথে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে আমির ভাই। বিয়ের আশ^াস দিয়ে তিন বছর ধরে চলে চুপিচুপি বিবাহিত সম্পর্ক। ওকে বিয়ে না করলে আমি আত্মহত্যা করবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, যেহেতু আমি তাকে জিম্মায় নিয়ে এসেছি, অবশ্যই এ অনৈতিক কাজের বিচার করা হবে।
এ বিষয়ে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার ফুয়াদ রুহানী জানান, অভিযোগ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 150 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ