স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণ, মামলা হলো অপহরণের!

Print

যশোরের মণিরামপুরে পুলিশ সদস্যের ছেলের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণী পড়ুয়া এক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ধর্ষণের চিত্র মোবাইলে ধারণ করে ছড়িয়ে দেওয়ায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই ঘটনায় ধর্ষণের মামলার পরিবর্তে অপহরণ মামলা নেওয়া হয়েছে। গত ২৯ জানুয়ারি মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে এ ঘটনা ঘটে। আর মামলা হয়েছে ৭ ফেব্রুয়ারি। ভিকটিমের পরিবার ন্যায় বিচার বঞ্চিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করছে মানবাধিকার সংগঠন।
স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের প্রতিবাদে সোমবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা বাস্তবায়ন সংস্থার যশোর জেলা শাখার উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। এতে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ লাল্টু, সহ-সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, এনজিও কর্মী শাহজাহান নান্নু, অ্যাড. তাহমিদ আকাশ, শিখা বিশ্বাস, শান্ত খান, বিথিকা হালদার প্রমুখ।

ভিকটিমের পরিবারের ভাষ্য, গত ২৯ জানুয়ারি পুলিশ সদস্য উপজেলার হানুয়ার গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে রুমান, মনোহরপুর গ্রামের আজিজুর রহমানের ছেলে রয়েল ও একই গ্রামের মোর্শেদের ছেলে রুবেল স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে নলতা (হাকিমপুর) গ্রামের জনৈক কবিরাজ সাখাওয়াতের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণ করে। এসময় রুমান ও তার ২ সহযোগী রুবেল ও রয়েল মারপিট করে। এক পর্যায়ে স্কুল ছাত্রী অচেতন হয়ে পড়লে তারা তাকে ফেলে চলে যায়।
পরে স্থানীয় মেম্বর মিজানুর রহমান তাকে উদ্ধার করে রাজগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই আয়েরউদ্দিনকে খবর দেয়। পুলিশ তাকে বাড়ি পৌঁছে দেয়। এরপর বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের বিষয়টি জানায়। পরিবারের লোকজন মামলা করতে থানায় যায়। ঘটনাটি তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইনদ্দিনকে নির্দেশ দেন মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ (ওসি)।
এসআই আইনদ্দিন অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার ষড়যন্ত্র করছে। তার চাপে শেষ পর্যন্ত গত ৭ ফেব্রুয়ারি অভিযুক্ত তিনজনকে আসামি করে অপহরণ মামলা করা হয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় একটি মানবাধিকার সংস্থা ভিকটিমের পরিবারের সহায়তায় এগিয়ে আসে। সংস্থাটি ধর্ষণের মামলা করাতে তাকে নিয়ে থানায় যায়। এসময় ভিডিও ফুটেজ দেখে মনিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বিপ্লব কুমার নাথ ভিকটিমকে হেফাজতে নিয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠান। ওইদিন আদালতে ভিকটিমের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এসময় আদালত ২২ ধারায় তার ওপর পাশবিক নির্যাতনের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
এব্যাপারে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মনিরামপুরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আইনুদ্দিন বলেন, এজাহারে ধর্ষণের কথা লেখা ছিল না। এজাহারের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড হয়েছে। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তবে পরে মেয়েটি জানিয়েছে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে। এরপর তাকে হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাদী পক্ষের কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়।

প্রতি মুহুর্তের সর্বশেষ খবর পেতে এখানে ক্লিক করে আমাদের ফেইসবুক পেইজে লাইক দিন

(লেখাটি পড়া হয়েছে 56 বার)


Print
এই পাতার আরও সংবাদ