স্কুলে আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত

Print

গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুন্দেরপাড়া গণ-উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আগুন পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মজিবর রহমান। আগুনে ভস্মীভূত স্কুল পরিদর্শন শেষে রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।এসআই মজিবর রহমান বলেন, ‘আগুন লাগানোর কৌশল দেখে মনে হয় পরিকল্পিতভাবে দক্ষতার সঙ্গে দাহ্য পদার্থ দিয়ে বিদ্যালয়টি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ দাহ্য পদার্থ না থাকলে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ভবন পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ার কথা নয়, আর বিদ্যালয়ে তো সচরাচর দাহ্য পদার্থ থাকে না।’
এদিকে বিদ্যালয়টি পুড়ে গেলেও মনোবল নষ্ট হয়নি শিক্ষার্থীদের। তারা বিদ্যালয় সংলগ্ন বন্যা আশ্রয় কেন্দ্রের মাঠে খোলা আকাশের নিচে চট বিছিয়ে লেখাপড়া করছে।

স্কুল পরিদর্শন শেষে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ঘটনায় কাউকে আটক করার আগে অগ্নিকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ঘটনার তদন্তে পাশের চরের পারদিয়ারায় নতুন বিদ্যালয় স্থাপন ও জামায়াত-শিবির গোষ্ঠীকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশের ধারণা, শীঘ্রই দুর্বৃত্তরা ধরা পড়বে এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।’
বিদ্যালয়ের একাডেমি ভবন পুড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে শুক্রবার ভোর থেকেই বিদ্যালয়ের কয়েকশ ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বিদ্যালয় পুড়ছে দেখে অনেক শিক্ষার্থী কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জেলা শহর থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা এসে তাদের সান্ত্বনা দেন। বেলা ১টা পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কাগজপত্রে আগুন জ্বলছিল। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন।
সূত্র জানায়, দুর্গম চরাঞ্চলে মানুষ শিক্ষার আলো থেকে পিছিয়ে পড়ায় সেখানে গণ-উন্নয়ন কেন্দ্রের সহায়তায় ২০১৩ সালে এ বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে এই গণ-উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে আশীর্বাদ বয়ে আনছিল। বিদ্যালয়টিতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ৬শ ছাত্র/ছাত্রী লেখাপড়া করত। তবে বিদ্যালয়টি স্থাপন থেকেই একটি মহল মেয়েদের শিক্ষার বিপক্ষে ছিল। আগুনের বিষয়টি তাদের ষড়যন্ত্র হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে কুন্দেরপাড়া গণ উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আগুন পুড়ে যাবার ঘটনায় ফুঁসে উঠছে এলাকাবাসী। তারা এ অগ্নিকাণ্ডের প্রতিবাদে গাইবান্ধা জেলা সদরে রোববার দুপুরের দিকে মুখে কালো কাপড় বেধে মানববন্ধন করে। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেয়।
অপরদিকে, গণ-উন্নয়ন একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অজ্ঞাত পরিচয়ে দুর্বৃত্তদের আসামি করা হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক জানান, দুর্বৃত্তরা দাহ্য পদার্থ দিয়ে বিদ্যালয়টি পুড়িয়ে দিয়েছে। আগুনে স্কুলের ১০টি শ্রেণিকক্ষ, আসবাবপত্র, শিক্ষা সরঞ্জাম, শিক্ষার্থীদের ১৩ বছরের অন্তত ২০ হাজার স্কুল সার্টিফিকেট ও একটি এনজিওর অফিস ভস্মীভূত হয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান জানান, সাধারণ মানুষসহ পারদিয়ারায় নতুন স্কুল স্থাপনের বিষয়টি অভিযোগ আকারে বার বার আসছে। এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জামায়াত শিবির জঙ্গি গোষ্ঠীর তৎপরতার বিষয়টিও আমলে নিয়ে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ওসি আরো জানান, পরিকল্পিতভাবে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না সেটা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ কাজে কি কি বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়েছে- তা রাজশাহী থেকে একটি বিশেষ টিম পরীক্ষা করে দেখছে। তাদের পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর সব জানা যাবে।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 116 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ